Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বঙ্গোপসাগরে গ্যাসের সন্ধান লাভ

স্থানীয় এক হোটেলে প্রেস কনফারেন্সে স্যান্তোস’র বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জন চেম্বারস জানান, ‘‘নতুন আবিস্কৃত কুপে মোট গ্রাস মওজুদের পরিমাণ নিরুপন এখনো প্রক্রিয়াধীন। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামী এপ্রিল নাগাদ এ কুপ থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’’

প্রেস কনফারেন্সে স্যান্তোস বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বি এ সিরাজুদ্দৌলা ( গভর্মেন্টস এন্ড পাবলিক এফেয়ার্স) বক্তব্য রাখেন।

জন চেম্বারস জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত উৎপাদন-বন্টন চুক্তির আওতায় বঙ্গোপসাগরের ১৬ নাম্বার ব্লকের অধীনে স্যান্তোস ইতিপুর্বে দক্ষিণ সাঙ্গু-৪ ও উত্তর-পুর্ব সাঙ্গু-১ নামে দুটি কুপে অনুসন্ধান চালানোর পরও গ্যাস উত্তোলন করতে পারেনি। এর মধ্যে প্রথমটিতে মওজুদ নিশ্চিত হওয়া সত্বেও উক্ত স্পটে জলপ্রবাহের অত্যাধিক চাপের ঝুকি থাকায় গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি আর অন্যটিতে কোনো গ্যাসই পাওয়া যায়নি।

জন চেম্বারস আরো জানান, বাংলাদেশের বর্তমান একক সাগর প্রন্তিক গ্যাস ক্ষেত্র সাঙ্গুর গ্যাস মওজুদ যখন শেষ পর্যায়ে এবং যে কোনো সময় এর কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলা হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে সাগরে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কার বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকটকালে বড় সুসংবাদ। একই সঙ্গে দুটি কুপে শুন্য হাতে ফেরার পর স্যান্তোসের জন্যও বড় সাফল্য।

তিনি জানান, সর্বশেষ উৎপাদন-বন্টন চুক্তির আওতায় তাদের আনুপাতিক প্রাপ্য হারের গ্যাস তৃতীয় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। চুক্তির নেগোসিয়েশন পর্ব শেষ হলে গ্যাসের বিক্রিয় মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, গ্যাস আবিস্কৃত নতুন কুপটি বর্তমান সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রের দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এতে উত্তোলনযোগ্য মওজুদ গ্যাসের পরিমাণ বেশি নয়।

জন চেম্বারস জানান, বঙ্গোপসাগরে প্রচুর পরিমাণ অনাবিস্কৃত গ্যাসের মওজুদ রয়েছে। এর জন্য অনেক বিস্তৃত জায়গাজুড়ে অনুসন্ধান ও সমানুপাতিক কুপ খনন প্রয়োজন। অথচ এ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাত্র ১৫টি কুপ খনন করা হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

ভারতের মুম্বাই উপকূল ও ভারত মহাসাগরের পুর্ব-উপকূল প্রান্তজুড়ে এবং অস্ট্রেলিয়া সেদেশের সমুদ্রসীমায় বিপুল সংখ্যক গ্যাস কুপ খনন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “সে তুলনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে।”

যত্রতত্র ব্যাপক খনন কার্যক্রম বঙ্গোপসাগরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে কিনা প্রশ্নের জবাবে চেম্বারস বলেন, “আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বিধায় তেল নি:স্বরণ থেকে শুরু করে অন্য কোনো পবিবেশগত ক্ষতি হবার আশংকা নেই বললেই চলে।”

স্যান্তোস প্রেসিডেন্ট জানান, বঙ্গোপসাগরে গ্যাসের যে বিশাল সম্ভাবনা তা উত্তোলন ও কাজে লাগাতে বাংলাদেশের প্রয়োজন বিশাল অংকের বিনিয়োগ। এ ক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানি গুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত ও আগ্রহী করতে উৎপাদন বন্টন চুক্তির অর্থনৈতিক শর্তগুলোকে আরো নমনীয় ও বিনিয়োগ বান্ধব করতে হবে।

তিনি বলেন, “যেখানে গত ২০ বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সেবা খাতের মূল্যবৃদ্ধির হার শতকরা ৩০০ ভাগ সেখানে বাংলাদেশ ১৯৯০ সালের পর নতুন আবিস্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র থেকে বিদেশী কোম্পানি কর্তৃক প্রাপ্য গ্যাসের বিক্রয় মূল্য বাজারের সঙ্গে সামজস্য রেখে সমন্বয় করেনি। সম্ভাব্য বড় ক্ষতির ঝুকি নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক একটি জরিপের উদ্বৃতি দিয়ে জন চেম্বারস জানান, বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণ করতে আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বার্তা২৪


LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট