Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টিআইবি’র প্রস্তাবে প্রধান দু’দলের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

ঢাকা: রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুর্নীতি-বিরোধী সংস্থা টিআইবি’র প্রস্তাবকে প্রধান দুই দল ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

টিআইবি একটি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত বা অনির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে প্রস্তাবটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। আর বিরোধীদল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি এলে আলোচনা করে তাদের অবস্থান ঠিক করবে। তবে এই দুই দলই মনে করে, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।

নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য নির্বাচিত নাকি অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার হবে- সেই প্রশ্নে প্রধান দুই দল মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বলা যায়।

এমন পটভূমিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে বিভিন্ন পক্ষের আলোচনার প্রস্তাবের পাশাপাশি নানান ফর্মূলাও তুলে ধরা হচ্ছে।

সর্বশেষ, দুর্নীতি-বিরোধী সংস্থা টিআইবি’র প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সমান সংখ্যক সংসদ সদস্য নিয়ে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটি আলোচনা করে নির্বাচিত বা অনির্বাচিত দশজনের নাম চূড়ান্ত করবে, যাদের দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, তাদের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলে, তা বাস্তবায়নের জন্য আইনগত ভিত্তি দিতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে।

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রশ্নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে কোনো যোগাযোগ বা আলোচনা দৃশ্যমান নয়। দুই দলই যে যার অবস্থানে অটল রয়েছে।

বিএনপি এখন কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকতে চাইছে। তবে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আলোচনার পরিবেশ না থাকলেও টিআইবি’র প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে এলে তা নিয়ে তারা দলে কথা বলবেন।

তিনি বলছেন, “বিরোধীদলের প্রায় সব নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কে কার সাথে আলোচনা করবে? আলোচনার পরিবেশ নেই। তারপরও যে কোন প্রস্তাবে সরকারের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। টিআইবি’র প্রস্তাবে সরকার কি প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটা দেখে আমরা দলে আলোচনা করে বিষয়টাতে সিদ্ধান্ত নেবো।”

আওয়ামী লীগও আলোচনার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করছে। একইসাথে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ মনে করেন, টিআইবি’র প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে।

তিনি বলছেন, “সংবিধানে এখন যা আছে, সেই বাধ্যবাধকতা মেনেই বিষয়টাতে আলোচনা হওয়া উচিত। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো একটা সমাধানে পৌঁছুতে পারি। টিআইবি’র প্রস্তাব নিয়ে আমাদের দলের ভিতরে আলোচনা করে সংসদে আলোচনা হতে পারে।”

দুই দলই বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও কারও মধ্যস্থতার প্রশ্নে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনে করেন, সংকট তাদের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত।

তিনি বলেন, “সরকার যদি আন্তরিক হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোই সমাধান করতে পারে। প্রধান দুই দলকেই সংকট সমাধান করতে হবে। মধ্যস্থতা কেউ করতে চাইলে এগিয়ে আসতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিক না হলে, তাতে ফল আসবে না।”

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ মধ্যস্থতার বিষয় পুররোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, “দুই দলই সংলাপের ব্যাপারে আগ্রহী। বিশেষ করে সরকার আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে। ফলে মধ্যস্থতার কোন প্রয়োজন নেই।”

এখন দল দু’টো কে কতটা ছাড় দিতে পারে,তার ওপরই সমাধান অনেকটা নির্ভর করছে বলে এই নেতারা মনে করছেন। সূত্র: বিবিসি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট