Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মহাখালী, সাভার-আশুলিয়া-গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, কারখানা বন্ধ

রাজধানীর মহাখালী, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। কারখানায় নিরাপত্তা এবং রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার ফাঁসির দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। সাভারের ভবন ধসে বহু হতাহতের ঘটনায় শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু হলে গত চার দিন গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ থাকার পর আজ শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে সকাল থেকেই কিছু কারখানার শ্রমিকরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলে বন্ধ করে দেয়া হয় বেশিরভাগ কারখানা।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে আশুলিয়া, জিরাবোসহ বেশ কিছু এলাকায় গাড়ী ভাংচুর করা হয়। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। সকালে সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা প্রবেশের পর বাইরে থেকে তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সুত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। এর পরই ওই এলাকায় বিভিন্ন কারখানায় নিরাপত্তার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
এদিকে রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকা পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রেখেছেন প্রায় দুই হাজার পোশাকশ্রমিক। তাঁদের অভিযোগ, আগে কোন ঘোষণা না দিয়ে নাসা গ্রুপের একটি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। শ্রমিকদের আশঙ্কা, মালিকপক্ষ তাঁদের চলতি মাসের বেতন ও অন্যান্য পাওনা টাকা দেবে না। সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত শ্রমিকরা রাস্তা আটকে অবরোধ করেছিলেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, সকাল আটটায় তারা কারখানায় যান। মালিকপক্ষ তাদের বলে ভবনে ফাটল ধরেছে। তাই কারখানা বন্ধ থাকবে। শ্রমিকদের চলতি মাসের বেতন আরও ছয়-সাত দিন পর দেয়া হবে বলে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি জানান। এ ছাড়া বকেয়া বেতন ও ওভারটাইমের ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে শ্রমিকদের জানানো হয়। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাসা গ্রুপের ওই কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থেকে মালিকপক্ষের লোকজন মালপত্র সরানো শুরু করে। এরপর হঠাৎ তাদের কারখানা বন্ধের কথা জানানো হয়। বেতন ও পাওনা টাকার ব্যাপারে মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে শ্রমিকেরা যোগাযোগ করতে পারেননি।
এদিকে ওই এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। রাস্তা বন্ধ থাকায় পুরো এলাকায় দীর্ঘ যানজট লেগে আছে। এই যানজট মহাখালী-এয়ারপোর্ট রোড অচল হয়ে আছে।
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় কাজের নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয় এবং এক পর্যায়ে ঢিল ছুঁড়ে কয়েকটি কারখানার কাঁচ ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে মিছিল করে এবং বিভিন্ন কারখানায় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তারা অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদেরও বের করে নিয়ে আসে। শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে শিল্প পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, গাজীপুরের ভোগড়া, বোর্ডবাজার, লক্ষীপুরা, কোনাবাড়ি , কাশিমপুর, কালিয়াকৈরের মৌচাক, পল্লী বিদ্যুত, চন্দ্রা, শ্রীপুরের এমসি বাজার সহ বিভিন্ন স্থানের অনেক গার্মেন্টসে ছোট বড় ফাটল থাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ  ও পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ফাটল থাকা ছাড়াও গাজীপুরের অনেক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে বিপুল সংখ্যক শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুরে তিন প্লাটুন (বর্ডার গার্ড) বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দু’দিন ছুটির পর গার্মেন্টস কারখানাগুলো আজ  সোমবার খোলা হলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টে যেতে থাকে তাদের চেহারা। মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মোহাম্মদীয়া গ্রুপ, এসবি ফ্যাশন, ডিভাইন গার্মেন্টস, ট্রপিক্যাল গার্মেন্টস, রহমত গ্রুপ, মন্ডল গ্রুপ, হাসিনা এপারেলসসহ বিভিন্ন গার্মেন্টসে ছোট বড় ফাটল থাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে নেমে আসে। এক পর্যায়ে চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি এবং পল্লী বিদ্যুত এলাকায় ঢাকা – ময়মনসিংহ ও  ঢাকা – টাঙ্গাইল মহাসড়কের অবরোধ করে। এসময় ইট পাটকেল ছুড়ে কয়েকটি কারখানা ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট