Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মৃত্যুপুরীতে এখনও ৯৪৯

সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকা পড়ে আছে প্রায় ১ হাজার হতভাগ্য নারী-পুরুষ। ভবনটি ধসের পাঁচ দিন পর গতকালও বেশ ক’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ অবস্থায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য গতকাল সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে উদ্ধারকর্মীসহ সাংবাদিকদের। প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাইড্রোলিক ক্রেন, কাটিং ইকুইপমেন্ট, লোডার, রিগসহ ভারী যন্ত্রপাতি।
উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে যে কোনো মুহূর্তে এসব ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হতে পারে বলে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিন্তু স্বেচ্ছা-উদ্ধারকারী ও আটকেপড়াদের স্বজনরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে থাকেন। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ঘোষণায় কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। উদ্ধারকারী ও আটকেপড়াদের স্বজনরা আশঙ্কা করছেন, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলে ভেতরে যারা জীবিত আছেন, তারা মারা যেতে পারেন। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হলেও তাতে আস্থা রাখতে পারেননি তারা।
এ অবস্থায় ঘোষণা সত্ত্বেও গত রাত ১০টা পর্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল স্বাভাবিক উদ্ধার তত্পরতা ব্যাহত হয়।
পাঁচ দিন ধরে হস্তচালিত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে উদ্ধার তত্পরতা চালানোর পর গতকাল বেলা ১১টার দিক থেকে হাইড্রোলিক ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ঘোষণা দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার শুরু হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত ৩৯৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ জনকে। শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ৩৪৫টি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। হিমাগারে রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক লাশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে এগুলো রাখা হয়েছে।
সাভারের রানা প্লাজার মৃত্যুপুরীতে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৯৪৯ জন। তবে অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান রোববার জানান, স্বজনদের কাছ থেকে যে তথ্য তারা পেয়েছেন, সে অনুযায়ী এখনও ১ হাজার ১৬৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভবনের ভেতরে এখনও অনেক লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। লাশের গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছে সাভারের আকাশ-বাতাস।
উদ্ধারকারী সূত্রে জানা যায়, সিঁড়িসহ বিভিন্ন স্থানে স্তূপ হয়ে আছে লাশ। ভবন মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা গ্রেফতার হলেও তার ফাঁসির দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। গতকাল বেলা ৩টার দিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক রানা প্লাজার সামনে মাইকে ভবন মালিক সোহেল রানার গ্রেফতারের খবর ঘোষণা করেন। এতে উপস্থিত হাজারো জনতা করতালি দেন এবং রানার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আমিনবাজার থেকে নবীনগর পর্যন্ত এবং আশুলিয়া এলাকায়, এমনকি রানা প্লাজার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রানার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।
সিঁড়িতে লাশ আর লাশ : উদ্ধারকারীরা জানান, রানা প্লাজার সিঁড়িতে এখন বহু লাশ রয়েছে। উদ্ধারকারীদের মধ্যে ইফনুস আমিন অমি ও আবদুস সালাম রাজধানী ঢাকার উত্তরায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই ভবন ধসের দ্বিতীয় দিন থেকে ছয় বন্ধু মিলে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সঙ্গে উদ্ধার কাজ করছেন। এই ছয় বন্ধুর দুজন অসুস্থ হয়ে এখন এনাম মেডিকেলে চিকিত্সাধীন। চারজন এখনও সুস্থ আছেন এবং রাত-দিন এই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল সকালে সাধারণ এই উদ্ধারকারী দলের সদস্য সালাম ভবনের পূর্বদিকে যান। সেখানে একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে টর্চলাইটের আলোয় দেখা যায়, সিঁড়ির সর্বত্র শুধু লাশ আর লাশ।
সিঁড়ির পাশে এক নারীর লাশ রয়েছে। তার মাথা নিচে এবং পা ওপরের দিকে। লাল রঙের প্রিন্টের সালোয়ার-কামিজ পরা। এক হাতে দুটি চুড়ি বা বালা রয়েছে। একজন পুরুষের লাশের দুটি পা শুধু দেখা গেছে। তার পরনে জিন্সের প্যান্ট। এই পায়ের সঙ্গে দুটি হাত রয়েছে। এই হাত দুটি ভালো বোঝা যায় না। এখানে চারদিকে টর্চলাইটের আলোয় শুধু ইট, বালু আর সিমেন্টের স্তূপ দেখা যায়। উদ্ধারকারী অমি জানান, এই স্তূপের মধ্যে এবং এই সিঁড়ির প্রত্যেকটি অংশে অনেক লাশ আছে। লাশগুলো স্তূপ হয়ে যেন একটির ওপর আরেকটি লেগে আছে।
দেখা যায়, ভবনধসের পঞ্চম দিন বিধ্বস্ত এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সিঁড়িতে লাশের স্তূপগুলো থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই দুর্গন্ধ তিন দিন আগেও ছিল। তবে এখন আশপাশে দাঁড়ানোই অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এরই মধ্যে একদিকে প্রচণ্ড গরম আর অন্যদিকে পচা লাশের উত্কট দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে দমকলের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ জীবিতদের সন্ধান করে বের করে আনছেন।
উদ্ধারকর্মীদের বের করা নিয়ে ক্ষোভ : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিধ্বস্ত ভবনের তৃতীয় তলায় আরও ৯ জনের জীবিত থাকার সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। এরপর আবার এই নয়জনকে উদ্ধারের অভিযান শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১০টা থেকে একটানা পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর আড়াইটার দিকে দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং বাকি সাতজনকেও উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত আরও পাঁচজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় বিধ্বস্ত ভবনের তৃতীয় তলা থেকে বের করে আনা হয়েছে।
এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া দমকল ও সাধারণ মানুষ গর্ত খুঁড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই হতভাগ্য শ্রমিকদের বের করে আনছেন। তাদের মধ্যে গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় মানিকগঞ্জ থেকে আসা মোস্তফা কামাল এবং হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। হাফিজুর রহমান বলেন, তার স্ত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন এখনও এই ভবনের পূর্ব দিকে আটকে আছেন। তারা সবাই জীবিত। তাদের পানি, জুস ও খাবার দিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
এই দুই হতভাগ্য স্বজন জানান, তারা তাদের উদ্ধার না করে যাবেন না। এ কারণে গত তিন দিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে হাফিজুর রহমান বলেন, আজ দুপুর থেকে আমরা ওই অংশে একটা গর্ত খুঁড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের বের করে দিয়েছেন। একই অভিযোগ করেন আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ উদ্ধারকারী। এরপর রানা প্লাজার সামনে উপস্থিত জনতা বিক্ষোভ শুরু করেন। দফায় দফায় এই বিক্ষোভের পর রানা প্লাজার আশপাশে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়।
এ ব্যাপারে সন্ধ্যায় জানতে চাইলে সাভার ক্যান্টনমেন্টের নবম ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী সাংবাদিকদের বলেন, আমি সকালেও বলেছি এখনও বলছি, জীবিতদের উদ্ধার করাই আমাদের কাজ। আমরা এই কাজটি সতর্কতার সঙ্গে করছি। এখানে অহেতুক ভিড়ের কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। আপনারাও দেখেছেন, এই ভিড় না থাকলে উদ্ধারকাজ আরও আগে শেষ হয়ে যেত। আমরা এখন উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে যাব।
ভবনের পূর্ব দিকে আরও ১২ জীবিত শ্রমিকের সন্ধান : বিধ্বস্ত ভবনের পূর্ব দিকে যে ১২ জন জীবিত থাকার সন্ধান পাওয়া গেছে, তাদের কয়েকজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এই ১২ জনের মধ্যে দুইজন আছেন, যাদের একই নাম শিল্পী এবং আরও দু’জন তাদের নাম জানিয়েছেন। এদের একজনের নাম রাজু এবং অপরজনের নাম মোহাম্মদ শাহাজাহান। তাদের দু’জনের বাড়ি মানিকগঞ্জে।
গতকাল রোববার দুপুরে ধসে পড়া ভবনের পূর্ব দিকে তাদের সন্ধান পেয়ে উদ্ধারকাজ করছিলেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু গতকাল রানা প্লাজার সামনে থেকে উপস্থিত স্বজন, উত্সুক জনতা এবং বিকালে সাধারণ উদ্ধারকর্মীদের বের করে দেয়া হয়। এ সময় এই উদ্ধারকারীরাও বের হয়ে এসে অভিযোগ করেন, ভবনের পেছনে পূর্ব দিকে ১০ থেকে ১২ জীবিত মানুষ আছেন। গর্ত খুঁড়ে তাদের বের করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বের করে দেয়ার পর তারা বেড়িয়ে এসেছেন। এ সময় বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজন ও উপস্থিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বিক্ষোভ করতে থাকেন।
ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত : সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের উদ্ধার কার্যক্রমে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী সরকারি সংস্থাগুলো। ধসে পড়ার পঞ্চম দিনে গতকাল সকালে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে রানা প্লাজার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপরে সংবাদ সম্মেলনে উদ্ধার কার্যক্রম সংক্রান্ত সমন্বয় কমিটির প্রধান সাভার সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দি এ কথা জানান।
জিওসি বলেন, সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে এক্ষেত্রে তাদের জীবিত উদ্ধারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আটকে পড়াদের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে নয়জনের প্রাণের স্পন্দন পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে।
হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে ওপরের তলার কংক্রিট সরানো হবে জীবিতদের উদ্ধার করার লক্ষ্যে। এছাড়া অন্যান্য যন্ত্রপাতিও পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করা হবে। উদ্ধার প্রক্রিয়া চলবে তিন স্তরের মাধ্যমে। প্রথম পর্যায়ে চলবে জীবিতদের উদ্ধার প্রক্রিয়া। পরে উদ্ধার করা হবে মৃত ব্যক্তিদের এবং সর্বশেষ উদ্ধার কাজ চলবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য।
এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ভারী ক্রেন, কাটিং ইকুইপমেন্ট, লোডার, রিকভারি যন্ত্রপাতি জড়ো করা হচ্ছে জানিয়ে মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সহরাওয়ার্দি আরও বলেন, ধ্বংসস্তূপের অবস্থা পর্যবেক্ষণসহ এ ব্যাপারে আমরা বুয়েটের অধ্যাপকারাসহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সন্ধ্যার পর ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি ইকুপমেন্ট (যন্ত্রপাতি) পদ্ধতিতে উদ্ধার কাজ চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সেনাকর্মকর্তারা।
শ্রমিকদের ভাগ্যে এমনটি আল্লাহই লিখে রেখেছিলেন-ইউএনও : রানা প্লাজার ৯ তলা ভবন ধসের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং গা ঢাকা দেয়ার পর গতকাল সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার ফোনে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, সামান্য ফাটল ধরার বিষয়টি এত গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি। তাছাড়া শ্রমিকদের ভাগ্যে এমনটি আল্লাহ লিখে রেখেছিলেন। নাহলে এতগুলো লোকের প্রাণহানিইবা কেন ঘটবে।
দায়িত্ব অবহেলার পরও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি রয়ে গেছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ভবন ধসের পর বিভিন্ন মিডিয়াগুলোতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে সাভার অধরচন্দ্র স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে কিছু সময় দেখা গেলেও এরপর থেকে আর তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে ভবন ধসের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সাভার উপজেলার এ নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় ফুসে উঠেছে সাধারণ জনতা। গত মঙ্গলবার সকালে