Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আমার দেশ বন্ধ, আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

বন্ধ হয়ে গেল আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনা। আজ থেকে এ পত্রিকাটি আর প্রকাশ হবে না। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকাটির সাংবাদিক ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুলিশ আইন অমান্য করে অন্যায়ভাবে আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা এ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন। গত ১১ই এপ্রিল আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গ্রেপ্তারের পর থেকেই পত্রিকাটি নিয়ে চলছে নানা সঙ্কট। সম্পাদককে গ্রেপ্তারের পর ওইদিন রাতেই বন্ধ করে দেয়া হয় পত্রিকাটির প্রেস। বিকল্প প্রেস থেকে দুই দিন স্বল্প সংখ্যক পত্রিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে হানা দেয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করে ১৯ প্রেস কর্মীকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। এক মামলায় গ্রেপ্তারের পর মাহমুদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে গাড়ি পোড়ানো এবং পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দানের পুরনো আরও দুই মামলায়। ১৩ই এপ্রিল মামলা দেয়া হয়েছে মাহমুদুর রহমানের মা ও আমার দেশ পাবলিকেশন্স-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম এবং দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক ও আল ফালাহ প্রেসের কীপার আবুল আসাদের বিরুদ্ধে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং আমার দেশ চালুর দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে পত্রিকাটির সমর্থকরা। এ অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয় পত্রিকাটির পক্ষ থেকে। বলা হয়- আইনি প্রক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত, আমার দেশ পত্রিকা পুনরায় চালু করে পাঠকদের হাতে তুলে দেয়া হবে। পুলিশ আইন অমান্য করে অন্যায়ভাবে আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে উল্লেখ করে পত্রিকাটির সাংবাদিক ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। শিগগিরই সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবো। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- আমার দেশ বন্ধে সরকার বা আদালতের কোন নির্দেশ নেই। আপিল বিভাগের দ্বারা পত্রিকার ডিক্লারেশন সংরক্ষিত রয়েছে। বেআইনি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আমার দেশ-এর ছাপাখানা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিলগালা করতে হলে তালার সঙ্গে সিল লাগাতে হয়। কিন্তু পুলিশ সিল লাগায়নি। কারণ, সিলগালা করার কোন আদেশ তাদের হাতে নেই। সম্পূর্ণ গায়ের জোরে পত্রিকাটির ছাপাখানায় তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। বিকল্প ছাপাখানা থেকে পত্রিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইন অনুযায়ী বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তারপরও বিকল্প প্রেসে গিয়ে পুলিশ বেআইনি হস্তক্ষেপ করে ১৯ জনকে আটক করলো। আমরা আশঙ্কা করছি- এখন যদি সাময়িকভাবে অন্য কোন প্রেস থেকে পত্রিকা ছাপানোর উদ্যোগ নিই তবে সেখানেও হয়তো পুলিশ হানা দেবে। সরকারযন্ত্রের সহায়তায় পুলিশ আমার দেশ-এর উপর যে অন্যায় আচরণ করছে তা প্রতিহতের ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়েই সাময়িকভাবে পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিবেককে আইন দিয়ে বন্ধ করা যায় না। পত্রিকাটিও আইনসম্মতভাবে বন্ধ করা হয়নি। শিগগিরই পত্রিকাটি মানুষের হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়- সরকার ও পুলিশ আইনের কোন তোয়াক্কা করছে না। যারা আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেব উল্লেখ করে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তারের সঙ্গে পত্রিকা বন্ধ করার কোন সম্পর্ক নেই। সমপ্রতি ছাপাখানা বন্ধ করে দেয়ার পর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পত্রিকা ছাপাচ্ছিলাম ২০১০ সালে মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তারের পর একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি। ওই সময় এ সমস্যা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, ফিচার এডিটর কবি হাসান হাফিজ, জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহিম চৌধুরী, সিটি এডিটর এম আব্দুল্লাহ, আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সালেহ উদ্দিন আহমেদসহ অন্য সংবাদকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- আইন ও সামাজিক রীতি-নীতি উপেক্ষা করে মাহমুদুর রহমানকে বর্বর কমান্ডো স্টাইলে গ্রেপ্তার করে টানা ১৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হয়- ১১ই এপ্রিল গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে মাহমুদুর রহমান চা পান করছিলেন। তাকে চা পান শেষ করতে দেয়া হয়নি। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাক পরিধান করার সময়ও দেয়া হয়নি। পত্রিকা অফিসে অবস্থানরত সংবাদকর্মীদের মারধর এবং সংবাদ সংগ্রহের ছবি তুলতে দেয়া হয়নি। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এহেন আচরণ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রিমান্ডের নামে মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। সংবাদকর্মীরা উদ্বিগ্ন। সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের ফলে কেন্দ্রীয় অফিসের ৩ শতাধিক সংবাদকর্মী এবং সারা দেশে ৫ শতাধিক সংবাদকর্মী ও এসব পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়- সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা আজও (গতকাল) আমার দেশ কার্যালয়ের সামনে এবং অভ্যর্থনা কক্ষে অবস্থান নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পত্রিকার সাংবাদিকদের অফিসে প্রবেশ, হয়রানি ও বাধার সৃষ্টি করছে। সরকারি বাধার কারণে পাঠকরা আমার দেশ-এর অনলাইন সংস্করণও পড়তে পারছে না। সরকার আমার দেশ-এর প্রকাশনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা বা ডিক্লারেশন বাতিল না করলেও বেআইনিভাবে ছাপাখানা বন্ধসহ নানাভাবে পত্রিকা যাতে বন্ধ থাকে তার সব পদক্ষেপ নিয়েছে।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ২০১০ সালের ১লা জুন গভীর রাতে আমার দেশ বন্ধ ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী  দৈনিক আমার দেশ পুনরায় প্রকাশিত হয়ে আসছিল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ১১ই জুন রাতে সার্চ ওয়ারেন্টের নামে আমার দেশ প্রেসে তল্লাশি ও এক পর্যায়ে সেটি তালাবদ্ধ করে পত্রিকার প্রকাশনা ব্যাহত করা হয়। ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে অস্থায়ীভাবে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। প্রেস ও পাবলিকেশন্সের ধারা ৪(২)(বি) ও ১০ অনুযায়ী ঢাকা জেলা প্রশাসককে (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) অবহিত করা হয়, যার রিসিভড কপি আমাদের কাছে রয়েছে। গত ১২ ও ১৩ই এপ্রিলের পত্রিকা প্রকাশিত হলেও ১৪ই এপ্রিলে পত্রিকা প্রকাশের সময় (১৩ই এপ্রিল রাত ১১টার দিকে) পুলিশ আল ফালাহ প্রেসে অভিযান চালিয়ে আমার দেশ পত্রিকার মুদ্রণ কপি জব্দ করে প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়।
আইনজীবী সালেহউদ্দিন বলেন, পত্রিকার ছাপায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি আদালত অবমাননার শামিল। কারণ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছিল। আমার দেশ প্রকাশনা বন্ধ করে সরকার স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনি লড়াইয়ের পর আবারও পত্রিকা প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ। এক প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স আইন-১৯৭৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রেসে পত্রিকা ছাপতে না পারলে অন্য কোন প্রেসে পত্রিকা ছাপার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসককে জানাতে হবে। আমার দেশ কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছে, যার কপি আমাদের কাছে রয়েছে। জেলা প্রশাসক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বিষয়টি গত ১২ই এপ্রিলই স্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, আমার দেশ কর্তৃপক্ষ পত্রিকা অন্য প্রেস থেকে ছাপার ব্যাপারে কোন অনুমতি নেয়নি। আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আইনে অনুমতি নেয়ার বিষয় নেই। বরং শুধু অবহিত করার বিধান রয়েছে, যা আমার দেশ কর্তৃপক্ষ করেছে। উপরন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার দেশ প্রকাশিত হওয়ার কারণে এর প্রকাশনা বাধাগ্রস্ত করা আদালত অবমাননার শামিল। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা: আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী। মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও পত্রিকার প্রেস খুলে দেয়ার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের যৌথ আয়োজনে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে রুহুল আমীন গাজী বলেন, এই সরকার গণমাধ্যমবিরোধী সরকার। মাহমুদুর রহমানকে ডাকাতের মতো গ্রেপ্তার করেছে। অন্যায়ভাবে প্রেস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকার যদি মনে করে হামলা-মামলা ও মাস্তানি করে সুখ-শান্তিতে দেশ চালাবে, তা সম্ভব নয়। ’৭৫ সালের পুনরাবৃত্তি হবে না, কারণ ’৭৫ সাল আর ’১৩ সাল এক নয়। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস শহিদ ও সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক আব্দুল আউয়াল ঠাকুর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ। সংহতি প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক কবি ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, গায়ের জোরে আইন না মেনে আমার দেশকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সরকার দেশকে কারাগারে পরিণত করছে। বাংলাদেশ দ্রুতবেগে একটি সহিংস ও অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে আমরা দেশকে উদ্ধার করতে পারবো না। ফরহাদ মজহার বলেন, দেশের যে অবস্থা তাতে একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমি উদ্বিগ্ন। দেশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব সম্পাদক ও সংবাদকর্মীকে পক্ষপাত ভুলে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের এই সঙ্কট ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারকে বার বার নাগরিক অধিকার কমিটি থেকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারকে বুঝতে হবে গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একেকটি স্তম্ভ। কিন্তু এ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব না দেয়ায় দেশ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে। আর এই সঙ্কট সৃষ্টি করেছে সরকার। আরও সংহতি প্রকাশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কলা অনুষদের ডিন ড. সদরুল আমীন, ড. মামুন আহমেদ, ড্যাবের সভাপতি একেএম আজিজুল হক, আমার দেশ পাঠক মেলা, মাহমুদুর রহমান মুক্তি পরিষদের সমন্বয়ক মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ভ্যাটেরিনারি ডক্টর এসোসিয়েশন, ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশন, মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ, ডেন্টাল এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এবং বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।
মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবিতে অনশন: দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল সকাল ১১টার দিকে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে সাংবাদিকরা। এর আগে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও আমার দেশ ইউনিট এ গণঅনশনের আয়োজন করে। গণঅনশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ। এদিকে তরুণ সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং পত্রিকাটির ছাপাখানা খুলে দেয়ার দাবিতে ‘মাহমুদুর রহমান মুক্তি মঞ্চ’ গঠন করে অনশনে অংশ নেয়। তারা বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করে। অনশনে সংহতি জানান প্রাবন্ধিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরহাদ মজহার, মুক্তমনা ব্লগারদের সংগঠন কমিউনিটি ব্লগারস ফোরাম (সিবিএফ), মাহমুদুর রহমান মুক্তি আন্দোলন, মাহমুদুর রহমান মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন, তরুণ প্রজন্ম, নারী সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।
বুধবার হাইকোর্টের সামনে অনশন: বুধবার হাইকোর্টের প্রধান ফটকের সামনে অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন ‘মাহমুদুর রহমান মুক্তি মঞ্চ’-এর আয়োজকরা। এর উদ্যোক্তা মাহমুদা ডলি জানান, মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত এবং আমার দেশ-এর প্রেস খুলে না দেয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
মাহমুদুর রহমানের বাসায় খালেদা: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কারাবন্দি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। রোববার রাত ৮টার দিকে গুলশান-২এ মাহমুদুর রহমানের বাসভবনে যান তিনি। রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় খালেদা জিয়া মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম, স্ত্রী ফিরোজা খানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে যে ভয়ভীতি আছে তা কাটিয়ে উঠে তাদের ধৈর্য ধরতে বলেন। এসময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট