Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হরতাল স্থগিত, জাতীয় স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে সাড়া দেয়ার আহ্বান খালেদার

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২রা মে-র হরতাল স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। গতকাল এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ ও চিকিৎসা কাজে অসুবিধা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বলছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, মানবতার স্বার্থে, জাতীয় এ ট্র্যাজেডির সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ করে দিতে আমরা আগামী ২রা মে, সারা দেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল স্থগিত ঘোষণা করছি। তিনি বলেন, আমরা যেভাবে জাতীয় স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি আশা করি জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীও সেভাবেই আমাদের আহ্বানে সাড়া দেবেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার লালসা পরিত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী অনতিবিলম্বে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ খুলে দেবেন বলে আমরা আশা করি।
খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে একটি মানবতাবোধহীন নিষ্ঠুর সরকার। এ সরকারের কাছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের কোন মূল্যই নেই। সংকীর্ণ রাজনীতি ও ক্ষমতার স্বার্থে তারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে কুণ্ঠিত হয় না। মানুষের প্রতি দরদের কথা মুখে বললেও তাদের কাজে প্রমাণ হয়, মানুষের জীবন এদের কাছে কতটা তুচ্ছ। সাভারের শোচনীয় হত্যাযজ্ঞের পর শুধু দেশবাসী নয়, সারা দুনিয়ার সচেতন মানুষের সামনে তা আবারও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, দেশবাসী জানেন, সাভারের অভিশপ্ত রানা প্লাজায় ফাটল ধরা ভবনে জোর করে পোশাক কারখানার হাজার হাজার কর্মীকে ঢুকিয়ে দিয়ে যে মর্মান্তিক ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হয়েছে এর প্রতিবাদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ২রা মে বৃহস্পতিবার সারা দেশে দিনব্যাপী হরতাল আহ্বান করে। এ হরতাল ডাকা হয় ঘৃণ্য অপরাধী এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাদের মদতদাতা গডফাদারদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে। এ হরতাল ডাকা হয় শোচনীয়ভাবে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া কর্মীদের পুনর্বাসনের দাবিতে। উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের সীমাহীন ঔদাসীন্য, সমন্বয়হীনতা ও ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানাতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এ হরতাল ডাকা হয়। তিনি বলেন, সাভার ট্রাজেডি কিভাবে ঘটেছে তা ইতিমধ্যে দেশবাসী জেনেছেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে যতই অস্বীকার করুন না কেন সবাই জানেন, মূল অপরাধী ঘৃণ্য সন্ত্রাসী সোহেল রানা সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্যই হচ্ছেন তার সব সন্ত্রাস ও অপকর্মের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা গডফাদার। এ কারণেই স্থানীয় প্রশাসন হয়ে উঠেছিল এই ঘৃণ্য সন্ত্রাসীর হাতের পুতুল।
খালেদা জিয়া বলেন, সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের একজন নাগরিকের জমি দখল করে অবৈধভাবে এই সন্ত্রাসী ত্রুটিপূর্ণ ভবন বানিয়ে তৈরি করেছিল মানুষের মৃত্যুফাঁদ। বিরোধীদলের হরতাল ভাঙার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশে, প্রশাসনের সহায়তায় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে জোর করে ফাটল ধরা ভবনে সেদিন পোশাক-কর্মীদের জবরদস্তি করে ঢুকিয়ে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এরপর পুরো চক্রটি মিলে অপরাধী রানাকে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ট্রাজেডির পর সরকারের মধ্যে সামান্যতম অনুশোচনা ও পরিতাপ সৃষ্টি হলে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতো। কিন্তু তা করা হয়নি। তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও গণদাবির মুখে সন্ত্রাসী সোহেল রানাকে গ্রেফতার দেখানো হলেও এ নিয়ে জনমনে নানারকমের সন্দেহ ও গুঞ্জন রয়ে গেছে। আমরা জেনেছি, সন্ত্রাসী রানার বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে সে উপযুক্ত শাস্তি পাবে কিনা সন্দেহ। বর্তমান সরকার যেভাবে খুনি-সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্ত করে দেয়ার নজির স্থাপন করেছে তাতে তাদের দলের কোন অপরাধী শাস্তি পাবে এমন বিশ্বাস দেশের মানুষ করতে পারছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এই ভয়াবহ ট্রাজেডির পর উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে সরকার ক্ষমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার কাজে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর রয়েছে আন্তর্জাতিক সুখ্যাতি। কিন্তু সরকার শুরু থেকেই তাদের পুরোপুরি দায়িত্ব প্রদানে ছিল দ্বিধান্বিত। আমরা মনে করি, শুরু থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডসহ সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে নিয়োজিত করলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও কমানো সম্ভব হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা না করে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের প্রশস্তি করানোর দিকেই সরকারের বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, উদ্ধার তৎপরতায় সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং টর্চলাইট, অক্সিজেন, পানি, স্যালাইন, কাটারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য জনগণের কাছে ক্রমাগত আবেদন প্রমাণ করেছে যে, সরকার এই সামান্য জিনিসগুলোরও যোগান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বেসরকারি মালিকানাধীন এনাম হাসপাতাল আহতদের জন্য যতটুকু চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সে ধরনের কিছু করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।
তিনি বলেন, উদ্ধার করা লাশগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা সরকার করতে পারেনি। সেগুলো ফেলে রাখা হয়েছিল। নিহত-আহতদের খোঁজে আসা শোকার্ত স্বজনদের সঠিক তথ্য জানানোর ব্যবস্থা ছিল না। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। এত অযোগ্যতা সত্ত্বেও সরকার উদ্ধারকাজে বৃটেনসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থাগুলোর সহায়তার প্রস্তাব কেন প্রত্যাখ্যান করলো তাও দেশবাসীর কাছে বোধগম্য নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, এই ট্রাজেডির পর সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে পরম মমতায় উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, সারাদেশ থেকে ছুটে গিয়েছেন প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে তাতে আমি কৃতজ্ঞ ও মুগ্ধ। বাংলাদেশের মানুষের ওপর আমার আস্থা আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী, ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ-র‌্যাব, আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোর সদস্যদের, স্বেচ্ছাসেবী, চিকিৎসকসহ উদ্ধার, চিকিৎসা ও সেবা কাজে অংশগ্রহণকারী সবাইকে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর পর আমরা পর্যায়ক্রমে সাভার, ঢাকা অঞ্চল ও সারা দেশে হরতাল প্রত্যাহার করে নিই। আমাদের দলের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও চিকিৎসা তৎপরতায় ব্যাপকভাবে অংশ নেয়া হয়। আমরা সাধ্য অনুযায়ী সাভার ট্রাজেডিতে বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার ‘জাতীয় শোকদিবস’ ঘোষণা করেও তা নিজেরা পালন করেনি। সংসদ অধিবেশন স্থগিত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তার রাষ্ট্রীয় স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বহাল রেখে ট্রেন উদ্বোধন করেন। সাভার ট্রাজেডির দিনেও রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানমালা অব্যাহত রাখা হয়। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয়, জাতীয় এই শোকের আবহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দলীয় কর্মীসভা করে সেখানে তার স্বভাবসুলভ আপত্তিকর ভাষায় বিরোধীদলকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। আর এখন তিনি মানবতার দোহাই দিয়ে বিরোধীদলকে হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।”
বিবৃতিতে বিরোধী নেত্রী বলেন, দেশবাসী জানেন এবং আমরাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, বিএনপি সরকারের আমলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জ্বালাও-পোড়াও, বন্দর অচল, হত্যা, ভাঙচুর, গণকার্ফু জারি, অফিসগামী নাগরিকদের দিগম্বর করা, সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে মলমূত্র নিক্ষেপ, গান পাউডার দিয়ে চলন্ত বাসে আগুন লাগিয়ে যাত্রীদের পৈশাচিক হত্যার মাধ্যমে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করার সময় কোথায় ছিল তার মানবতা? বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস, যমুনা সেতুর ভিত্তিস্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ বিদেশী মেহমানদের উপস্থিতি, পাবলিক পরীক্ষা, জাতীয় দুর্যোগ কোন কিছুই সেদিন আজকের প্রধানমন্ত্রীকে হরতাল পালন থেকে বিরত করতে পারেনি। আজও তিনি ক্ষমতায় থেকে একের পর এক সারা দেশে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হাস্যকর মিথ্যা মামলায় দলে দলে জেলে পুরছেন আর শোনাচ্ছেন মানবতার বাণী।
কিন্তু আমরা তাকে অনুসরণ করবো না। খালেদা জিয়া বলেন, আজ তৈরী পোশাক খাতসহ জাতীয় অর্থনীতি যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে তা থেকে রক্ষার সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করি। “আমাদের এই সব প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী যদি পদক্ষেপ না নেন তাহলে হরতালের যে কর্মসূচি আমরা স্থগিত করলাম তা আবার ঘোষণা করা হবে। দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠিন-কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের আর বিকল্প থাকবে না।
বেগম জিয়া বলেন, জাতি আজ বিপন্ন। দেশ আজ ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছেছে। মানবাধিকার ও মানবতা আজ পদদলিত। দিশেহারা মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। প্রধানমন্ত্রীকে আমি জনগণের মনের ভাষা পড়তে অনুরোধ করবো। তিনি যদি মনে করে থাকেন, গণহত্যা করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে, গুম-অপহরণ করে, নির্যাতন-কারারুদ্ধ-মিথ্যা প্রচার চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন তা হলে তা হবে আত্মঘাতী। আমি আশা করি, সংকটের ভয়াবহতা তিনি উপলব্ধি করবেন এবং ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে তিনি নিজে ধাবিত হবেন না, জাতিকেও নিক্ষেপ করবেন না। হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তির পথে ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের শেষ সুযোগ গ্রহণের জন্য আমি তার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট