Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন : উদ্ধারকাজে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ

ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন : উদ্ধারকাজে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ

রানা প্লাজার ভেতরে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে সাহায্য করতে ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। পত্রিকাটি বলছে, বিদেশি অভিজ্ঞ উদ্ধারকারীদের সাহায্য গ্রহণ করা হলে বহু জীবন রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল টেলিগ্রাফ বলেছে, গত সপ্তাহে ভবনটি ধসে পড়ার পর ব্রিটেন অভিজ্ঞ টিম পাঠিয়ে উদ্ধারকাজে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিল। সংবাদপত্রটি বলছে, তাদের সাংবাদিকরা যেসব কাগজপত্র দেখতে পেয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি সাহায্যের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
পত্রিকাটি বলছে, বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষ মনে করেছে, এই সাহায্য গ্রহণ করা হলে তাদের জাতীয় গর্ব বিনষ্ট হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছিলেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের রাজি করানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এই সহযোগিতা গ্রহণ করা হলে সেটাকে খুব বড় করে দেখানো হবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাপক হতাহতের খবর জানার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা করেছিলেন।
আলোচনার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, এত বড় উদ্ধারকাজ চালাতে বাংলাদেশের সেই ক্ষমতা নেই এবং তখনই কর্মকর্তারা উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতি পাঠিয়ে কারা সহযোগিতা করতে পারে, তা জানতে ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলছেন, ‘সাহায্যের এই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এবং যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সমাজ যে তার জন্য প্রস্তুত, সেটা বাংলাদেশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেটা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর পরিবর্তে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর নির্ভর করে উদ্ধার কাজ চালানো হয়। তাদের কোনো সুরক্ষামূলক পোশাক ছিল না। তারা প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরেছিল। একজন ডাক্তার আটকে পড়া একজন গার্মেন্ট শ্রমিকের হাত কেটে তাকে উদ্ধারের জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবককে দায়িত্ব দেন। এমনকি ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অনেকে নিজের প্রস্রাব খেয়ে বেঁচেছিল।
টেলিগ্রাফ জানায়, যথাসময়ের আগেই উদ্ধারকাজ শেষ করার ঘোষণা দেয়ায় আটকে পড়াদের আত্মীয়-স্বজনরা সরকারের সমালোচনা করেছে। ৭২ ঘণ্টা পর আর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব নয় বলে ঘোষণা দিয়ে উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে জনগণের চাপে সেই পরিকল্পনা বিলম্বিত করা হয়। কারণ তখনও অনেক লোককে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ছিল এবং ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিকিউএম মুশতাক আহমেদ বলেন, তিনি শুনেছেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রানা প্লাজা নামের নয়তলা এই ভবনটি বুধবার ধসে পড়ে। এটি শুধু বাংলাদেশের বৃহত্তম দুর্ঘটনা নয়, এত বড় মানবসৃষ্ট বিপর্যয় নিকট অতীতে বিশ্বের কোথাও ঘটেছে বলে জানা যায়নি। গতরাত ৮টা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪০০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও প্রায় হাজারখানেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে আছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট