Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ব্যাংক থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার: মুহিত


ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, “বর্তমান সরকার গত তিন বছরে (২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত) কেন্দ্রীয় ও তফশিলি ব্যাংক থেকে ৪৩ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।”

বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত জয়নুল আবেদিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান। এর আগে স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওই ঋণের মধ্যে গ্রস ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ ৭৯ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা এবং ঋণ পরিশোধের পরিমাণ তিন লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ কোটি টাকা।”

এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের নেয়া নীট ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নেয়া নীট ঋণ প্রায় পাঁচ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণগ্রহণের ফলে বেসরকারিখাতে ঋণের প্রবাহ ব্যহত হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিধারার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেসরকারিখাতে ব্যাংক থেকে ঋণ প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪.৭৬ শতাংশ, যা ২০১০-১১ অর্থবছর শেষে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩৯ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ২৩.৯ শতাংশ ধার্য করা হলেও অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রেখে এ খাতের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল ২২ শতাংশ। এথেকে প্রতীয়মান হয় যে, অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে লিকুইড মানির কোনো ঘাটতি নেই। তবে সুব্যবস্থাপনার অভাবে কোনো কোনো ব্যাংক আবশ্যকীয় নগদ জমা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে, যা চলমান সংযত মুদ্রানীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

মন্ত্রী সংসদকে আরো জানান, লিকুইডিটি চাপকে প্রশমনের জন্য চাহিদার যথার্থতা বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোকে রেপো, স্পেশাল রেপো ও লিকুইডিটি সাপোর্ট আকারে লিকুইডিটি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে কলমানি সুদ হার ডাবল ডিজিটে থাকলেও এখনো গড়ে তা ২০ শতাংশের নীচে রয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরো যৌক্তিক হারে নেমে আসবে বলে আশা করা যায়।

অপু উকিলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সুদ বাবদ ১০৪.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ৮৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২০১.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ এক হাজার ৪২৭ কোটি সাত লাখ টাকা। দুই দশক আগে অর্থাৎ ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪১.১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ৬৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, আগামীতে দেশকে সাত থেকে আট শতাংশ বা এর অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)’র শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব হতে এ পরিমাণ বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। তবে জাতীয় আয়ের হিস্যা হিসাবে সাহায্যের পরিমাণ অনবরত কমছে। ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে প্রাপ্ত সাহায্য ছিল ১১.১৭ শতাংশ, গত অর্থবছরে যা ছিল ১.৬৭ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ২২.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জিডিপি’র মাত্র ২২.৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতির পরিমাপক সূচকের সকল সূচক ঋণ নির্ভরশীল পরিস্থিতির তুলনায় অনেক নীচে। সে কারণে বাংলাদেশকে কম ঋণী দেশ বলা হয়।’’

বাংলাদেশকে কোনোভাবেই বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে গণ্য করা হয় না উল্লেখ করে মন্ত্রী সংসদে জানান, উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বাংলাদেশ এ ধরনের বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী। কারণ উন্নত দেশগুলো তাদের জাতীয় আয়ের ০.৭ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য হিসাবে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। নমনীয় বৈদেশিক ঋণগ্রহণের মাত্রা কমালে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের হার বৈদেশিক ঋণের সুদের হারের তুলনায় অনেক বেশি। তবে বৈদেশিক ঋণ যাতে আমাদের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি না করে, তা নিশ্চিত করতে জন্য বাংলাদেশ অনমনীয় ও বাণিজ্যিক ঋণগ্রহণ পরিহার করে থাকে।

হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নীট ৩৮ হাজার ৯৮৭ কোটি আট লাখ টাকা আয় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর আগে অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৫৮৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রসঙ্গে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন-১৯৯১ সংস্কারের কাজ চলছে। আশা করা যায় আগামী পহেলা জুলাই থেকে নুতন মূসক আইন ও বিধিমালা কার্যকর করা সম্ভব হবে। এতে প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অধিক রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


3 Responses to ব্যাংক থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার: মুহিত

  1. mainul

    February 15, 2012 at 11:27 pm

    i ask to finance ministry by bd news .when dollar prize reduce against our money……………can any body tell me .and y increased dollar rate against our money .

  2. sikiş izle

    March 13, 2012 at 9:33 am

    I was seeking for this great sharing admin very much thanks and have great blogging bye

  3. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:13 pm

    Actually vital put up admin great 1 i bookmarked your web page see you in future blog site put up.