ভবন ধসের আগের দিন ওই ভবনটিতে ফাটল দেখা দিলে সাভার উপজেলা কর্মকর্তা ভবনটি পরিদর্শন করতে গিয়ে বলেন, রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় সামন্য ফাটল দেখা দিয়েছে। এতটুকু ফাটলে ভবনের কোনো ক্ষতি হবে না। এদিকে ভবনটি ধসে যাওয়ার পর সাভার অধরচন্দ্র স্কুল মাঠে বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আবারও বলেন, আমি ভবনটিতে ফাটলের কথা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবন মালিক ও গার্মেন্ট মালিকদের কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছিলাম। তারা আমার কথা অমান্য করে কারখানাটি চালু রাখায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
তবে ভবন ধসের রানা প্লাজার তৃতীয় তলার বেঁচে আসা আহত শ্রমিক পলাশ, নিলুফা, রনি, আলেয়া জানান সব দোষ প্রসাশনের। ফাটল দেখার পরও তারা কারখানা পরিদর্শন করে বলে এসেছেন সামান্য ফাটলে ভবনের কোনো ক্ষতি হবে না। তারা যদি ততক্ষণ ভবন মালিককে ভবন না খোলার নির্দেশ দিয়ে আসতেন তাহলে আজ এত মানুষের প্রাণ দিতে হতো না।
রানার মায়ের মৃত্যু : সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মা মর্জিনা বেগম (৬২) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার জয়মণ্ডব গ্রামে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল জানাজা শেষে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। নিহতের পারিবারিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়া এবং হতাহতের ঘটনার খবর শুনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এখনও শোনা যাচ্ছে বাঁচানোর আর্তনাদ : আমাদের জাবি প্রতিনিধি বেলাল হোসাইন রাহাত জানান, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে করতে গত পাঁচদিনে আটকাপড়া জীবিতদের প্রাণের স্পন্দন যেন ফুরিয়ে গেছে। এখন আর আগের মত কোনো আর্তনাদ করতে পারছে না। তবে গতকালও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কর্মীরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত মানুষের সাড়া পাওয়া যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার কাজে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হবে না। এজন্য গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো ধরনের ভারী যন্ত্র ব্যবহার করেনি। উদ্ধার কর্মীরা বলছে, গতকাল বিকাল পর্যন্ত ৫ জনের আর্তনাদ শোনা গেছে। তবে সন্ধ্যায় শুধু একজনের আর্তনাদ শুনতে পেয়েছে উদ্ধার কর্মীরা। একদিকে জীবিতদের আর্তনাদ অন্যদিকে উদ্ধার কাজে ভারী যন্ত্র ব্যবহার হবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তারা সকালবেলা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দিনের শেষে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ভারী যন্ত্রের বিরোধিতা করেন স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেন, সরকারের উদ্ধার তত্পরতায় নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। সরকার আমাদের শেষ আশা থেকে নিরাশ করতে চাচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, অনেকে এখনও জীবিত আছে, তবে তারা অনেক জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত। এদিকে শত শত মানুষ তাদের স্বজনদের জীবিত সন্ধান পেতে ছবি নিয়ে এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। আবার অনেকে তাদের স্বজনদের বাঁচার আশা ছেড়ে শুধু মাত্র লাশটা নেয়ার জন্য অধরচন্দ্র বিদ্যালয়ের মাঠে ভিড় করছেন। এমনি একজন আবদুল কাদের। সে তার বোনের সন্ধান চায়। একবার এনাম মেডিকেল আরেকবার রানা প্লাজার পাশে। এভাবে তিনি তার কষ্টের সময় অতিবাহিত করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্ধার কাজ ধীরগতিতে চলছে। এভাবে চলতে থাকলে কাউতে আর জীবিত পাওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানার মালিকানাধীন সাভারের রানা প্লাজা নামের নয়তলা ভবন ধসে পড়ে। ভবনটিতে পাঁচটি গার্মেন্ট কারখানাসহ মার্কেট, ব্যাংক অফিসসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিস ছিল। ধসে পড়ায় ভবনের নিচে ৩ হাজার সাড়ে ৭শ’ মানুষ আটকাপড়ে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট