Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

উদ্যম-উচ্ছ্বাস-উৎসাহ: বাঙালির শ্রেষ্ঠ আনন্দের দিন আজ

ঢাকা: পুরনো সব ব্যর্থতা গ্লানি, বঞ্চনা, দুঃখকষ্ট ও আবর্জনার জঞ্জাল সরিয়ে নতুন আশা, কর্মোদ্দীপনা, স্বপ্ন, প্রত্যয় ও প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার ডাক দিচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২০। রোববার পহেলা বৈশাখ। অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সব বাঙালি নতুন বছরকে বরণের উৎসবে মেতে উঠবে।

নতুন বার্তার পক্ষ থেকে বিশ্বের সব বাঙালিকে শুভেচ্ছা।

স্থান, কাল, পাত্রভেদে এই উৎসবের ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। একেক অঞ্চলে একেক রকম আয়োজনে উদযাপিত হয় বৈশাখী মেলা, হালখাতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

তবে রাজধানী ঢাকায় প্রতি বছর নববর্ষের মতো এবারো রয়েছে প্রধান আকর্ষণ ‘মঙ্গল শোভা যাত্রা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে এ শোভাযাত্রা বের হয়। বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও গর্বিত ঐতিহ্যের রূপময় আভায় উদ্ভাসিত সর্বজনীন উৎসব এ বাংলা নববর্ষ।

সবার হৃদয়ে আজ রবীন্দ্র-নজরুলের সুর জেগে উঠবে- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ কিংবা ‘ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কালবোশেখী ঝড়, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’

নতুন এ দিনটি পুরনো সব ব্যর্থতা গ্লানি বঞ্চনা দুঃখকষ্ট ও আবর্জনার জঞ্জাল সরিয়ে নতুন আশা, কর্মোদ্দীপনা, স্বপ্ন, প্রত্যয় ও প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার ডাক দিচ্ছে। নতুনের কেতন ওড়ানো বৈশাখ এসেছে নতুন সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও সমৃদ্ধি অর্জনের লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি এবং প্রেরণা নিয়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন বছরের কাছে মানুষের প্রত্যাশা-শোনা ও নতুন গান। ১৪২০ হোক শান্তির বছর, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের জেগে ওঠা ও দুর্নীতিকে প্রতিরোধের বছর, মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও যুদ্ধাপরাধীদেও বিচারের বছর।

ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে, হতাশা-অবসাদ-ক্লেদ ঝেড়ে-মুছে ফেলে নতুন উদ্দীপনায় জাগরণের আহ্বান জানাচ্ছে বৈশাখ। হিংসা-দ্বেষ, ক্ষুদ্রতা, কলুষ, কুসংস্কার এবং পশ্চাদপদতার নিগড় ভেঙে ফেলে, অসুন্দরকে হটিয়ে সমাজ মুক্ত হোক, সত্যিকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসুক, প্রগতির আলোয় স্নিগ্ধ  প্রশান্ত হোক সমাজ-এ আহ্বান জানাচ্ছে বৈশাখ।

‘যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি-অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক-এসো হে বৈশাখ’-এই হোক অঙ্গীকার।

ভোরে সূর্যোদয়ের প্রথম রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সূচিত হবে বাংলা নববর্ষের জন্মক্ষণ। তখন থেকেই বৈশাখের সর্বজনীন উৎসব-আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠতে দেখা যাবে সারা দেশ, সব বয়সের মানুষকে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা বয়সী মানুষ সাড়ম্বরে উৎবের আনন্দে মেতে উঠবে। পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, গানবাদ্য-সবকিছুতেই প্রাধান্য পাবে বাঙালিয়ানা।

আড্ডা, আমন্ত্রণ, উচ্ছ্বাসে কেটে যাবে দিনটি। শহরের রাস্তা ও উদ্যানে নামবে মানুষের ঢল। শুধু তা-ই নয়, শহর-নগর গ্রাম-গ্রামান্তর সর্বত্রই বইবে বর্ষবরণের প্রাণোচ্ছল উৎসব-তরঙ্গ। পীড়াদায়ক তাপদাহ তুচ্ছ করে, অস্বস্থি উপেক্ষা করে ভোর থেকে দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যা-গভীর রাত পর্যন্ত চলবে বৈশাখবরণ।

দেখা যাবে কোথাও গান বাজছে, কোথাও মেলা বসেছে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ঢাকের শব্দ, ঢোল, বাঁশি, নাগরদোলার শব্দ, পায়ে পায়ে উত্থিত ধূলিপুঞ্জের মধ্যে মানুষের গুঞ্জরণ-ধ্বনি, নাগরদোলায় ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে ভয়জাগানো কিছু শব্দ, শিশুর কলরব, উচ্ছ্বাস।

বৈশাখী মেলায় রকমারি সম্ভার-চুড়ি, কানের দুল, সুগন্ধি সাবান, হাওয়াই মিঠাই, চুলের ফিতা, নেইল পলিশ, রঙিন বেলুন, কাঠের পুতুল, মাটির পুতুল, আম কাটার চাকু, জিলাপি, খৈ-বাতাসা, ঘরগেরস্থির দরকারি বস্তু, আরো কত কি!

পহেলা বৈশাখ সরকারি ছুটির দিন। সংবাদপত্র অফিসও রোববার বন্ধ থাকছে। ভোরেই সূচিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্রগুলো বের করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। রেডিও-টিভিতে গত রাত থেকেই প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

মোগল সম্রাট আকবরের নির্দেশে তার সভাসদ আমীর ফতেহউল্লাহ খান সিরাজী প্রায় ৪০০ বছর আগে হিজরি সনের সঙ্গে মিল রেখে ফসলি সন হিসেবে বাংলা সন বা বঙ্গাব্দের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। শস্যভিত্তিক ঋতুকে সামনে রেখে কৃষকের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে প্রচলন করা হয়েছিল বাংলা সনের।

তখনই বঙ্গাব্দের সূচনা হয় বৈশাখের প্রথমদিন থেকে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তা এই জনপদের মানুষের গর্বিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। বৈশাখী উৎসব সংস্কৃতির অন্যতম সমৃদ্ধ এক উপাদানে পরিণত হয়েছে। বাংলা নববর্ষে হালখাতাই মুখ্য ছিল এককালে। এখনও হালখাতা আছে। ক্রমেই মুখ্য হয়ে উঠছে আনন্দ-উত্সব। নাচ, গান, মেলা, নতুন হালখাতা, মিষ্টিমুখ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, নতুন পাঞ্জাবি, শাড়ি, ফতুয়া কেনার ধুম, খাওয়া-দাওয়া, বেড়ানো, শুভ নববর্ষ জানানোর রেওয়াজ-উত্সবের নানা অনুষঙ্গে নববর্ষ উদযাপন নিত্যনতুন মাত্রিকতায় উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে চলেছে।

বাংলা নতুন বছর উদযাপনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রথমেই থাকে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজন। রমনার বটমূলে সকাল সোয়া ছয়টায় শুরু হবে বর্ষবরণের উৎসব, ছায়ানটের অনুষ্ঠানের মতোই নাগরিক বর্ষবরণের আরেকটি আয়োজন হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা। লোকজধারার শিল্পকর্মেও বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে নয়টায় বেরুবে সকাল নয়টায়। ১৯৮৯ সাল থেকে চারুকলার এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে যাচ্ছে, বাংলা একাডেমী এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) যৌথ উদ্যোগে একাডেমী প্রাঙ্গণে পহেলা বৈশাখ থেকে ১০ বৈশাখ পর্যন্ত বৈশাখী মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, সকালে একাডেমীর নজরুল মঞ্চে বর্ষবরণ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন আবাহনে ও নতুন প্রাণের স্পন্দনে জাতীয় প্রেসক্লাব, শিল্পকলা একাডেমী,  মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সুরের ধারাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন এ এ দিনটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ রাজনৈতিক নেতারা বাণী দিয়েছেন।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ দেশব্যাপী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বড় কোনো ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় না নামার জন্যও পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট