Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এমপির আশ্রয়েই বেপরোয়া রানা

সাভারের এমপি মুরাদ জং ও যুবলীগ নেতা সোহেল রানা এখন দেশজুড়ে আলোচিত। এমপির আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছিল রানা। এমপিই ছিল তার ভরসা। এমপির ডানহাত বলে পরিচিত রানা হিন্দু সম্পত্তি দখল করে ‘রানা প্লাজা’ নির্মাণ করে। বেপরোয়া হয়ে ওঠে সে। বেপরোয়া সোহেল রানার ভবনের ফ্লোর ভাড়া নিয়ে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি করেছিলেন আরও কয়েক ডলার লোভী। মালিক পরিচয়ের ওই কয়েকজনের মিলিত অপকর্মে জীবনের তাগিদে এসে জীবন বিসর্জন ও মরদেহ হয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরে যেতে হলো শত শত হতভাগ্য দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের। এ আর কিছু নয়, সভ্য জগতের অসভ্য মনুষ্যসৃষ্ট এক মানবিক বিপর্যয়। ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ করতে চায়নি শ্রমিকরা। তাদেরকে জোর করে ভবনে প্রবেশ করানো হয়। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া একজন শ্রমিক বলেছেন, ভবনের মালিক অন্যদিন সকালে সেখানে না থাকলেও ওইদিন সকালে উপস্থিত ছিলেন কেবলমাত্র শ্রমিকদের জোর করে ভবনে প্রবেশ করানোর জন্য। রানা একা ছিলেন না, তিনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন তার বিশাল এক ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনী। হঠাৎ দুনিয়াময় আলোচিত কে এই সোহেল রানা? সে আলোচনা এখন সর্বত্র।
সাভারের মানুষ সোহেল রানাকে চেনে খালেক কলুর ছেলে হিসেবে এবং হঠাৎ গজিয়ে ওঠা যুবলীগ নেতা বলে। আদি বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মণ্ডপ গ্রামে। মাত্র দুই দশক আগে কপর্দকহীন খালেক কলু গ্রামের ভিটেমাটি ছেড়ে সন্তানদের আহার যোগাতে সাভারে এসে নামাপাড়ায় তেল ভাঙিয়ে বিক্রির কাজ শুরু করেন। সে সময় তার তেল ভাঙানো ও বিক্রির কাজের সহযোগী ছিল রানা। ধীরে ধীরে ডানপিটে রানা সন্ত্রাসী দলে ভিড়ে সাভারের ঝুট ব্যবসায় হাত লাগিয়ে বিত্তের মালিক হতে থাকে। নাম লেখায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। সাভারে তার গড়ে উঠে সন্ত্রাসী চক্র। অদৃশ্য শক্তির বলে রাতারাতি রানার ঘরে জমতে থাকে অবৈধ টাকার পাহাড়। রানার পরিচিতি হয়ে উঠে ভূমিদস্যু হিসেবে। সাভারে একের পর এক উঠতে থাকে বহুতল ভবন। ৯ তলা রানা প্লাজা। ৯ তলা রানা টাওয়ার এবং ৫ তলা বসতবাড়ি। সাভার পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় সাভার পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক। সাভারের এমপি মুরাদ জংয়ের নিকটজন তিনি। সাভার বাজারে পা রাখলেই দেখা যায় রানার ছবি দিয়ে মুরাদ জংকে স্বাগত জানিয়ে রং বেরঙের পোস্টার। এমপি মুরাদ জংয়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রভাগে রানার শত শত ছবি ধারণ করা আছে মিডিয়াকর্মীদের কাছে। বিত্তের জোরে রানা ডেকে ফেলেছিলেন তার অতীত। সোহেল রানা আওয়ামী লীগের পরিচয়ে রাজনীতি করলেও তার রানা প্লাজা নির্মিত হয়েছে একজন হিন্দু লোকের সম্পত্তি দখল করে। নারায়ণ চন্দ্র ওরফে পাগলা নামের ওই লোকটিই আসলে জমির মালিক। তাকে অবৈধভাবে হটিয়ে দিয়ে জমিটি দখল করে ভবন নির্মাণ করে রানা। কাগজ-কলমে রানার নামে কোন অভিযোগ না থাকলেও সাভারের তিনটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঘুরে ফিরে উচ্চারিত হয় তার নাম। ধসেপড়া ভবনের মালিক রানা ঘটনার দিন সাভারের এক সাংবাদিককে ফাটলের বিষয়ে বলেছিলেন, বাঙালিরা তিলকে তাল করে। ওই সাংবাদিকের কাছে ধারণ করা আছে সোহেল রানার বক্তব্য। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া একাধিক শ্রমিক বলেছেন, শ্রমিকরা ভবনে যেতে না চাইলে নিচে দাঁড়িয়ে থেকে রানা বলেছিলেন, ভবনে কিছু হয়নি, কেবল প্লাস্টারে ফাটল ধরেছে।
রানা প্লাজা ভাড়া নিয়েছিল চারটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি। ওই সব ফাক্টরির মালিকরা শ্রমিক নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করতো রানাকে। দুর্ঘটনার দিনেও তারা রানাকে ব্যবহার করে শ্রমিকদের জোর করে প্রবেশ করিয়েছে। নিউওয়ে বটমস, নিউওয়ে স্টাইল, ফ্যান্টম এ্যাপারলেস, ফ্যান্ট ট্যাক ও ইয়ার ট্যাঙ্গ নামের পাঁচটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ছিল সেখানে।
দুর্ঘটনার পর রানা প্লাজার কোন গার্মেন্ট মালিক যোগাযোগ করেনি বিজিএমইর সঙ্গে।
বিজিএমইএ এই মালিকদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ঘেঁটে কারখানাগুলোর মালিকানা ও অন্যান্য কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, কারখানাগুলোর মধ্যে নিউওয়েভ বটমস ও নিউওয়েভ স্টাইলের মালিক এই লোকেরা। ৪৫, কল্যাণপুর ঠিকানা লেখা নিউওয়েভ অ্যাপারেলস নামে একটি গার্মেন্টের কয়েকজন মালিক মিলে এই কারখানা দুটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে কারখানা দুটি ছিল মিরপুরের ১৪নং সেকশনে। পরে তা সরিয়ে সাভারের রানা প্লাজায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে ফ্যান্টম অ্যাপারেল ও ফ্যান্টম ট্যাকের মালিক একই লোক।
নিউওয়েভ বটমস লিমিটেড নিবন্ধিত হয় ২০০৭ সালে। পাঁচ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান এর শেয়ারের মালিক। মালিকদের মধ্যে আছেন বজলুস সামাদ (চার হাজার শেয়ার), মাহমুদুর রহমান (তিন হাজার শেয়ার), দেলোয়ার আহমেদ (তিন হাজার শেয়ার), এ আর আইয়ুব হোসেন (১০ হাজার শেয়ার), দেলোয়ার হোসেন (১০ হাজার শেয়ার) ও নিউওয়েভ স্টাইল লিমিটেড (৭০ হাজার শেয়ার)। মালিকদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
নিউওয়েভ স্টাইল নিবন্ধিত হয় ২০০২ সালে। তিন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান এর শেয়ার মালিক। মালিকদের মধ্যে আছেন মাহমুদুর রহমান (৩০ হাজার ৭৫০টি শেয়ার), দেলোয়ার আহমেদ (৩০ হাজার ৭৫০টি শেয়ার), বজলুস সামাদ (৪১ হাজার শেয়ার) ও নিউওয়েভ অ্যাপারেল (৭৫০০ শেয়ার)। প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০০ টাকা। মাহমুদুর রহমান মালিকদের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
ফ্যান্টম অ্যাপারেলস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর চেয়ারম্যান হিসেবে বিজিএমইএ’র ডিরেক্টরিতে আমিনুল ইসলামের নাম আছে। এটি নিবন্ধিত হয় ১৯৯৪ সালে। জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানের মালিকরাই পরে ফ্যান্টম ট্যাক নামের একটি কারখানা গড়ে তোলেন। ফ্যান্টম ট্যাক নামের প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে নিবন্ধিত হয়। এটি বাংলাদেশের ফ্যান্টম অ্যাপারেলস ও স্পেনের টেংটাইল অডিট কোম্পানি এসএলের যৌথ মালিকানা প্রতিষ্ঠান। আমিনুল ইসলাম (৫৫০ শেয়ার), এবিএম সিদ্দিক (৫৫০), সুরাইয়া বেগম (৫৫০), ডেভিড মেয়র (৬৮৮টি শেয়ার) ও আমিরুল ইসলাম মাহমুদ (৪১২টি শেয়ার) এর মালিক। এর প্রতিটি শেয়ারের দাম এক হাজার টাকা। ঈথার টেঙ্‌ লিমিটেডের মালিক তিনজন। তিনজনেরই ৬৫০০টি করে শেয়ার আছে, যার প্রতিটির মূল্য ১০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন আনিসুর রহমান। মো. নজরুল ইসলাম ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আর জান্নাতুল ফেরদৌস ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ২০০৮ সালে এটি আরজেএসসিতে নিবন্ধিত হয়। এই পোশাক কারখানাটির বিদেশী ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ওয়ালমার্ট, কানাডার অ্যাটলান্টিক স্পোটর্সওয়্যার, জার্মানির সিএন্ডএ, ফ্রান্সের ফ্রান্স ডেনিমসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ আছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট