Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিরোধী দলকে কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

আগামী কাল বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ ও বোববার হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধনমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করা সাংবিধানিক অধিকার। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আমরা বাধা দিচ্ছি না, দেব না। আমি তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অবরোধ বা সমাবেশ স্থগিত করে নেয়। কারণ আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, লাশ শনাক্ত করতে স্বজনরা ছুটাছুটি করছেন, তাদের জন্য পথ খোলা রাখতে হবে। সম্ভাব্য সংলাপের ব্যপারে এক  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি সংলাপে আসতে শর্ত জুড়ে দিয়েছে। শর্ত মেনে নিলে তো হবে না। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে উপায় বের করতেই সংলাপ করতে হবে। সালিশ মানি কিন্তু তালগাছ আমার এমন অবস্থানে থাকলে হবে না। ছাড় দিতে হবে। তিনি বলেন, সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার হতে পারে। তাতেও আমার আপত্তি নেই।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে জীবিতদের উদ্ধার কাজে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান। সার্বিক বিষয়ে ব্রিফিং কালে তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ২৪৪৪ জনের মতো মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া শুরুতেই প্রথমিকভাবে দেড়শ জনের মতো লোক জীবিত উদ্ধার হন। ৪৯০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক নির্দেশে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ সকল পর্যায়ের কর্তপক্ষকে কাজে ব্যাবহার করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়া হয় চিকিৎসা সেবায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ছেলেদেরকে রক্ত দেয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়। আহত উদ্ধারকারী এজাজ উদ্দিন চৌধুরী কায়কোবাদকে এয়ার এম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। তার চিকিৎসার সার্বিক ব্যয় বহন করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। ভবন মালিক ও গার্মেন্ট মালিকদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য যেখানে যার যেরকম চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের সেভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকের কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে যাদের হাত নেই, পা নেই, বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে তাদের জন্য ব্যবস্থা করছি। এছাড়া গার্মেন্ট মালিকরা কথা দিয়েছেন, তারা এক হাজার শ্রমিকের চাকরির ব্যবস্থা করবেন।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা বিরোধী দলকে আহ্বান জানালে তারা হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়। তারা আমাদের অনুরোধ রেখেছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই।  হেফাজতে ইসলামের তের দফা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ আছে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে। কাজেই নতুন করে দরকার নেই। ধর্ম অবমাননায় আইন আছে। স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট আছে। ২০০৬ সালের আইন সংশোধন করে ২০০৯ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন করেছি। এসব আইনে বিভিন্ন ধরণের শাস্তির বিধান রয়েছে। কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে। তিনটি আইনেই ধর্ম ও নবী (সা.) সম্পর্কে কুৎসা করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আমাদের ইসলামের মান-মর্যাদার যাতে কেউ ক্ষতি না করে, সেজন্য ব্যবস্থা নেব। জঙ্গি কার্যকলাপ আমরা কঠোর হাতে দমন করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা আবার সেই ২০০৭ সালে ফিরে যেতে চান? দেশবাসী ফিরতে চায়? আপনাদের মনে আছে কারো? আমি জানি না বিরোধী দলীয় নেত্রী কেন চান। ২০০৭ সালে তো তার সব পছন্দের লোক ছিল। একটা একটা করে বেছে বেছে এনেছিলেন। নয় জনকে ডিঙিয়ে মইন ইউ আহমদকে (তৎকালীন সেনাপ্রধান) এনেছিলেন। ফখরুদ্দীনকে বিশ্বব্যাংক থেকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর করেছিলেন। তারপর কি হলো, জেলের ভাত! তার ছেলেদের উত্তম-মধ্যম দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন তারা। এতো কিছুর পরও আমরা দেশের স্বার্থে সংলাপে বসতে চেয়েছি। আমরা আলোচনা করব। আমাদের রিজিড হতে হবে, তা তো না। মালয়েশিয়ায় নির্বাচন হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় হলে গেলো, সেগুলো দেখেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাইনাস টু করছিল। উনারা (বিরোধী দল) মাইনাস ওয়ানে চলে গেছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট