Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিএনপির মুখপাত্র যে-ই হবেন, তাকেই আটক!

ঢাকা: বিএনপির মুখপাত্র যে-ই হবেন, তাকেই আটক করা হবে- দলের মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে এখন এমনই আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, দলের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষপর্যাসয়ের বেশির ভাগ নেতা এখন জেলে। এ অবস্থায় একরকম নেতৃত্বশূন্যতা্য় ভুগছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তবে এটা মানতে রাজি নন দলের নেতারা।

২০১১ সালের মার্চে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলাওয়ার হোসেন মারা গেলে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এর পর থেকেই তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মধ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতারের পর দলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যশোর থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ডেকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

মির্জা ফখরুল পরে আবার গ্রেফতার হলে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দফতরের কাজের পাশাপাশি মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করেন। তবে তিনি বেশি দিন এই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। গত ১১ মার্চ রাতে ককটেল বিস্ফোরণের পর বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড হলে নয়াপল্টনে দলের কার্যালয় থেকে অনেকের সঙ্গে রিজভীকেও আটক করে পুলিশ।

এ অবস্থায় গত ১২ মার্চ দফতর সামাল দিতে সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে রিজভীর জায়গায় দায়িত্ব দেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মির্জা ফখরুলের আটকের আগে তিনি সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে থাকতেন এবং দফতর সামাল দিতেন। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার ২৮ দিনের মাথায় ৮ এপ্রিল সোমবার তাকেও আটক করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার তাকে গাড়ি পোড়ানো মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এই মুহূর্তে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, স্বনির্ভর সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু, সহ-তথ্য সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আছে অসংখ্য মামলা।

আর সংসদ সদস্যদের মধ্যে জেলহাজতে আছেন দলের প্রচার সম্পাদক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

দলের এই সংকটময় মুহূর্তে কাকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হবে, এ নিয়েও খানিকটা সমস্যায় রয়েছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে যশোরে আছেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান গুলিবিদ্ধ হয়ে বিদেশে চিকিৎসাধীন।

অন্যদের মধ্যে কেউ কেউ বার্ধক্যজনিত কারণে দলের কর্মসূচিতে তেমন তৎপর নন। আবার ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, সাদেক হোসেন খোকাসহ সক্রিয় অনেক নেতার বিরুদ্ধেও বেশ কিছু মামলা রয়েছে। তাদেরও যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে।

এই মুহূর্তে যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে কারাগারের বাইরে আছেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। তাদের মধ্যে মাহবুব উদ্দিন খোকন খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের মামলা পরিচালনা করছেন।  মিনু সাংগঠনিক কাজ নিয়ে সার্বক্ষণিক রাজশাহীতে অবস্থান করছেন।

সোমবার রাতে গুলশান থেকে যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার পর মঙ্গলবার ও বুধবারের টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যাধলয়ে কে দায়িত্ব পালন করবেন- এ নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়েন খোদ বিএনপির চেয়ারপারসন। পরে এই দায়িত্ব দেয়া হয় তারই উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুকে।

কিন্তু হরতালের মধ্যে মঙ্গলবার সকাল সোয়া আটটার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যারলয়ে ঢোকার পথে দুদুকেও আটকের চেষ্টা করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে কিছুক্ষণ টানাহেঁচড়ার পর তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ অবস্থায়ও দলের নেতৃত্ব সংকটের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, অতীতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে, ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি সরকারের সময়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ নেতাদের কারাবন্দী করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। সবশেষে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা জেলে থাকার পরও গত বছরের ১১ জুনের ঢাকার মহাসমাবেশে জনসমাগম ছিল যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “সিনিয়র নেতাদের কারাবন্দী করা হলেও দল এবং আন্দোলন পরিচালনার জন্য বিএনপিতে নেতৃত্বের সংকট হবে না। রাজনৈতিক নেতাদের কারাবন্দী করে আন্দোলন থামানো যায় না। এখন রাজপথ ও আদালত, দুদিকেই জোরালো লড়াই করব। ”

রফিকুল ইসলাম মিয়া আরো বলেন, “দেশবাসী বোঝে, এ পর্যায়ের নেতারা কখনো গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান না। কিন্তু অব্যাহতভাবে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে নেতৃত্বশূন্য করতে সরকার যেভাবে বিরোধী নেতাদের কারাগারে ঢোকাচ্ছে, তা খারাপ লক্ষণ।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন শীর্ষনেতা নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “গত চার বছরের রেওয়াজ ভেঙে দফায় দফায় হরতাল ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এপ্রিলে আরও হরতালসহ অবরোধ কর্মসূচি আসতে পারে। সরকার যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে, তাতে আমাদের হার্ডলাইনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা সেদিকেই যাব।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট