Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ সংবর্ধিত

ঢাকা: কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট ইন করা। শার্টের সবচেয়ে উপরে গলার কাছের বোতামটিও লাগানো এবং যথারীতি পায়ে স্যান্ডেল; এই বেশেই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ।

আজীবন সাদাসিধে জীবন-যাপন করা এই মানুষটিকে মঙ্গলবার সংবর্ধনা দিল জাতীয় সংসদ সচিবালয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হবার পরেও পোশাকে কিংবা আচার-আচরণে এতটুকু বদল নেই। বললেন, দেশের ক্রান্তিকালে রাষ্ট্রপতি হয়েছি। জানি না কতটুকু কী করতে পারব। তবে ইজ্জত নিয়ে যাতে কাজ করতে পারি এবং বিদায় নিতে পারি, তার জন্য  মহান আল্লাহর এবং আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।

২০১৩ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বাধীনতা পদক পাওয়ায় আবদুল হামিদের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংসদ সচিবালয়, সংসদ ভবনের এলডি হলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বক্তারা সবাই আবদুল হামিদকে ‘ভূমিপুত্র’ উল্লেখ করে বলেন, দেশের মানুষ এই প্রথম একজন সত্যিকারের মাটির মানুষকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেল। তারা সবাই দেশের সাম্প্রতিক অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আবদুল হামিদ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় আবদুল হামিদকে সংসদ সচিবালয়, সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংসদ সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। আবদুল হামিদের জন্য সম্মাননাপত্র পাঠ করেন সংসদ সদস্য এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তার বক্তৃতায় বলেন, “দেশের অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।” ‘সামনে কেবলই অন্ধকার’ উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, নির্বাচন ছাড়া সরকারের পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই একটি সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে নতুন রাষ্ট্রপতি ভূমিকা রাখবেন, দেশের মানুষ এটাই প্রত্যাশা করে। তিনি সব দলকে ডেকে দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে একটি শান্তিপূর্ণ উপায় বের করার পরামর্শ দেন। এরশাদ বলেন, “আবদুল হামিদ স্পিকার থাকাকালীন যেমন সংসদ সদস্যদের হাসিয়েছেন, এবার তিনি দেশের মানুষকে হাসাবেন, তাদের আলোর পথ দেখাবেন- এটিই সবার প্রত্যাশা।”

দফতরবিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “সংসদের মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন শেষে দেশের অভিভাবকের দায়িত্ব পালনের যে বিরল সুযোগ আবদুল হামিদ পেয়েছেন, সেটি দেশের মানুষের জন্যও গর্বের।”

আবদুল হামিদকে ‘ভাটি বাংলার কৃতি পুরুষ’ উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, “সবাইকে নিয়ে চলার যে অদ্ভুত ক্ষমতা তার আছে, তা দিয়ে তিনি সত্যিকারার্থেই দেশের ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হবেন।” সব সমস্যা সমাধানে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবেন বলে সুরঞ্জিত আশা প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদও আবদুল হামিদকে ‘রাষ্ট্রের ঐক্যের প্রতীক’ উল্লেখ করে বলেন, “সব সময়ই তিনি নীতি আদর্শের কাছে যেরকম আপসহীন থেকেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও দেশের মানুষ তার কাছ থেকে সেরকম আপসহীনতা আশা করে।” সত্য বলতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে তিনি ভুল করবেন না বলেও তোফায়েল মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবদুল হামিদ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এটাই প্রত্যাশা।”

সবশেষে আবদুল হামিদ তার ২৫ মিনিটের বক্তৃতার অধিকাংশ সময়জুড়েই সংসদে তার ৪২ বছরের স্মৃতিচারণ করেন। আবেগাপ্লুত হয়ে এক পর্যায়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। বলেন, “৪২ বছরের স্মৃতিময় এই জায়গা ছেড়ে যেতে হচ্ছে, এটি বড়ই বেদনাদায়ক।” তবে রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি মাঝে মধ্যেই সংসদে চলে আসবেন বলে জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, সংসদ সচিবালয়কে তিনি একটা ‘সিস্টেমের’ মধ্যে নিয়ে এসেছেন। এখানে ১০০ ভাগ না হলেও অন্তত ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ দুর্নীতি দূর করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “জনগণের পয়সার যাতে অপচয় না হয়, সেজন্য আমি বরাবরই অর্থ খরচের ব্যাপারে কার্পণ্য করেছি। এজন্য অনেকে আমার সমালোচনাও করেছেন। কিন্তু আমি মনে করি, জনগণের পয়সার যথেচ্ছ ব্যবহারের অধিকার আমাদের কারোরই নেই।”

তবে সংসদ সচিবালয়ে যেরকম সব সময় অনেক মানুষ পরিবেষ্টিত থাকতেন, বঙ্গভবনে সেটি ‘মিস’ করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই একাকীত্ব আমাকে কষ্ট দেবে।”

তিনি আর নির্বাচন করবেন না উল্লেখ করে বলেন, “আমি সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এ আসনটি আর ধরে রাখার কোনো মানে হয় না। এখন নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট