Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শীর্ষ নেতারা কারাগারে হার্ডলাইনে হাঁটছে বিএনপি

কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সক্রিয় নেতারা। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী ৪ সদস্য, দুই ভাইস চেয়ারম্যান, ৪ যুগ্ম মহাসচিব ছাড়াও জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্তত ২০ জন রয়েছেন এ তালিকায়। কারাবন্দি রয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ দুই এমপি। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ই মার্চ নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে। কাউকে আবার কারাগারে পাঠিয়েছে নিম্ন আদালত। জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও অনেকেই রয়েছেন চার দেয়ালে বন্দি। বিশেষ করে গত এক মাসে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে মামলা ও গ্রেপ্তারের হার। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব মামলা জালের বাইরে নেই এক নেতাও। একেক নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে ৫ থেকে ৬০টি পর্যন্ত মামলা। এখন একদিকে মহাজোট সরকারের শেষ বছরে নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতি দেয়ার চাপ। অন্যদিকে মামলা-হামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে আইনি লড়াই। সবমিলিয়ে আইনি জটিলতার এক ঘূর্ণাবর্তে পড়েছে বিএনপি। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দলের নেতাকর্র্মীদের মধ্যে। বিএনপি স্থায়ী কমিটিসহ শীর্ষস্থানীয় সক্রিয় মুক্ত নেতাদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধেও বেশ কিছু মামলা রয়েছে। তাদেরও যে কোন সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া জানান, বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬০০-র বেশি বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মী কারারুদ্ধ রয়েছেন। কাশিমপুর কারাগারে এ সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় ৫০ থেকে ৩০০ বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মী কারাবন্দি রয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে যত জন জামিন পাচ্ছেন তার ১০ গুণ গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিএনপি নেতারা জানান, কারাবন্দিদের মধ্যে মূলদলের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সংখ্যাই বেশি। অঙ্গদলগুলোর মধ্যে কারাভোগকারী নেতাকর্মীর সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবক দলই এগিয়ে। বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, রিজভী আহমেদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাটোর জেলা বিএনপি সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু, সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মাহবুবুল হক নান্নু, ফোরকান-ই-আলম, আবেদ রাজা, জেড মর্তুজা তুলা, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাসার, শরিয়তপুর জেলা বিএনপি সভাপতি জামাল শরিফ হিরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মনির হোসেন, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। কেন্দ্রীয় নেতাদের একের পর এক মামলায় কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে। তারা লাগাতার হরতাল, অবরোধসহ কড়া কর্মসূচি ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছেন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি। ১১ই মার্চ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান ও নেতাদের গ্রেপ্তারের পর তিন দফায় ৫ দিন হরতাল করেছে ১৮ দল। সর্বশেষ ৯-১০ই এপ্রিল হরতাল ঘোষণা করেছে বিরোধী জোট। কিন্তু কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে গিয়ে অনির্দিষ্টকালের হরতালের ডাকছে একের পর এক জেলা কমিটি। এদিকে সামপ্রতিক সময়ে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বিভিন্ন জেলা সফরে গিয়ে ফের ঢাকামুখী লংমার্চ ও ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। কিন্তু সক্রিয় শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আন্দোলনে বিএনপি সমস্যায় পড়বে কিনা- এমন আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, সক্রিয় নেতাদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম শারীরিকভাবে অসুস্থ, নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। কেবল দু’জন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপিই এখন দায়িত্বের পুরোভাগে। তবে নেতৃত্ব সঙ্কটের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, অতীতে এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকারের সময়েও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ নেতাদের কারাবন্দি করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। সর্বশেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা জেলে থাকার পরও গত বছরের ১১ই জুনের ঢাকার মহাসমাবেশে জনসমাগম ছিল যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। দলের তৃণমূল নেতারা বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়- এবার কারাগারে নেয়ার উদ্দেশে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে কড়া বক্তব্য ও স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তাদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ আর প্রতিবাদের দৃঢ়তা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন চিকিৎসার উদ্দেশে নিভৃতে লন্ডনে অবস্থান করছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমপ্রতি তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে এসে শনিবার এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। গণমাধ্যমে সে বক্তব্য প্রকাশের কারণে সারা দেশে নেতাকর্মীরা নতুন করে চাঙ্গা হবে আন্দোলনে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, নিম্ন আদালত সরকারের দ্বারা প্রভাবান্বিত। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে আমাদের সিনিয়র নেতারা জামিন পাবেন এ বিশ্বাস আছে। তবে এজন্য ১০-১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, অব্যাহতভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে নেতৃত্বশূন্য করতে সরকার যেভাবে বিরোধী নেতাদের কারাগারে পুরছে সেটা খারাপ লক্ষণ। দেশবাসী বুঝে, এ পর্যায়ের নেতারা কখনও গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় না। তাই রাজনৈতিক নেতাদের কারাবন্দি করে আন্দোলন থামানো যায় না। এখন রাজপথ ও আদালত দু’দিকেই জোরালো লড়াই করবো। ব্যারিস্টার রফিক বলেন, সিনিয়র নেতাদের কারাবন্দি করা হলেও দল এবং আন্দোলন পরিচালনার জন্য বিএনপিতে নেতৃত্বের সঙ্কট হবে না। দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, এবার আন্দোলনের চূড়ান্ত পথেই হাঁটতে যাচ্ছে বিএনপি। গত চার বছরের রেওয়াজ ভেঙে দফায় দফায় হরতাল ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এপ্রিলে আরও হরতালসহ অবরোধ কর্মসূচি আসতে পারে। সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হার্ডলাইনে হাঁটার বিকল্প নেই বিএনপির সামনে।
কারাবন্দি নেতাদের সুচিকিৎসা দেয়ার দাবি বিএনপি’র
এদিকে কারাবন্দি সিনিয়র নেতাদের আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সুচিকিৎসা দেয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ এ দাবি জানান। তিনি বলেন, কারাবন্দি নেতাদের হাসপাতালে সুচিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ ছিল আদালতের। নেতাদের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও বিএনপি দলীয় এমপি শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে বারডেম হাসপাতালে এবং যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু কারাকর্তৃপক্ষ সে নির্দেশ মানেনি। আমরা অবিলম্বে নেতাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এদিকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে নেতাদের হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানানো হলেও গত রাত ৮টার দিকে তাদের কাসিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নোমান
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। গততাল তার একান্ত সচিব নুরুল আজিমের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, আদালতে নোমানের আইনজীবী উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন নোমান। কিছুদিন আগেও সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তার হার্টে তিনটি রিং বসানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আদালত তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। অবিলম্বে আদালতের নির্দেশনা মেনে হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অন্যথায় তার অসুস্থতার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট