Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ত্বকী’র পিতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা- ক্যাঙ্গারু পারভেজ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণজাগরণ মঞ্চের প্রধান উদ্যোক্তা, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক এবং সম্প্রতি খুন হওয়া মেধাবী স্কুল ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ  ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বিকে পুলিশের সামনেই গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক জোটের একটি প্রতিবাদ সভায় ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ৩নং অভিযুক্ত যুবলীগ ক্যাডার জেডআইভি পারভেজ ওরফে ক্যাঙ্গারু পারভেজ তার ৩-৪ সহযোগীকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটায়। তবে রফিউর রাব্বিকে গুলি করার আগেই সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মী এবং শহীদ মিনারে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ পারভেজকে পিস্তলসহ আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ পারভেজকে অস্ত্রসহ উদ্ধার করে নিয়ে গিয়ে পরে শহীদ মিনারের ভেতরে ঢুকে সদর মডেল থানার ওসি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশরাফুজ্জামানের সামনেই সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি ও লাঠিচার্জ করে। এতে সাংস্কৃতিক জোটের একজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের নারায়ণগঞ্জ ২০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনা তুলে ধরেন। কিন্তু পুলিশ পারভেজের কাছে কোন অস্ত্র পায়নি বলে সাংবাদিকদের জানালেও ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পুলিশ অস্ত্রসহই পারভেজকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
সন্ত্রাসী ক্যাঙ্গারু পারভেজের বিরুদ্ধে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা আগে শনিবার সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক জোটের এক কর্মীকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
প্রেস ক্লাবে রফিউর রাব্বি সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবুর চেম্বার তছনছ এবং একই দিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক কর্মী শুভ্রদেবকে ক্যাঙ্গারু পারভেজ কর্তৃক অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় রোববার বিকালে সাংস্কৃতিক জোট শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। প্রতিবাদ সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন বক্তব্য দেওয়ার সময় সন্ত্রাসী ক্যাঙ্গারু পারভেজ তার ৩-৪ জন সহযোগীসহ শহীদ মিনারের বেদির সামনে এসে বলতে থাকে, দেখ ক্যাঙ্গারু পারভেজ এসেছে, পারলে কিছু কর। ওই সময় জেলা কৃষক লীগের সভাপতি রোকন উদ্দিন শহীদ মিনারের বেদি থেকে নেমে এসে পারভেজকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন পারভেজ রোকন উদ্দিনের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয় এবং একপর্যায়ে প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে শহীদ মিনারের বেদিতে থাকা রফিউর রাব্বির দিকে তাক করে। সে সময় শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশের কোনায় এসআই কালাম এবং এএসআই শহীদুলসহ বেশ কয়েকজন কনসটেবল কর্তব্যরত ছিলেন। কিন্তু পারভেজের কর্মকাণ্ডের সময় পুলিশ নীরব ছিল।
পারভেজ পিস্তল বের করলে ওই সময় সাংস্কৃতিক জোটের নেতা-কর্মী এবং সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ জনগণ পারভেজকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। তখন পুলিশ দ্রুত এসে পারভেজকে অস্ত্রসহ আটক করে নিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ শহীদ মিনার থেকে পারভেজকে নিয়ে বের হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা সন্ত্রসী পারভেজকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। ওই সময় পুলিশের একটি দল পারভেজকে নিয়ে থানার দিকে এবং অপর একটি দল শহীদ মিনারের ভেতরে প্রবেশ করে নির্বিচারে সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি ও লাঠিচার্জ শুরু করে।  পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জে সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা হতভম্ব হয়ে পড়ে। এতে জেলা সিপিবির যুগ্ম সম্পাদক রবীন্দ্র দাস, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীতের অমল আকাশ, গণসংগীত আন্দোলনের তরিকুল সুজন ও অঞ্জন দাস, সাংস্কৃতিক কর্মী শ্যামল দাস, স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক বিশ্বজিৎ দাসসহ ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী সাংস্কৃতিক কর্মীও রয়েছেন।
এদিকে ক্যাঙ্গারু পারভেজকে অস্ত্রসহ আটককারী এসআই কালাম সাংবাদিকদের বলেন, তাকে আটকের সময় তার কাছ থেকে কোন অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, পারভেজকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে কেউ কেউ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। আহতদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ২৫ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পারভেজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তবে শহীদ মিনারে কি ঘটেছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট