Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হেফাজতের অবরোধ- চিড়া, মুড়ি তসবিহ নিয়ে আসার আহ্বান আল্লামা শফীর

হেফাজতে ইসলামের বহুল আলোচিত অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। আজ ভোর ৬টা থেকে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হবে। বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে রাজধানীকে- এমন ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। আগের দিন (গতকাল) ১৮ দলীয় মহাসমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়ার পর আজকের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে গুজব-গুঞ্জনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ কর্মসূচিতে কি হবে তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে সর্বত্র। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম অবরোধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী ওলামা লীগসহ কিছু সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। সাভার ট্র্যাজেডির মানবিক কারণে কর্মসূচি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। তবে এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে হেফাজতে ইসলাম। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সংগঠনটির ১৩ দফা দাবি পূরণের স্পষ্ট কোন ঘোষণা নেই। বরং বিভ্রান্তিমূলক ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ পর্যায়ে গণভবন থেকে শুরু করে গ্রামের নিভৃত পল্লী পর্যন্ত এখন সর্বাধিক আলোচনা হেফাজত ইসলাম ও অবরোধকে নিয়ে। ৬ই এপ্রিল শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত এ অবরোধ কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সারা দেশে শানে রেসালাত সম্মেলন করেছে তারা। শেষ প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। রাজধানীর চারটি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। সংগঠনটির আমীর ৯৩ বছর বয়স্ক আল্লামা আহমদ শফীসহ শীর্ষ নেতারা দু’দিন আগেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। নিয়েছেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। গতকাল সকালে লালবাগে সংবাদ সম্মেলন করে এর বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তারা। এ পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হেফাজত নেতাকর্মীরা ঢাকা অভিমুখে রওনা হয়েছেন। কেউ কেউ পৌঁছে গেছেন। সব মিলিয়ে অবরোধ জ্বরে কাঁপছে দেশ। কাঁপছে জনগণ। এদিকে হেফাজতে ইসলামের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। পুলিশের আশঙ্কা জামায়াত-শিবির হেফাজতের মধ্যে ঢুকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করবে। গতকাল সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে হেফাজত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকেও পুলিশ কর্মকর্তারা এ আশঙ্কার কথা উল্লখ করেছেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনভাবেই রাজধানীতে হেফাজত নেতাকর্মীদের মিছিল বা সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। তিনি জানান, পুলিশ এ ধরনের কোন অনুমতি দেয়নি। বরং, নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর অ্যাকশনে যাবে পুলিশ। এদিকে নানা আশঙ্কা থেকে গতকাল বিকালের পর র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিও শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যা থেকে অজানা শঙ্কায় রাজধানীতে লোকজন ও যান চলাচল কমে যায়। বাইরে কোন কাজ না থাকলে কেউই সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হয়নি। যানবাহন কমে যাওয়ায় ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, হেফাজত নেতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করবে- এর বাইরে অন্য কিছু করা যাবে না। আইন ভঙ্গ করে কেউ জনগণের জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করলে পুলিশ কঠোর হাতে তা দমন করবে। তিনি বলেন, হেফাজত নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে তারা যেন কোন ধরনের গুজবে কান না দেন। স্বার্থান্বেষী মহল তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে না পারে। আইনের ব্যত্যয় ঘটালে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ডিএমপির এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হেফাজতের কর্মসূচিকে ঘিরে নাশকতার জন্য আগে থেকেই জামায়াত-শিবির কর্মীরা লাঠিসোটা জড়ো করেছে। গতকাল বিকালে ফকিরাপুল থেকে গজারি লাঠি বোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করেছে পুলিশ। একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, হেফাজত নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এখন রাজধানীতে অবস্থান করছে। তারা আজ দুপুরের দিকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় সমাবেশের চেষ্টা করবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের এ ধরনের কোন সুযোগই দেবে না। রাজধানীতে প্রবেশের ৫টি পথে তাদের সভা-সমাবেশ করতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, হেফাজত নেতাকর্মীরা পুলিশের বেঁধে দেয়া ৫টি পয়েন্ট নয়, ১১টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ করার চেষ্টা করবে। পয়েন্টগুলো হচ্ছে- রাজধানী ঢাকার শহরতলি কাঁচপুর, সাইনবোর্ড, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সদরঘাট, পোস্তগোলা ব্রিজ, বাবুবাজার ব্রিজ, গাবতলী, আমিনবাজার, টঙ্গী, গাজীপুর চৌরাস্তা। অবরোধের প্রথমে ঢাকা থেকে তুলনামূলক কম দূরত্বের জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবে। কর্মসূচির ব্যাপারে ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ওদিকে বিভিন্ন প্রচারণায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে- কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় সঙ্গে জায়নামাজ, তসবিহ, কালেমা খচিত পতাকা, শুকনা খাবার, পানি ইত্যাদি রাখতে।
পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, জামায়াত নেতারা হেফাজতের নেতাকর্মীদের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি দিতে প্রলুব্ধ করছেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর হেফাজতের নেতাকর্মীরা অবরোধ ছেড়ে না গেলে তাদের পুলিশ উঠিয়ে দেবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, জামায়াত-শিবিরের ওই গ্রুপটি দেশের পরিস্থিতি অশান্ত করতে বড় ধরনের ঝামেলা পাকাতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চিহ্নিত স্থান ও ব্যক্তিকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে কওমি মাদরসাগুলোতে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকার দিকে আসতে শুরু করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে তারা ঢাকায় জড়ো হচ্ছেন বলে জানা গেছে। আজ সকাল ৬টা থেকে প্রবেশপথগুলোতে অবস্থান নেবেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। ডিবি পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, কাউকে কোন ফৌজদারি অপরাধ করতে দেয়া হবে না। অবরোধ কর্মসূচিতে কত লোক হবে সে বিষয়ে আমাদের একটি হিসাব রয়েছে। আশা করছি পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোন পদক্ষেপ নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
১৩ দফার অপব্যাখ্যা করেছেন
প্রধানমন্ত্রী: আল্লামা শফী
হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপব্যাখ্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের আমীর আল্লামা আহমদ শফী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ১৩ দফা বাস্তবায়নের কোন আশ্বাস আমরা পাইনি। বরং, তিনি এ ১৩ দফার অপব্যাখ্যা করে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন। গতকাল লালবাগ মাদরাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আল্লামা শফী এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ। আল্লামা শফী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধোঁকার আশ্রয় না নিয়ে অবিলম্বে ১৩ দফা মেনে নিন।  এর বিকল্প কিছু ভাবলে সরকারকে চরম খেসারত দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করে দেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৬ই এপ্রিল লংমার্চ পরবর্তী মতিঝিল শাপলা চত্বরে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ মহসমাবেশ থেকে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৫ই মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচি সফলের সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখো নবীপ্রেমিক মুসল্লি ঢাকা এসে পৌঁছে গেছেন। আরও লাখ লাখ তৌহিদি জনতা ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন বলে আমাদের কাছে সংবাদ রয়েছে। সরকার ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের হাজারো বাধা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে যে ঈমানদীপ্ত কাফেলা ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছেন- একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তাদের আর কেউ রুখে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি আমাদের আন্দোলন অহিংস, অসহিংস। আমরা শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। জ্বালাও পোড়াও, হিংসা-হানাহানিতে আমরা বিশ্বাসী নই। বিগত সময়ের সব কয়টি কর্মসূচি বিশেষত ৬ই এপ্রিল লংমার্চ পরবর্তী মহাসমাবেশে আমরা তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দেখিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সরকার আমাদের কর্মসূচিগুলো বাধাগ্রস্ত ও বানচাল করার জন্য বিভিন্ন উপায়ে হরতাল, অবরোধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করার অপচেষ্টা করেও তা সফলে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আল্লামা শফী বলেন, আমরা সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই ১৩ দফা মেনে নিন। ভয়ভীতির মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূল প্রেমিকদের দমানো যাবে না। যে কোন মূল্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি সফল করা হবেই ইনশাআল্লাহ। আমরা সারাদেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাতে তসবিহ, জায়নামাজ, মিসওয়াক ও শুকনো খাবার নিয়ে ফজরের সময় ঢাকার সব কয়টি প্রবেশপথে শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ময়দানে নেমে আসার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। হেফাজত আমীর বলেন, মনে রাখতে হবে, আমাদের ১৩ দফার এ আন্দোলন নিরেট একটি ঈমানি আন্দোলন। কাউকে ক্ষমতা থেকে হটানো বা কাউকে ক্ষমতায় বসানো আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য নয়। ক্ষমতাকেন্দ্রিক কোন রাজনৈতিক অভিলাষ আমাদের নেই। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে বা দেশের বাইরে কোন মহলকে শত্রু কিংবা মিত্র হিসেবে সাব্যস্ত করতে চাই না। দেশের নিয়মতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ন রাখা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে আমরা কেবলই আমাদের ঈমান ও ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নে অটল ও অবিচল থাকতে চাই। তাই আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধর্মপ্রাণ দেশপ্রেমিক কোটি মুসল্লিকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের ময়দানে অবস্থান করছি। আল্লামা শফী বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য কোন মত ও দিক-নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। বরং, বিভিন্ন বিষয়ে তার বক্তব্যে স্ববিরোধী ভুল ব্যাখ্যা ও পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাই ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। সে কারণেই আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ওপর ভরসা রেখে হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত  ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি যথারীতি বহাল রাখার প্রত্যয় ঘোষণা করছি। আমরা ধর্মপ্রাণ দেশপ্রেমিক মানুষকে কোনরকম বিভ্রান্তির শিকার না হয়ে পূর্ণ উদ্যম ও প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সাভারের মর্মান্তিক ঘটনায় উদ্ধার কাজ, রক্তদান কর্মসূচি, নগদ অর্থ প্রদান ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করেছি। মানবিক বিবেচনায় আমাদের এ তৎপরতা সবসময় অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সুতরাং সাভার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত লাশবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত সর্বপ্রকার যানবাহন, দেশী-বিদেশী পরিদর্শকদের গাড়িসহ এ জাতীয় সবরকম যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। আমাদের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কাছে এ নির্দেশ পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে। মানবিক এসব দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে তাদের যানবাহনে স্টিকার ব্যবহারের অনুরোধ করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাভার ট্র্যাজেডি সংশ্লিষ্ট মানবিক বিবেচনাসহ হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফার বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। তার বক্তব্যে ১৩ দফা মেনে নেয়ার কোন রকম সিদ্ধান্ত ও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বরং, এসব দাবির বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর কথা ও হেফাজতের ইসলামকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যই উঠে এসেছে। এতে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের মতো কোন রকম উপাদান নেই বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্ববিরোধিতার বহু নজির ফুটে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার হেফাজতের ১৩ দফা ‘সংবিধানবিরোধী’ ও ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলার পরও তিনি বিভিন্ন দফার পয়েন্ট উল্লেখ করে সেসব দফার পক্ষে প্রচলিত আইনে কি কি ধারা-উপধারা রয়েছে তা-ও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ভুল ও অসত্য ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে দফাগুলোর অযৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ ভোর ৬টা থেকে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেবেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর বাইরে থেকে কোন পরিবহন ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে না। তবে রাজধানীর ভেতরে পরিবহন চলতে তারা কোন বাধা দেবেন না। এছাড়া সাভারের ভবন ধসের ঘটনায় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সব গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
‘মুড়ি, চিঁড়া, তসবিহ্‌ নিয়ে
সমাবেশে আসবেন’
মহিউদ্দীন জুয়েল, চট্টগ্রাম থেকে জানান, ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মুড়ি, চিঁড়া আর তসবিহ্‌ নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী। বলেছেন, দেশের অবস্থা ভাল নয়। কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না। তাই পরিস্থিতি হয়তো সবাইকে দীর্ঘদিন রাজপথে রাখতে পারে। তাছাড়া ফজরের নামাজের পর থেকে কর্মসূচি চলবে রাত পর্যন্ত। প্রস্তুতি নিতে হবে জোরেশোরে।
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলের শীর্ষ নেতাদের ফোন করেন তিনি। এই সময় আহমদ শফী ৩০টি জেলার ছোট-বড় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে জরুরি কথা সারেন। তিনি তাদের যে কোন কাজ দলবদ্ধভাবে করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সব ধরনের বাধা প্রতিহত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
হেফাজতে ইসলামের হাটহাজারী মাদরাসার কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মানবজমিনকে জানান, লংমার্চে বাধা পাওয়ার কারণে এবারের কর্মসূচি বেশ গুরুত্ব বহন করছে। তাছাড়া আল্লামা শফী নিজেই এবারের বিষয়টি দেখভাল করছেন। গতবার অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। অবরোধ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে গত দু’দিন ধরে নিজেই সবার সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন আহমদ শফী। এই বিষয়ে তার সঙ্গে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপি’র কথা হয়েছে। তিনি সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের  উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহার করে গণ-আকাঙক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ মনোযোগী হওয়ার অনুরোধ করেন।
শুক্রবার চট্টগ্রাম ছাড়ার আগে অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ঢাকা অভিমুখে রওনা হওয়ার প্রাক্কালে তিনি  বেশ কয়েকজন নেতাকে অবরোধ কর্মসূচিতে নজর রাখার কথা জানান। এরা হলেন- হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ শামসুল আলম, মহাসচিব হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুফতি জসীম উদ্দীন, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আনাস মাদানী, হেফাজতে ইসলামের প্রচার সচিব মাওলানা মুনির আহমদ, হেফাজত আমীরের পিএস মাওলানা শফিউল আলম প্রমুখ।
আল্লামা আহমদ শফীর ঘনিষ্ঠ দু’টি সূত্র জানান, বিগত ৩ মাস ধরেই বক্তৃতা-বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন, জনসমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রধান দাবি ছিল  সংবিধানে আল্লাহ্‌র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইন পাস। পাশাপাশি ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন ব্লগ ও সাইটে মহান আল্লাহ্‌, রাসূল (সাঃ), ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেসব অবমাননাকর জঘন্য কটূক্তিকর প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে, সেসব বন্ধ করে বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। পাঠ্যবইয়ের সকল ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য ও উদ্ধৃতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে অবিলম্বে সংশোধনী প্রকাশ। নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া সকল অনাচার, ব্যভিচার ও অশ্লীলতাসহ নাটক-সিনেমায় ব্যক্তিজীবনে ধর্মীয় নিদর্শন তথা দাড়ি-টুপি, হিজাব ও ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে অবমাননা রোধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দান। শিক্ষার সকল স্তরে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা ইত্যাদি।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক বলেন, ‘আমাদের সকল দাবিই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সরকার দেশ, জনগণ ও মুসলমানদের স্বার্থে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিলেই চলমান আন্দোলনের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়।’
চট্টগ্রামের হেফাজত নেতারা জানান, বিগত ৬ই এপ্রিল ঢাকায় লংমার্চ ও মহাসমাবেশে লাখ লাখ জনতার অংশগ্রহণ ছাড়াও গত এক মাসে দেশব্যাপী অর্ধশতাধিক শানে রেসালত সম্মেলনে ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবির বিষয়ে বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। কিন্তু সরকার কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের এই দাবি পূরণে ন্যূনতম পদক্ষেপ তো নেয়নি, বরং সরকারের কোন কোন মন্ত্রী-এমপি’র কাছ থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্যও দেয়া হচ্ছে। যা নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক।
শাহ্‌ আহমদ শফী ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ৫ই মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে সর্বাত্মকভাবে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, ঈমানী দাবি আদায়ের জন্য ৯৩ বছর বয়সে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আমাকে রাজপথে বের হতে হচ্ছে। আপনারা সকলেও শান্তিপূর্ণ এই ঈমানী আন্দোলনে শরিক হবেন বলে আমি আশাবাদী।
আহমদ শফী সাভারের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্ট শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, হতাহত ও চরম দুর্ভোগের শিকার মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার পূরণে গাফিলতি করবেন না। গার্মেন্ট কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য বেতন-ভাতার দাবিও আমরা ১৩ দফায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। ইসলামে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দিকটা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার ওলামা-মাশায়েখসহ সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় দাবির প্রতি যেমন কর্ণপাত করছে না, তেমনি খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের স্বার্থ নিয়ে মোটেও ভাবছে না।’
তিনি এ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে একটি তহবিল গঠনের কথা জানান।
হেফাজতে ইসলামের প্রচার সচিব মাওলানা মুনির আহমদ বলেন, ‘ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১লা মে থেকেই লোকজন ঢাকা যাওয়া শুরু করেছেন। আজ (গতকাল) সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা থেকে প্রায় ৪০০ গাড়ি ঢাকা পৌঁছেছে। তারা ঢাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্‌রাসা, বাসাবাড়িতে অবস্থান করছেন। চট্টগ্রাম থেকে মূল গাড়ি বহর শনিবার দুপুরে জমিয়তুল ফালাহ্‌ ইসলামী চত্বর থেকে রওনা হবে।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে ঢাকা অভিমুখী কাফেলায় পুলিশি হয়রানি ও ক্ষমতাসীন দলের হামলার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের কাছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খবর আসছে যে, ঢাকা অভিমুখী তৌহিদী জনতাকে বাসের টিকেট নিতে বাধা দেয়া হচ্ছে, পুলিশ বিভিন্ন মাদ্‌রাসায় গিয়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, গাড়ি মালিকরা বাস ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করে শাসক দলের হুমকির কথা জানাচ্ছেন।’
এক প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা মুনির আহমদ জানান, ঢাকার চারপাশে মোট ছয়টি স্থানে অবরোধের প্রস্তুতি নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর সেতু, যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরা সেতু, পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু, পুরান ঢাকার বাবুবাজার সেতু, আবদুল্লাহপুর-টঙ্গী ব্রিজ ও আমিনবাজারের বলিয়ারপুর, ঢাকায় প্রবেশমুখের এ ছয়টি জায়গায় অবরোধ কর্মসূচি চলবে।

হেফাজতের অবস্থানস্থল কর্ডন করে রাখা হবে

হেফাজতে ইসলামীর অবরোধ কর্মসূচিতে তৃতীয় পক্ষ থেকে বোমাবাজি, গোলযোগ সৃষ্টির আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনুদ্দিন খন্দকার বলেন, আলেম-ওলামা-ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর হামলা চালিয়ে সরকারের ওপর দায় চাপানো এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিই এর উদ্দেশ্য। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকেও তাদের স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। হেফাজত যে ছয়টি স্থানে অবস্থান নেবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব তাদের কর্ডন করে রাখবে যাতে কেউ বোমাবাজি কিংবা হিংসাত্মক ঘটনা ঘটাতে না পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, উত্তরা, সদরঘাট, পোস্তগোলা, যাত্রাবাড়ী, সাভারসহ যেসব স্থানে হেফাজতের নেতাকর্মী, সমর্থকরা অবস্থান নেবেন সেসব স্থানে তাদের অবস্থানের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা বিধান করা হবে। হেফাজতের স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষভাবে সতর্ক রাখতে বলা হয়েছে যাতে বাইরের কেউ কোন রকম গোলযোগ সৃষ্টির প্রয়াস পেতে না পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তার কারণে হেফাজতের কর্মীদের সন্ধ্যার পর অবস্থানস্থলে রাতে অবস্থান না করতে অনুরোধ করা হবে। তারা রাতেও অবস্থান করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বাধা দেবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাতভর তাদের কর্ডন করে রাখবেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট