Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘দেশ দু’ভাগে বিভক্ত’

বিদেশী কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশ দু’ভাগে বিভক্ত। একদল বাংলাদেশ সৃষ্টির চেতনায় উদ্বুদ্ধ, অন্যরা মৌলবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে, তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। সরকার একাত্তরের  চেতনায় দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। সরকার জনগণের সিদ্ধান্তের দিকে চেয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় হোটেল রূপসী বাংলায় ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, রাশিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিলে প্রায় অর্ধশতাধিক বিদেশী বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের প্রতিনিধিদের বক্তব্যের জবাবে কূটনীতিকরা চলমান রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতা নিরসনে সংলাপ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক তাগিদ দেন। ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া বিদেশী কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের তরফে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোসিমা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে সংলাপের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে চান। জবাব দেন দীপু মনি ও এইচ টি ইমাম। এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, সরকার সংলাপের জন্য সব সময় প্রস্তুত। তবে দিন-তারিখ হিসাব করে বিরোধী দলের হরতাল ও রাজপথের সংঘাত সরকারের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে। ব্রিফিংয়ের শুরুতে রাজপথের সামপ্রতিক সংঘাত-সহিংসতার ওপর নির্মিত একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি নবী-রাসুল (সাঃ)-কে অবমাননা সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন। আর এরই প্রেক্ষিতে চার ব্লগারকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। দীপু মনি বলেন, বড় কোন অঘটন ছাড়াই হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ শেষ হওয়ায় জাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কিন্তু দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, হেফাজতের সমর্থকদের একটি অংশ গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে  হেফাজতের আক্রমণ থেকে গণজাগরণ মঞ্চকে রক্ষা করেছেন। মন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলাম দেশে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। আমরা মনে করেছিলাম হেফাজতে ইসলামও সে রকম কিছু করবে। মন্ত্রী বলেন, হেফাজতকে সমাবেশ করতে দেয়ায় অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে সরকার সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে যে কোন মানুষের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে দিতে পারে। দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সহিংসতার সংবাদ স্বাধীনভাবে সংগ্রহ করছে। সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারা তাদের সাহসিকতা দিয়ে তুলে আনছে এবং জাতি দেখছে কারা এ সহিংসতা করছে। মন্ত্রী বলেন, সরকার সহিংসতায় বিশ্বাস করে না, জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব পালন করে আর এতে কেউ বাধা দিলে যা করণীয় তাই করছে।
দীপু মনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম যে ১৩টি দাবি দিয়েছে তাতে যেসব বিষয় মেনে নেয়া যায় তা নিয়ে ভাবছে সরকার। কিন্তু অনেক দাবি আছে বা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। সেগুলো মানতে হলে দেশকে অনেক পিছনের দিকে যেতে হবে। তাদের অনেক দাবি বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাধা মনে করে সরকার। মন্ত্রী তার বক্তৃতায় কূটনীতিকদের বক্তব্য প্রদানে আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বানও জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট