Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লাশগুলো পরিচয়হীন

বুধবার সকাল ৯টার আগেও তাদের পরিচয় ছিল। ছিলেন সতেজ প্রাণ। মুহূর্তের ব্যবধানে সেই প্রাণগুলো ঝরে যায় ভবন ধসে। উদ্ধার করা হয় মৃতদেহ। উদ্ধারের দুই থেকে তিন দিন ধরে এসব লাশ বেওয়ারিশ। সারি সারি স্বজন আসছেন। খুঁজছেন প্রিয়জনের মুখ। এসব লাশের মুখও দেখছেন তারা। কিন্তু কারোরই পরিচিত নয় এ মুখগুলো। তাই পড়ে আছে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। শরীর ফুলে বিকৃত হয়ে গেছে। চেনার উপায় নেই  অনেককে। কোন কোন লাশ উদ্ধারের পর ৩ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের বেশি সংখ্যক রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গে। আপনজনরা এখানেও আসছেন। দেখছেন। স্বজনের সন্ধান না পেয়ে আবার ফিরে যাচ্ছেন।
ঢামেকের মর্গের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মূল মর্চুয়ারির দরজা খুললেই দেখা যায় কয়েকটি লাশ চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। প্রথম দেখাতে মনে হয় যেন দরজার বাইরের দিকেই তাদের দৃষ্টি। ‘রানা প্লাজা’র দেয়াল আর পিলারে পিষ্ট হওয়া থেকে মুক্তি পেলেও এখন মর্গের চার দেয়ালের ভেতরে তারা।
ঢামেকে স্থাপিত ঢাকা জেলা প্রশাসনের অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর আবুল ফজল জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত লাশ এসেছে ৪০টি। লাশগুলোতে পচন ধরায় সাভারের অধর চন্দ্র হাইস্কুল ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ১১টি লাশ শনাক্ত করতে পেরেছেন স্বজনরা। তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৯ মরদেহ রাখা হয়েছে মর্গে। তাদের কোন পরিচয় ও আত্মীয়-স্বজন না পাওয়ায় হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। হস্তান্তরের সময় দাফন-কাফনের জন্য প্রত্যেককে দেয়া হচ্ছে নগদ ২০,০০০ টাকা করে। মীর আবুল ফজল বলেন, ঢামেকে ৪০টি লাশ রাখার সুযোগ রয়েছে। এর চেয়ে বেশি এলে সেগুলোকে মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। সাভারে উদ্ধার অভিযান চলা পর্যন্ত লাশ সংরক্ষণ কর হবে।
গতকাল দুপুরে ঢামেকের মর্গে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে যান অনেকেই। তারা সবাই সাভারের সবগুলো হাসপাতাল খোঁজা শেষে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে স্বজনদের  খোঁজ করছেন। চষে বেড়াচ্ছেন এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে। যেখানেই শুনছেন লাশ বা আহতদের নেয়া হয়েছে তারা ছুটে গেছেন সেখানে। ঢামেকে লাশ আনার খবর পেয়ে তারা ছুটে এসেছেন এখানে। কিন্তু কোথাও হদিস পাননি। তাদের হাতে রয়েছে আপনজনের ছবি। আইডি কার্ড। কারও কাছে কিছুই নেই। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ছবি দেখাচ্ছেন। আকুতি জানাচ্ছেন সন্ধানের। আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা- আপনজনদের ফিরে পাবেন এই প্রত্যাশায়। ঢামেক মর্গে সন্ধান মিলেছে একজনের। কিন্তু একই পরিবারের আরেকজন নিখোঁজ। খালার লাশ শনাক্ত করা গেলেও সন্ধান মিলেনি বোনঝি রাবেয়ার। তার ভাগ্যে কি ঘটেছে তাও জানেন না স্বজনরা। খালা রহিমার লাশ শনাক্ত করেন স্বামী ইদ্রিস। আর রহিমার বোনঝির সন্ধানে এখনও ছুটছেন ছোটভাই কালাম। খালার লাশ নিতে এসে সে বোনের জন্য আর্তনাদ করছে। তার সঙ্গে মর্গে এসেছেন রহিমার বোন ও রাবেয়া খালা মিনা বেগম। শোকে কাতর ইদ্রিস কিছুই বলতে পারছিলেন না। বললেন, সকালে কোন কথাও বলতে পারলাম না। অথচ প্রতিদিন বলে যেত বাচ্চাদের দেখো। কাজে গেলাম। হয়তো আর ফিরবে না বলেই না বলে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে রহিমা। এখানে নিখোঁজ মমতা আক্তারের ছেলে মাহফুজুর রহমান, পিয়ারা বিবির দেবরের ছেলে আবদুল হালিম এসেছিলেন স্বজনের  খোঁজে। তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে হাসপাতাল আর রানা প্লাজা চষে বেড়াচ্ছেন তারা। কিন্তু কারও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। শাহাদাত এসেছেন বোনের ননদ লতিফা আক্তার আর শরিফা বেগমে খোঁজে। কিন্তু লাশের বিকৃত মুখ দেখে চিনতে পারছেন না এদের কেউ তাদের আপনজন কি না। এভাবে চিনতে না পেরে অনেকেই ফেরত যাচ্ছেন মর্গ থেকে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট