Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শেখ মুজিবের জন্মদিনে ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণ

রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমানের ৫৬তম জন্মদিনের সন্ধ্যায় ঢাকায়  কমপক্ষে তিনটি স্থানে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৭ই মার্চ ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে এ বার্তা পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে। এ বার্তার শিরোনাম ‘বোম্বিংস ইন ঢাকা’। বার্তা নম্বর ক্যানোনিক্যাল আইডি: ১৯৭৫ঢাকা০১৩৫৯-বি। সমপ্রতি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সময়কালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যে ১৭ লাখের বেশি গোপন বার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস তার মধ্যে রয়েছে এই বার্তাটি। এতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমানের ৫৬তম জন্মদিন ছিল ১৭ই মার্চ। এ নিয়ে বেশ প্রচার চালানো হয়েছিল। দিনটি ছিল রোববার। এদিন সন্ধ্যার দিকে ঢাকায় কমপক্ষে তিনটি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। যেসব স্থানকে এ জন্য বেছে নেয়া হয় তা হলো- (এ). ইন্টারকন্টিনেন্টালের বার। এখানে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন। (বি). নিউ মার্কেট। মধ্যবিত্তের কেনাকাটার স্থান এটি। এখানে আহত হয়েছেন চার জন। (সি).  বাংলা সংবাদপত্র সংবাদ-এ। এ পত্রিকাটি মস্কোপন্থি সাবেক ন্যাপ/মুজাফ্‌ফর পার্টির সমর্থক। ‘সংবাদে’র ঘটনায় শুধু ফায়ার বোম্বিং হয়েছে। কোন কোন সূত্রে বলা হচ্ছে এসব ঘটনায় মোট আহত হয়েছেন ১২ জন। তাদের বেশির ভাগকেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গভীর রাতে নিউ মার্কেট এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের কথা শোনা গেছে। তবে বোমা হামলার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকার নিশ্চিত কোন তথ্য মেলেনি। স্থানীয় একটি পত্রিকা দাবি করেছে, ন্যাপ/এম-এর পুরনো অফিসেও বোমা হামলা হয়েছে। ১৪ই মার্চ দ্য মর্নিং নিউজ এবং দৈনিক বাংলা পত্রিকার অফিসে হাতে তৈরী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ দু’টি পত্রিকাই একই ভবনে। ওই হামলায় ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যে ধারাবাহিকভাবে  হত্যা করা হচ্ছে তার মধ্যে রওশন আরা বকুল একজন। তিনি রংপুর জেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তাকে ১২ই মার্চ গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যার কারণ হলো, তিনি ছিলেন দেশে একমাত্র নারী চেয়ারম্যান। এমন হত্যাকাণ্ডের মধ্যে তার হত্যাকাণ্ড তাই বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বোমা হামলার এ ঘটনাগুলো পরিষ্কার করে বোঝায় যে, এই হামলাগুলো ছিল শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে। তার জন্মদিন উদযাপনের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়। অনেক নেতা গলায় ফুলের মালা পরে তাদের নেতার জন্য জনগণের ভালবাসার প্রকাশ ঘটান। কিন্তু বোমা হামলার ঘটনা পরিষ্কার মনে করিয়ে দেয় যে, মুজিব সমস্ত বাঙালির মন জয় করতে পারেন নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬শে মার্চ বিশাল র‌্যালির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যমণি হবেন শেখ মুজিব। একটি সূত্র বলেছেন, তিনিই হবেন এতে একমাত্র বক্তা। বাকশাল কর্মীরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, এই র‌্যালিতে ১০ লাখের বেশি জনতার সমাগম ঘটাতে সব রকম চেষ্টা করা হবে। যারা বাড়িয়ে বলেন তারা বলেন এই সংখ্যা ২০ লাখও হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও তার নতুন নীতির প্রতি জনতার সমর্থন প্রকাশ করা হবে। যারা বোমা হামলা করেছে তাদের উদ্দেশ্য হতে পারে লোকজনকে বাসা থেকে বের না হওয়ার জন্য ভয় সৃষ্টি করা। ওদিকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ-এর একটি বার্তায় বলা হয়, মুজিবের স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা তার পতন ডেকে আনতে পারে। ক্যানোনিক্যাল আইডি: পি৭৫০০৪২-১৭৮-বি নম্বরের বার্তায় এ কথা বলা হয়। এর শিরোনাম ‘বাংলাদেশ: মুজিবস ডিকটেটোরিয়াল পাওয়ারস মে ইনভাইট হিজ আউস্টার’। এই বার্তাটিতে শুধু শিরোনাম রয়েছে। কিন্তু মূল বার্তাটি পোস্ট করা হয়নি। সেখানে একটি নোট দেয়া রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এই ডকুমেন্টটি ইলেকট্রনিক নয়। সেজন্য এর পুরো বক্তব্য অনলাইনে পাওয়া যাবে না। ১৯৭৫ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাঠানো হয় আরেকটি বার্তা, যার নম্বর ক্যানোনিক্যাল আইডি: ১৯৭৫ঢাকা০১০০২-বি। এর শিরোনাম ‘কামাল হোসেন: অনস অ্যান্ড ফিউচার ফরেন মিনিস্টার’। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই বার্তায় বলা হয়, বর্তমানে সংবিধান সংশোধনী ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার সময়ে শান্ত ঢাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে যাওয়া কামাল হোসেনের অনুপস্থিতি নিয়ে। তাতে রয়েছে নানা মাত্রিক কথা। নিশ্চিত হতে পারলে এ বিষয়ে আমরা আরও তথ্য জানাবো। আমরা যতদূর জানি কামাল অক্সফোর্ডে রয়েছেন লেকচারের কাজে। সম্ভবত স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর একটি বই লেখার কাজ করছেন তিনি। পররাষ্ট্র সচিবের মতে, তিনি কম শান্তি চান যাতে তিনি লেখার কাজটি শেষ করতে পারেন। অন্যদিকে, আমরা আরও শুনেছি যে, কামাল দেশের ফেরার পরিকল্পনা করছেন না। কারণ, সমপ্রতি সংবিধানে যে সংশোধনী আনা হয়েছে তাতে তিনি স্বস্তিতে নেই। অথবা তিনি আরও কিছু ঘটে যাওয়ার পরেই শুধু ফিরবেন। অনেকে এর অর্থ শেখ মুজিবের পতন বুঝিয়েছেন। এ অবস্থায় আমরা কামালের অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করবো।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট