Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘জনগণ মিলে ধাক্কা দিলে সরকার পড়ে যাবে’

বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের সব জনগণ মিলে অভ্যুথান তৈরি করে ধাক্কা দিলে সরকার এমনিতেই পড়ে যাবে। বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ বালুর মাঠে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বিরোধী নেতা বলেন, সাভারের এমপি মুরাদ জং সোহেল রানার গুরু। এমপির প্রশ্রয়ে হিন্দু লোকের জমি দখল করে বিল্ডিং করেছে। এরপর ওই ভবনে ফাটল ধরার পর ইঞ্জিনিয়াররা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল। কিন্তু রানা শ্রমিকদেরকে ডেকে নিয়ে বিল্ডিংয়ে উঠিয়েছে। আসলে তাদেরকে দিয়ে হরতাল বিরোধী মিছিল করাতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রানা নাকি যুবলীগের কেউ না। তিনি তালিকা নিয়ে এসেছেন। সে তালিকায় রানার নাম নেই। কিন্তু পরদিন মিডিয়ায় যুবলীগের নামে ছবি সংবলিত পোস্টার প্রকাশ করেছে। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি মিথ্যা বলেন তাহলে দেশের কি দুরবস্থা হবে। সরকার জনগণকে ভয় পায় উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাভারের দুর্ঘটনার ৫-৬ দিন পর কেন গেলেন। তিনি যখন গেলেন তখন তো সব শেষ হয়ে গেছে। আসলে জনগণের ভয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে সাভারে যাননি। তিনি বলেন, আমরা ঘটনার পরপরই হরতাল প্রত্যাহার করেছি। পরদিনই আমরা সেখানেই গিয়েছি। বিএনপির নেতাকর্মীরা আহতদের রক্ত দিয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করেছে। অথচ সরকারের এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথাই ছিল না। আসলে এত বড় ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য তারা এসব করেছে। সাভারের ভবন ধসের ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, উদ্ধার কাজেও সরকারের গাফিলতি ছিল। যে কোন দুর্যোয়ে সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়। সাভারের ঘটনার অনেক পরে তাদের ডাকা হয়েছে। বিরোধী নেত্রী সাভারের ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজদের প্রকৃত হিসাব দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
বিরোধী নেতা বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে সরকার বাধা দেয়। অথচ সরকার দলের লোকের অস্ত্র নিয়ে মিছিল করলেও বাধা দেয়া হয় না। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশে পুলিশ কার নির্দেশে গুলি চালিয়েছিল। বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হন। এসময় তিনি নজরুল ইসলাম খানকে সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে গুলির ক্ষত চিহ্ন দেখাতে বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। এগুলো কিসের আলামত। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে। দুই বছর হয়েছে এখনও তাকে ফেরত দেয়া হয়নি। ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। এক বছরেও তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। এর জন্য সরকারকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। বক্তব্য শেষে তিনি বলেন, আগামী ৪ঠা মে রাজধানীতে বিএনপির জনসভা আছে। সেখানে সব কথা বলবো।
এর আগে খালেদা জিয়া বিকাল তিনটায় তার গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে পৌনে চারটার নাগাদ কাঁচপুরের বালুর মাঠে সমাবেশে পৌঁছান। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ বছর পর নারায়ণগঞ্জ কোন রাজনৈতিক সমাবেশে যান বিরোধী নেতা।
এরআগে ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী প্রচারণামূলক জনসভায় এসেছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার জনসভাকে ঘিরে  কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জে বিরাজ করছিল সাজ সাজ রব। শহরের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হয় বিশাল আকৃতির তোরণ। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা ও তারেক রহমানের ঢাওস আকৃতির ছবি ও ব্যানার-ফেস্টুন সাটানোর নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ভবন ও রাস্তার মোড়ে। এছাড়া কাঁচপুরের বালুর মাঠে তৈরি করা হয় বিশাল মঞ্চ। শ্রমিক সমাবেশের প্রচারণার জন্য মাইকিংসহ বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারিং করা হয়।
সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট