Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কুমিল্লার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী : হরতালের নামে মানুষ খুনের দায় বিএনপি নেত্রী ও জামায়াতকে নিতে হবে

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত হরতালের নামে মানুষ খুন করছে। মানুষ খুন করাই বিএনপি-জামায়াত জোটের কাজ, দেশের মানুষ এখন আর তাদের চায় না। তারা মানুষ খুন, পুলিশ হত্যাসহ যানবাহনে পেট্রল ঢেলে চালকদের পুড়িয়ে মারছে। ফটিকছড়িতে দেখেছেন কীভাবে আক্রমণ করে হত্যা করেছে তারা। এখন আবারও হুমকি দিচ্ছে সারাদেশে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি নেত্রী যদি মনে করেন তিনি পার পেয়ে যাবেন সেটা হবে না। এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ভার বিএনপি নেত্রী ও জামায়াতকে নিতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করে রায় কার্যকর করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও এদেশের মাটিতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, রেলপথমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুল হক মুজিব এমপি, সাংস্কৃতিকমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, অধ্যাপক আলী আশ্রাফ এমপি, সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাডভোকেট, তাজুল ইসলাম এমপি, নাছিমুল আলম চৌধুরী এমপি, রবিউল মোক্তাদির চৌধুরী এমপি প্রমুখ। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া এমপি প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। দেশের মানুষ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলা হবে। এজন্য সরকারের উন্নয়ন ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রাখতে হবে এবং আওয়ামী লীগকে আবার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিতে হবে।
তিনি তার সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, রেল ব্যবস্থাসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু দিতে আসে, আর বিএনপি-জামায়াত নিতে আসে। সরকারে এসে ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছি। গত চার বছর ৬ ভাগের ওপর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। গোল্ড রিজার্ভ বৃদ্ধি করেছি। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। দেশের রিজার্ভ বর্তমানে ১৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা বাংলাদেশকে আজ শান্তির দেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষানীতিতে ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করে সার্বজনীন শিক্ষা চালু করা হয়েছে। চাকরিজীবীদের বেতন ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বাড়ানো হয়েছে। ৭৫ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান করা হয়েছে। জনশক্তি রফতানি সরকারিকরণ করে অল্প খরচে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ৪ হাজার ৫৮২টি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সুবিধা চালু করে গ্রামের জনগণের তথ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০ হাজার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতির কম্পিউটার শিক্ষা চালু করা হয়েছে। বিদ্যুত্ ও গ্যাসের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় আমরা ৪৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ রেখে যাই। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে একটি বাতি জ্বালানোর বিদ্যুত্ উত্পাদন করেনি। এবার ক্ষমতায় এসে ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাই। বর্তমানে বিদ্যুত্ ক্ষেত্রে উন্নয়ন করে ৬৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছি। তিনি বলেন, মুরাদনগরের শ্রীকাইলে বিএনপির সময় একটি কূপ খনন করে গ্যাস না পেলেও আমরা ক্ষমতায় এসে সেখানে পাশাপাশি দু’টি কূপ খনন করে গ্যাস পেয়েছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ৬ লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়াও তিনি নতুন করে আরও দুটি মেঘনা- গোমতী সেতু নির্মাণের জন্য জাপানের সঙ্গে চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।
বিকালে প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা টাউন হলের সভামঞ্চে যাওয়ার আগে ১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার ২৪টি প্রকল্পের কাজের ফলকের প্রতীকী উদ্বোধন করেন।
হতাশ কুমিল্লাবাসী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুমিল্লা সফরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘ ৪০ বছরের দাবি পূরণ করবেন। কুমিল্লাকে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিল কুমিল্লাবাসী। কুমিল্লা বিভাগ ছাড়াও কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু, কোটা প্রথা বাতিল, ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেলপথ, কুমিল্লা মহানগরীর কান্দিরপাড়ে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ, কুমিলা ভিক্টোরিয়া কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করাসহ বিভিন্ন দাবিও জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আধাঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে কোথাও কুমিল্লাবাসীর কোনো দাবি পূরণের ইঙ্গিত ছিল না। কুমিল্লা বিভাগ করার দাবিটি কুমিল্লাবাসীর বহু আকাঙ্ক্ষিত ও প্রাণের দাবি। যখনই প্রধানমন্ত্রী তার আধাঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য শেষ করলেন, তখনই মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিল। সবার একই কথা প্রধানমন্ত্রী কেন এমন করলেন, এভাবে কুমিল্লাবাসীকে নিরাশ না করলেই পারতেন। সবার মাঝেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা গেছে।
কুমিল্লা বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, আমরা হতাশ। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বৃহত্তর কুমিল্লাকে নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। আজ প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু আজ পুরোপুরি হতাশ হলাম।
মুরাদনগরে গ্যাসক্ষেত্র উদ্বোধন ও জনসভা : আমাদের মুরাদনগর প্রতিনিধি মুনরুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জেলার মুরাদনগরে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের গ্যাসকূপ খনন ও ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার আন্তঃসংযোগ পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী গ্যাসক্ষেত্রের পাশে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-আল রশীদের সভাপতিত্বে মুরাদনগরে আয়োজিত জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন এবিএম গোলাম মোস্তফা এমপি, মহিলা এমপি জোবেদা খাতুন পারুল, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী, অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি, সুবিদ আলী ভূঁইয়া এমপি, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসানসহ কুমিল্লা উত্তরের বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা স্বাধীনতার শত্রু, যারা এ দেশের মা-বোনদের ইজ্জত-সম্মান নষ্ট করেছে, যারা বাড়িঘর লুটপাট করে দখল করেছে তারাই যুদ্ধাপরাধী। বর্তমান সরকার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। সে লক্ষ্যে দেশবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে। আল্লাহর রহমতে ক্ষমতায় থাকতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সেই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। হরতাল দিয়ে আগুনে পুড়ে রিকশাওয়ালাসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। তাদের বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গ্যাস বিদেশে বিক্রি করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা ক্ষমতায় থাকতে কূপ খনন করা হয়েছেল। কিন্তু কোনো গ্যাসের সন্ধান পায়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফের কূপ খনন করে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। আওয়ামী লীগ যে কাজ করে সেটিতে সফলতা অর্জন করে। আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের অর্থ মানিলন্ডারিং করে বিদেশে নিয়ে যায়। তিনি অত্র এলাকায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গ্যাস এ দেশের সম্পদ, তাই দেশের চাহিদা শেষ করে ভবিষ্যতে সম্ভব হলে তা বিদেশে রফতানি করা করা যেতে পারে।
পরে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ১১টা ৩৮ মিনিটে কুমিল্লা নগরীর ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন এবং ১১টা ৪৫ মিনিটে নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে সোয়া ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপির সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাডভোকেট প্রমুখ। বক্তৃতা করেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এমপি, নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এমেরিটাস রফিকুল ইসলাম, কবি নজরুল পরিবারের সদস্য খিলখিল কাজী, নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক রশীদ হায়দার, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান প্রমুখ। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে কুমিল্লার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট