Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রাজধানীর কাফরুলে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

রাজধানীর কাফরুলের পূর্ব কাজীপাড়ায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এ কে এম ফজলুল হক পাটোয়ারী বাবু (২৫) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা খুন হয়েছেন। তিনি ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কাজীপাড়ায় মিরপুর রোড অবরোধ করে। এ সময় তারা শতাধিক যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বেলা ২টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহত বাবুর বন্ধু জাহাঙ্গীর জানান, তাদের একটি সমবায় সমিতি আছে। বাবু ওই সমিতির সদস্য। গতকাল সকালে সে আমাকে ফোন করে সমিতির হিসাব নিয়ে কথা বলতে পূর্ব কাফরুলের ইটাখোলা বাজারে যেতে বলে। সোয়া ১১টার দিকে ইটাখোলা বাজারের সামনে একটি গ্যারেজে বসে কথা বলার সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে দুই মুখোশধারী এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়িভাবে গুলি চালায়। এসময় বাবু আত্মরক্ষার্থে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্যারেজে মেঝেতে ছটফট করতে থাকে। গুলির শব্দ শুনে গ্যারেজের কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বাবুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবুর পিতা হেদায়েতউল্লাহ পাটোয়ারী জানান, বাবু মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। স্থানীয় সন্ত্রাসী টিটুর সঙ্গে বাবুর মামাতো বোনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। বাবু এ বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছিল। তাছাড়া টিটু এলাকায় ছিনতাইকারী এবং মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মাসখানেক আগে স্থানীয় সালিশের পর টিটুকে পুলিশে তুলে দেয়া হয়। কয়েক দিন আগে সে জামিন পায়। আমার ধারণা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে টিটু সরাসরি জড়িত। বাবুর বন্ধু মাহমুদুন্নবী মামুন ওরফে লিটু জানান, বাবুর মামাতো বোন শিউলি আক্তার কাজীপাড়া এলাকায় মজিদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ কাঠা জমি কেনেন। টাকা পরিশোধের পর মজিদ জমি বুঝিয়ে দিচ্ছিল না। শিউলি জমির দখল নিতে পারছিলেন না। বিষয়টি সুরাহার জন্য মজিদের সঙ্গে বাবু কথা বলেন। এ নিয়ে মজিদের ছেলে টিটুর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুক, হাত মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫টি গুলি লাগে বাবুর গায়ে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে কাফরুল ও মিরপুর এলাকার ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক কর্মী ঢাকা মেডিকেলে ছুটে যান। তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল অভিযোগ করেছেন, গত সপ্তাহে কাফরুল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের একটি মেসে বাবুর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। কাফরুল থানার ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুর বন্ধু জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু অক্ষত রয়েছেন। ঘটনার পরপরই খুনিদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি বাবু হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিরপুর এলাকার সড়ক অবরোধ ও যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মীরা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় এসে জড়ো হয়। এরপর তারা আচমকা যানবাহনে ভাঙচুর শুরু করে। বাস, প্রাইভেটকার, হিউম্যান হলার, সিএনজিসহ শতাধিক যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতি করে। এ সময় আশপাশে পুলিশ থাকলেও তারা ভাঙচুর ঠেকাতে এগিয়ে যায়নি। যানবাহনে তাণ্ডবের পরে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে। ফলে থেমে যায় যানবাহন চলাচল। অবরোধের ফলে রাস্তায় আটকা পড়ে শ’ শ’ যানবাহন ও হাজার হাজার যাত্রী। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশ ও র‌্যাবের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা। তারা অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাতে থাকেন। পুলিশের মিরপুর জোনের ডিসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের আশ্বাসের পর দুপুর ২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে আবার যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট