Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রানার চাপে বাধ্য হয়েছি কারখানা খুলতে, রিমান্ডে গার্মেন্ট মালিক

গ্রেপ্তার হওয়া রানা প্লাজার দুই গার্মেন্ট মালিক জানিয়েছেন, রানার চাপেই তারা বাধ্য হয়ে গার্মেন্ট খুলেছিলেন। ওইদিন কারখানা খোলার বিষয়ে রানা বলেছিলেন, কোনভাবেই গার্মেন্ট বন্ধ রাখা যাবে না। হরতালের দিন গার্মেন্ট বন্ধ রাখলে নেগেটিভ ইমপেক্ট পড়বে। তাই গার্মেন্ট খোলা রাখতে হবে। হরতালবিরোধী মিছিলে গার্মেন্ট শ্রমিকদের অংশ নিতে হবে। ইউএনও-এর সামনেই এসব কথা বলেছিলেন রানা।
মালিকরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সব কাজেই ভাগ দিতে হতো সোহেল রানাকে। অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাকে ছাড়া কোন কাজই করা যেত না। আমরা তার কাছে ছিলাম জিম্মি। তাকে নিয়ে মানসিক টেনশনে থাকতাম সার্বক্ষণিক বিভিন্ন সময় তাকে দিতে হতো ডোনেশন। জোর করে সে নিয়েছে জুট ব্যবসা। শ্রমিকদের টিফিনেও ভাগ বসিয়েছেন রানা। আমরা নিজেরাই শ্রমিকদের টিফিনের ব্যবস্থা করতে পারি। তারপরও তিনি টিফিন লিজ নিয়েছেন। জনপ্রতি শ্রমিকের টিফিন ছিল ১০ টাকা করে। টাকা মেরে দেয়ার কারণে শ্রমিকরা ঠিকমতো টিফিন পেতো না। পরে আরও ৫ টাকা করে বাড়িয়ে ১৫ টাকা করেছি। এরপরও টিফিনের মান বাড়েনি। টিফিন বাবদ শ্রমিকদের একটি কলা আর একটি বিস্কুট দেয়া হতো। গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউওয়েভ স্টাইল এবং নিউওয়েভ এ্যাপারেলস-এর চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান তাপস এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুস সামাদ আদনান পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। অপরদিকে গ্রেপ্তারকৃত সাভার পৌরসভার ২ প্রকৌশলী নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন। এদিকে গতকাল গার্মেন্ট কর্মকর্তাদের ১২ দিন এবং প্রকৌশলীদের ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে নেয়ার আগে তারা প্রাথমিক জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের কাছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, রানা প্লাজায় ফাটল দেখা দেয়ার পর মঙ্গলবার সাভার থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গিয়ে ভবনের ফ্লোরগুলো খালি করে দেয়। ওসি আসাদুজ্জামান ভবন মালিককে নির্দেশ দেন- যথাযথ প্রকৌশলীকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া যেন ভবনের ভেতর কোন লোক প্রবেশ না করে। তিনি এ নির্দেশ দিয়ে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ফেলেন ভবন মালিক সোহেল রানা। পরে সোহেল রানা তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবকে ভবনে নিয়ে আসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে সোহলে রানা গার্মেন্ট মালিকদের বলেন, ওরা ইঞ্জিনিয়ার। ভালভাবে ভবন পরীক্ষা করেছে। ১০০ বছরেও ভবনের কিছু হবে না। হাওমাও করে কাঁদতে কাঁদতে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানায়, শ্রমিকদের কাজের ওপর আমাদের সমৃদ্ধি নির্ভর করে। আমরা কি জেনেশুনে ডেকে এনে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি? পুলিশ জানায়, হরতালের দিনে হরতালবিরোধী মিছিলের জন্য প্রতিদিন সকালে রানা প্লাজার নিচে অনেক লোক জড়ো হয়। মঙ্গলবারও হয়েছিল। রানা হরতালবিরোধীদের নিয়ে প্লাজার আন্ডারগ্রাউন্ডে মিটিং করছিলেন। ওই সময় ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। পুলিশ আরও জানায়, হরতাল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরাও হরতালের দিন রানা প্লাজার নিচে থাকে। ঘটনার দিনও ব্যতিক্রম ঘটেনি। পিকেটিংয়ের খবর পেয়ে ঘটনার ৫ মিনিট আগে ওই পুলিশ সদস্যরা পাশের গলিতে ঢোকে। এ কারণে রক্ষা পায় পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ আরও জানায়, নিউওয়েব স্টাইল এবং নিউওয়েভ এ্যাপারেলস-এর চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান তাপস এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুজ সামাদ আদনানকে শুক্রবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সাভার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এমতেমাম হোসেনকে মহাখালী এবং সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলম মিয়াকে সাভার থেকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে নিজ বাসা থেকে আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মহাখালীস্থ মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পাশ থেকে ভোরে গ্রেপ্তার করা হয় এমতেমামকে। এমতেমামের স্ত্রী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমতেমাম স্ত্রীকে দেখে হাসপাতাল থেকে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ক্ষেত্রে আগে আলম মিয়াকে দিয়ে ফোন করানো হয়েছিল। আলম পুলিশ হেফাজতে থেকে মোবাইল ফোনে এমতেমামকে বলেছিল- স্যার, একটি জরুরি ফাইল আছে। ডিসি অফিস থেকে তদন্ত দল এসেছে। এখনই সই করা না হলে বিপদে পড়ে যেতে হবে। এমতেমাম এ কথা শোনার পর আলমকে মহাখালীতে ফাইল নিয়ে আসতে বলে। পরে সেখানে ওঁত পেতে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে রাজউক এবং পুলিশের দায়ের করা পৃথক ২টি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। উভয় মামলাতেই রিমান্ড চেয়ে গতকাল তাদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাপস এবং আদনানকে ৬দিন করে ১২ দিন এবং এমতেমাম ও আলম মিয়াকে ৪ দিন করে ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেয়। গ্রেপ্তারকৃত পৌর কর্মকর্তারা পুলিশকে জানায়, ভবনে ফাটল দেখা দেয়ার কথা মঙ্গলবারই শুনেছি। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিইনি। বুঝতে পারিনি- এত বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। এ কারণে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়নি। ভবন ধসে পড়ার পর ঘটনার ভয়াবহতার কথা শুনে ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, সেখানে গেলে জনরোষে পড়তে পারি। এ কারণে ঘটনার পর সেখানে যাইনি।
ওদিকে শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ থেকে রানার দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশ। এরা হলো- রানার প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সুমি এবং রানার ভগ্নিপতি মোমেন মীর। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, রানার ২ আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাদেরকে কোন মামলায় আসামি করা হয়নি। গ্রেপ্তারও দেখানো হয়নি। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেপ্তারে বহুমুখী চেষ্টা চলছে। কয়েকটি দল মাঠে রয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আমাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এবং আটককৃতরা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে থাকলেও আমাদের হেফাজতে আছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট