Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মন্ত্রিসভার পরে সংসদেও চমক

ঢাকা: ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এক ঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে যে চমক দেখিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় এবার চমক দেখালেন জাতীয় সংসদেও।

দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো তার দল একজন নারীকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মনোনয়ন দিল এবং যিনি আবার দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ স্পিকারও বটে। তার বয়স এখন ৪৭। ১৯৬৬ সালে জন্ম তার। তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। নামের আগে ড. উপাধিও এই প্রথম কোনো স্পিকারের। আবার শিরীন শারমিনই প্রথম স্পিকার, যিনি জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, বরং তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। অর্থাৎ অনেক দিক দিয়েই তিনি প্রথম।

সোমবার রাতে জাতীয় সংসদের বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের নবম তলায় শুরু হয় আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠক। বৈঠক চলাকালীন সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, শিরীন শারমিন পরবর্তী স্পিকার হচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ বাদে বৈঠক শেষে বেরিয়ে দলের নেতারাও জানালেন এই কথা।

অবশ্য রোববার রাতে আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের যে  বৈঠক হয়, সেখানেই শিরীন শারমিনের নাম চূড়ান্ত হয়েছিল বলে শোনা যায়। সংসদীয় দলের বৈঠকে কেবল ওই সিদ্ধান্তটি সকলকে অবহিত করা হয় এবং বিষয়টিকে ‘গণতান্ত্রিক’ করতেই সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়।

দলে এত জ্যেষ্ঠ এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, পার্লামেন্টারিয়ান থাকতে শিরিন শারমিন চৌধুরীকে কেন স্পিকার করা হলো- এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তরা বললেন, এটা নারীর ক্ষমতায়নের অংশ।

সৈয়দ আশরাফ বললেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলীয় নেতা নারী, সংসদ উপনেতা নারী। আর এবার সংসদের সর্বোচ্চ ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের তৃতীয় ব্যক্তিও হলেন একজন নারী। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, নারীরা পিছিয়ে নেই। বরং তারা সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে।” এ সময় তিনি নারীর হিমালয় জয়ের প্রসঙ্গও টানেন।

তিনি শিরীন শারমিনকে একজন মেধাবী, রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার এবং দক্ষ উল্লেখ করে বলেন, “মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে যে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তাকে মন্ত্রিসভার একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে আমরা গণ্য করি।” তিনি সংসদের স্পিকার হিসেবেও তার সেই যোগ্যতার পরিচয় দেবেন বলে সৈয়দ আশরাফের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, “একজন নারীকে স্পিকার করতে পেরে আওয়ামী লীগ গর্বিত।”

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও বলেন, “শিরীন শারমিন চৌধুরীর স্পিকার মনোনীত হবার মধ্য দিয়ে মূলত এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে।” তবে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলেও অসুবিধা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যরাও জনগণের প্রতিনিধি।” এ বিষয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিমও প্রায় অভিন্ন মত পোষণ করেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হবে এবং এরপর তিনি শপথ নেবেন। আর বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীই আপাতত ডেপুটি স্পিকার হিসেবে বহাল থাকছেন। তবে তিনি এই পদে থাকবেন কি না বা তাকে অন্য কোনো পদে নিয়োগ দিয়ে নতুন কাউকে ডেপুটি স্পিকার করা হবে কি না- তা এখনও নিশ্চিত নয়।

যারা স্পিকার ছিলেন
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ১০জন স্পিকার ছিলেন। এর মধ্যে সংসদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং সবশেষ দশম স্পিকার ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। অর্থাৎ প্রথম এবং সর্বশেষ দুজনই হামিদ। শাহ আবদুল হামিদ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন এবং ১৯৭২ সালের পয়লা মে তিনি ইন্তেকাল করেন।

জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় স্পিকার ছিলেন মুহম্মদুল্লাহ। ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৯৭৪ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি স্পিকার ছিলেন। ১৯৯৯ সালের ১২ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদের তৃতীয় স্পিকার ছিলেন আবদুল মালেক উকিল। ১৯৭৪ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৮৭ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জাতীয় সংসদের চতুর্থ স্পিকার ছিলেন মির্জা গোলাম হাফিজ। তিনি ১৯৭৯ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৯৮২ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ২০০২ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

সংসদের পঞ্চম স্পিকার ছিলেন শামসুল হুদা চৌধুরী। ১৯৮৬ সালের ১০ জুলাই থেকে ১৯৮৮ সালের ২৪ এপ্রিল এবং ১৯৮৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি দু দফায় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ স্পিকার ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯১ এর নির্বাচনের পরে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

সংসদে সপ্তম স্পিকার ছিলেন শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯১ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ এবং ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় সংসদের অষ্টম স্পিকার ছিলেন হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৪ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১০ জুলাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদের নবম স্পিকার ছিলেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। তিনি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একজন সংসদ সদস্য।

আর সংসদের সবশেষ দশম স্পিকার ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি নবম সংসদের প্রথম দিন থেকে তিনি গত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ওইদিন দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার ফলে তার আসনটি শূন্য হয় এবং তার জায়গায় শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের ১১তম স্পিকার হচ্ছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট