Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এবার মাঠে নেমেছে আহলে সুন্নাতপন্থীরা শনিবার লালদীঘিতে মহাসমাবেশ

চট্টগ্রাম: মহানবীর (সা.) অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে মহাসমাবেশ ডেকেছে আহলে সান্নাত ওয়াল জমা’আত। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের পর ইসলাম এবং নবী রাসুল অবমাননা ইস্যুতে সুন্নীয়ত ও তরিকতপন্থী হিসেবে পরিচিত ধর্মভিত্তিক আরো একটি সংগঠন এবার মাঠে নামল।

‘স্মরণকালের বৃহত্তম সুন্নী মহাসমাবেশ’ হিসেবে ঘোষিত এ সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক মাইকিং, পোস্টারিং ও মসজিদে মসজিদে বাদ জুমা লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

ভারতের দেওবন্দী তরিকার কওমি আলেম-ওলামা এবং কট্টর জামায়াত-শিবির বিরোধী হিসেবে পরিচিত মূলত চট্টগ্রামভিত্তিক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের রয়েছে মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

তবে এ মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত এবং হেফাজতে ইসলামসহ কোনো পক্ষ থেকেই এ পর্যন্ত পক্ষে-বিপক্ষে কোনো মন্তব্য অথবা তৎপরতা দেখা যায়নি।

সংগঠনের সদস্য সচিব মওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী শুক্রবার নতুন বার্তা ডটকমকে জানান, মহাসমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে দাবি করে তিনি বলেন, “মহাসমাবেশে ১০ লাখ সুন্নি মুসলমান অংশ নেবে বলে আমরা আশা করছি।”

তিনি জানান, দুপুর দু্ইটা থেকে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়ে মাগরিব পর্যন্ত চলবে। তবে সকাল থেকে কর্মী সমর্থকরা লালদীঘি মাঠে অবস্থান নেবেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হলেও তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার থেকে সংগঠনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেবেন। প্রত্যেক উপজেলা ও থানা থেকে গাড়িতে করে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াতের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মহাসমাবেশের বাজেট ও অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি জানান, সংগঠনের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রচার-প্রচারণা ও পোস্টারিংয়ের জন্য সামান্য খরচ বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকি খরচ সুন্নি মুসলমানেরা নিজ উদ্যোগে যোগান দিচ্ছেন।

পাকিস্তান থেকে প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিল উপলক্ষে আগত পীর মরহুম আল্লামা তৈয়ব শাহ (রা.) ও পরবর্তী সময়ে তার স্থালাভিষিক্ত ছেলেদের পৃষ্ঠপোষকতায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নামে সংগঠনটি প্রথমে চট্টগ্রাম ও পরে দেশের অন্যান্য এলাকায় বিস্তৃতি লাভ করে। মূলত মহানগরীর ষোলশহর এলাকায় অবস্থিত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসাকেন্দ্রিক আলেম-ওলেমারা এ সংগঠনের ‘তাত্ত্বিক নেতা’ হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ইসলামী ছাত্র সেনা ও ইসলামী যুব সেনা নামে দুটি শাখা সংগঠনও আহলে সুন্নাতের হয়ে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে।

শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কতিপয় ব্লগার কর্তৃক মহানবী (সা.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ তুলে কওমি মাদরাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম যখন ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন ‘জামায়াত-শিবির কর্তৃক চট্টগ্রামের ১০ জন বিশিষ্ট সুন্নি আলেমকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত কয়েকজন শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়েছে’ মর্মে পাচঁলাইশ পুলিশের একটি অভিযানের খবর মিডিয়াতে আসার পর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত সোচ্চার হয়ে ওঠে।

নগরীতে একাধিক মিছিল সমাবেশ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে সুন্নীয়তপন্থি আলেমরা ‘জামায়াত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধীদের’ বিচার দাবি করে এবং ‘সুন্নীয়তপন্থী আলেম হত্যার পরিকল্পনার সাথে জড়িতদের’ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। মাঝখানে এ সংগঠনটি এ ইস্যুতে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও হেফাজতের ঢাকা মহাসমাবেশ ও পরবর্তী তৎপরতা বাড়ানোর পর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

শুক্রবার বাদ জুমা সমাবেশের সমর্থনে মহাসমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার-এর নামে প্রচারিত লিফলেটে বলা হয়, “বাংলাদেশে একদিকে নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্লগ, ফেসবুক, মিডিয়া ইত্যাদির অপব্যবহার করে একের পর এক নবী করিম (সা.) এবং ইসলাম ও কুরআন সম্পর্কে জঘন্য কুরুচিপূর্ণ অবমাননা চালিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে এরই প্রতিক্রিয়ার আদলে ইসলামের নামে তৎপর হচ্ছে অগ্রহণীয় ও জঘন্য জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।”

মিয়ানমারের মুসলমানদের হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এ লিফলেটে আরো বলা হয়, “আসুন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামের বিরুদ্ধে বয়ে যাওয়া এ মহাদুর্যোগ সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরি করি, ইহুদি-খ্রিস্টানদের আজ্ঞাবহ হেফাজত-জামাত চক্রের বদ আক্বিদা ও অপরাজনীতির স্বরুপ উম্মোচন করি।”

শুক্রবার বিকেলে নগরীতে মহাসমাবেশের সমর্থনে বের করা মোটর শোভাযাত্রা শেষে সমাবেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নেতারা বলেন, “নবীদ্রোহী, ওয়াহাবী-মওদুদীবাদ, মানবতার শত্রু জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের মুলধারা সুন্নি মতাদর্শের আলোকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত সঠিক রাস্তা জনগণকে দেখিয়ে দিতে এ সুন্নি মহাসমাবেশ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।”

আহলে সুন্নাতের শনিবারের মহাসমাবেশে আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী, অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আল কাদেরী, মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী, মুফতি ইদ্রিছ রেজভী, আল্লামা আজিজুল হক আল কাদেরী, সাইফুর রহমান নিজামী শাহ ও মুহাম্মদ নুরুল মুনাওয়ার বক্তব্য রাখবেন বলে জানানো হয়।

সংগঠনের সদস্য সচিব মওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী নতুন বার্তা ডট কমকে জানান, দেশের অন্যান্য জায়গায়ও সমাবেশের আয়োজনসহ নানা কর্মসূচি শনিবারের মহাসমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট