Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শনিবার লাশ উদ্ধার ২১ : মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৫৪

সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে এ পর্যন্ত ২৯৯১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৫৫৪ জন। এরমধ্যে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে রয়েছে ২৪৩৭ জন। জীবিতরা সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন এবং যেসব পোশাক শ্রমিক সুস্থ হয়ে উঠেছেন তারা বাড়ি ফিরে গেছে।

শনিবার উদ্ধার কাজের ১১ দিন এবং রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬ দিনে শনিবার সকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ২১ টি লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। ১১ দিনের মাথায় এসে উদ্ধার হওয়া লাশগুলো এতোই বিকৃত হয়ে গেছে যে, বেশির ভাগ লাশ শনাক্ত করা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। এমনকি নারী-পুরুষ শনাক্ত করতে সমস্যা পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।

প্রথম পর্যায়ের উদ্ধার অভিযানে মোট ২৮২২ জনকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৮৫ জনের। দ্বিতীয় পর্যায়ের ভারি যন্ত্রপাতির অভিযানের ৬ দিনে এসে মোট ১৩৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ৫৫৪ নিহতের মধ্যে ৫৪৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি ৯ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এখন উদ্ধার করা লাশগুলোর বেশিরভাগ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সেগুলোকে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে স্বজনরা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। শনাক্ত করতে পারলে তাদের কাছে লাশ দিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাকি লাশগুলোকে মর্গে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখা হবে মেডিকেলে ফরেনসিক বিভাগে। পরবর্তীতে স্বজনদের ডিএনএ মিলিয়ে ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে তাদের। ডিএনএ সংগ্রহ করার পর অজ্ঞাত লাশগুলোকে রাজধানীর জুড়াইন কবর স্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ৪৮টি ও মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ২৩টি লাশ পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে ২৮টি  ও ৭টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বাকী ১৮ ও ১৪ লাশ জুড়াইন কবর স্থানে দাফন করা হয়েছিল।

ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেনাবহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে ধ্বংসস্তূপে সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন কংক্রিট রয়েছে। যার মধ্যে এক হাজার মেট্রিক টনের মতো কংক্রিট দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্ধার অভিযানের পর সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যদিও একাধিক ইমারত বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ২৫ হাজারে বেশি মেট্রিক টন কংক্রিট রয়েছে। বর্জঅপসারণ করতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শতাধিক বিভিন্ন প্রকার যানবাহন কাজ করছে।

সাভারের রানা প্লাজার সামনে হাজার হাজার মানুষ তাদের নিখোঁজ স্বজনদের লাশের জন্য রাত-দিন পার করে দিচ্ছেন। তাদের প্রতিক্ষা এখন লাশ। লাশ পেলে সান্তনা স্বরুপ সেটি নিয়ে মাটি দিয়ে দেবেন। স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। প্রশাসন ও পুলিশসহ উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো তাদের স্বজনদের নিখোঁজদের তালিকা নিচ্ছেনা। থানায় জিডিও নিচ্ছেন না। এব্যাপারে সাভার থানার ওসি আসাদুজ্জামান জাস্ট নিউজের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্ধার অভিযান শুরুর পর সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিএমইএ এর হিসাবমতে এখনও ১৪৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। কিন্তু ইতিমধ্যে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে ১৩৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে সাভারের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংগঠনের হিসাবে এখনও এক হাজার থেকে এক হাজার ৯০০ নারী-পুরুষ নিখোঁজ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিলে পুরো ভবনটি বন্ধ ঘোষণা করে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। কিন্তুু ভবন মালিক পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নেতা মো. সোহেল রানার এ ফাটলকে প্লাস্টার খসে পড়া বলে চালিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বুধবার নিউ ওয়েব বটমস লি: চাকরি থেকে ছাটাইয়ের হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে এ ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটি বিকট শব্দে ধসে পড়ার পর পরই স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় জড়ো হওয়ায় ঢাকা-আরিচা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখনও এ রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানায় ঢাকা জেলা পুলিশ প্রশাসন।

রানা প্লাজায় ১ ও ২ তলায় মার্কেট, ৩ তলায় সামনে অংশে ব্রাক ব্যাংকের একটি শাখা এবং ৩ থেকে ৮তলা পর্যন্ত মোট ৫টি গার্মেন্টস রয়েছে। এ কারখানাগুলোতে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ঘটনার সময়ে নিউ ওয়েব বটমস লি: এর প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট