Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

সাভার: সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজায় উদ্ধার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ সরকারের উদ্ধার কাজ নিয়ে ক্ষোভ থাকায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক নুরুল হক দাবি করেছেন, এত বড় বিপর্যয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর মতো সরঞ্জাম তাদের নেই৷

একুশে টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা৷ বুধবার সকালে রানা প্লাজা ধসের সময় থেকেই তিনি সেখানে রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ করছেন৷ বৃহস্পতিবার তিনি ধসে পড়া ভবনের ভিতরে ঢুকে সেখানে আটকে পড়া জীবিত কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নেন৷

তাদের শরীরের একাংশ আটকে ছিল৷ হয়তো এখনও আছে৷ সেই অবস্থাতেই তারা উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে নাজমুলের সঙ্গে কথা বলেন৷ কিন্তু নাজমুল বেদনায় নীল হয়ে যান৷ কারণ তাদের হয়তো শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা যাবে না৷ উদ্ধারকারীরা নজমুলকে জানিয়েছেন, তাদের উদ্ধার করতে গেলে আবার ধস নামতে পারে৷ তাতে আরো সমস্যা হতে পারে৷

আরেকজন সাংবাদিক জুলহাস কবির জানান, এ রকম আরো অনেক আটকে পড়া মানুষ ভেতর থেকে তাদের উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন৷ তাদের বাইরে থেকে দেখাও যাচ্ছে, কিন্তু উদ্ধার করা যাচ্ছে না৷ এই দু’জন সাংবাদিক জানান, সরকারের উদ্ধারকর্মীদের চেয়ে সাধারণ মানুষ বেশি তৎপর৷ তারাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে যেভাবে পারছেন আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন৷

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং বিজিবি অংশ নিচ্ছে৷ নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হাসান সোহরাওয়ার্দি শুক্রবারের মধ্যে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান শেষ হবে বলে জনিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এ রকম দুর্ঘটনায় মানুষ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে৷ আর সেই ৭২ ঘণ্টা শেষ হবে শুক্রবার বিকেলে৷ তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য আধুনিক সব সরঞ্জাম তাদের আছে৷ তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক নুরুল হক দাবি করেছেন যে, তাদের আধুনিক সরঞ্জাম নেই৷

অবশ্য ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক সেলিম নেওয়াজ ভু্ইঁয়া বলেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন আছে সত্য, তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঝুঁকি নেয়া৷ তিনি নিজে তেজগাঁর ফিনিক্স ভবন এবং সাভারে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধসের উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন৷ তার আলোকে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ উদ্ধার অভিযানে এগিয়ে আসে৷ এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করার পর, সাধারণ মানুষকে বিরত রাখতে হয়৷ কারণ তখন একটি সুশৃঙ্খল এবং সমন্বিত উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়৷ অথচ সাভারের রানা প্লাজার উদ্ধার অভিযান দেখে পরিকল্পনার অভাব ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে৷ উদ্ধারকর্মীরা যেন সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করে বসে আছেন৷ তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসে আধুনিক সরঞ্জাম নেই একথা পুরোপুরি সত্য নয়৷ কয়েক মাস আগেও ২০০ কোটি টাকার উদ্ধার সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল৷ সেগুলোর অনেক সরঞ্জামই এবার ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না৷

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ২৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷ ভবন ধসের সময় ভবনে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ ছিলেন৷ উদ্ধাকারীরা ভবনের সাত তলা থেকেই বেশি লাশ উদ্ধার করেন৷ কিন্তু বাকি তলাগুলোতে যারা ছিলেন তারা ভবনসহ দেবে গেছেন৷ তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি৷ আর ভবনের পেছনের দিকে উদ্ধারকারীরা একেবারেই তৎপর নন৷ সাংবাদিক আর সাধারণ মানুষ সেখানে ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করছেন৷ জানাচ্ছেন আটকে পড়া মানুষের বেঁচে থাকার আঁকুতি৷ এমনকি রুমের মধ্যেও লোকজন আটকে আছেন৷ কিন্তু উদ্ধারকর্মীরা সেখানে যাচ্ছেন না৷ সেলিম নেওয়াজ ভুঁইয়া বলেন, এখানেই প্রয়োজন উদ্ধারকর্মীদের সাহস আর ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতা৷

আগেই ফাটল দেখা দিয়েছিল
বুধবার সকাল ৯ টায় সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত নয় তলা ‘রানা প্লাজা’ ধসে পড়ে৷ সাভার মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সকালে ফাটল দেখা দেয়ার পরপরই ওই ভবনে থাকা চারটি গার্মেন্ট কারখানা ও ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল৷ তবে বুধবার সকালে কারখানায় আবার কাজ শুরু হয়৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট