Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ফটিকছড়িতে হেফাজত আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে নিহত ৩, ১৪৪ ধারা, বিজিবি মোতায়েন

হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল করা নিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এতে ৩ জন নিহত হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার দুই আওয়ামী লীগ কর্মীর নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। গুলিতে নিহতরা হলেন- মো. জামাল (৩৮) ও শাহজাহান (৩৯)। তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। এদিকে রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিপুল নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। তবে পুলিশ সর্বশেষ রাত ৮টা পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৫০ জন। আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ১০০ মোটরসাইকেল। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় ভুজপুর এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।
নিহতদের নাম-ঠিকানা, পরিচয় রাত পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। আহতদের অনেককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই গুলিবিদ্ধ বলে লোকজন জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে কয়েক ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আহতরা অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে ধরে নিয়ে মারধর করে মাদরাসার ছাত্ররা-এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল সবাই ভুজপুর এলাকায় যায় মোটরসাইকেলে চড়ে। এর নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম  পেয়ারুল ইসলাম। এরপর সেখানে মাদরাসার একদল ছাত্রের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। যারা হামলা করে তাদের বেশির ভাগ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী। একপর্যায়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় ১০০টিরও বেশি মোটরসাইকেল।
একটি সূত্র জানায়, বিরোধী দলের ডাকা হরতালের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল সকাল ১২টায় একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। বেলা দেড়টায় মিছিলটি ভুজপুর এলাকায় পৌঁছতেই তাদের ধাওয়া দেয় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। বেড়ে যায় উত্তেজনা। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে একে অপরকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জামায়াতের লোকজন দৌড়ে মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তাদের মধ্য থেকে একজন মাইকে ঘোষণা দেয় এলাকায় সন্ত্রাসী এসেছে। তাদের প্রতিহত করতে হবে। এই কথা শুনে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে ছাত্রলীগের কর্মীরা তা প্রতিহত করতে এগিয়ে যায়। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যেই বিপুল পরিমাণে গুলিবিনিময় হয়। এতে ভুজপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন।
আরেকটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীদের একটি অংশ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে স্থানীয় এক মাদরাসার আলেমের ছেলেকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসী তাদের ঘেরাও করে ফেলে। পরে এই নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। চলে এক ঘণ্টার বেশি গুলিবিনিময়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা চলে দফায় দফায়। অনেকের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে গুরুতর জখম হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় ফোনে তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘ঘটনা সত্যি। একজন মারা গেছেন। আর কেউ মারা গেছেন কিনা তা এখনই বলতে পারছি না। তবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাধ্য হয়েই ১৪৪ ধারা জারি করেছি।’
আশেপাশের লোকজন এই ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন। যে কোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে সংঘর্ষ শুরু হলে ছাত্রলীগের বিপক্ষে অবস্থান নেয় হেফাজতসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি মাদরাসার ছাত্ররা। তারা ছাত্রলীগের কর্মীদের বহনকারী বেশির ভাগ মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সময় উত্তেজিত লোকজন ১০টিরও বেশি গাড়ি ভাঙচুর ও তাতে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনার পর বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ফটিকছড়ির ভুজপুর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্য  মোতায়েন করা হয়েছে।
হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি আফম নিজাম উদ্দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মানবজমিনকে বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে ধূম্রজাল রয়েছে। তবে মাঠে হেফাজত কর্মীদের দেখা গেছে।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ‘হেফাজতের লোকজন এই ঘটনায় জড়িত। তারা গ্রামবাসীকে মিথ্যা কথা বলে লেলিয়ে দিয়েছে। আমরা যখন হরতাল করি তখন হরতালের পক্ষেও লোকজন হঠাৎ করেই নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। তারা সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালায়। মাইক্রোবাসসহ অনেক মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট