Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হেফাজতকর্মীদের খাবার দিচ্ছে সাধারণ মানুষ

ঢাকা: ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ ফাঁসিসহ ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ নিয়ে হাজার হাজার জনতা পায়ে হেঁটে মতিঝিলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর রাস্তার দু’পাশে শত শত নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে থেকে পানি, কলা, রুটি দিয়ে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের আপ্যায়ন করছেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-সাইনবোর্ড ও শ্যামপুর এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী দিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাতে মতিঝিলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবার হাতে নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন। আর মুখে স্লোগান ‘নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি চাই’।
প্রচণ্ড রোদ আর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির হরতালকে উপেক্ষা করে  হেফাজতের হাজার হাজার কর্মীর মিছিল যেন ঢাকাকে সাদা পাঞ্জাবি আর টুপির শহরে পরিণত করেছে।

পায়ে হেঁটে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর, বি বাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কাঁচপুর,সোনারগাঁ থেকে হাজার হাজার মুসল্লি আসছে ঢাকার দিকে।

এ সময় রাস্তায় দু’পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের পানি সরবরাহ করতে দেখা গেছে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকদের।

অনেক গৃহিনীকে তাদের রান্না করা খাবার আর পানি তাদের ছোট বাচ্চাকে দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমদের হাতে তুলে দেয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে।

অনেকে আবার লেবুর শরবতের দোকানদারকে সারাদিনের জন্য ভাড়া নিয়ে আলেমদের শরবত খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করেছেন।

লংমার্চে অংশ নেয়া আলেমদের পানি খাওয়ানো শ্যামপুরের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ (৪০) নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “আমি সামান্য একটি চাকরি করি। বেতন কম। আমার টাকা পয়সা নাই। তাই ৫০০ টাকা দিয়ে আলেমদের পানি খাওয়ানো ব্যবস্থা করেছি। সামর্থ্য থাকলে দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থাও করতাম।”

দনিয়া কলেজের সামনে ছোট মেয়েকে দিয়ে আলেমদের হাতে পানির বোতল তুলে দিচ্ছিলেন এক মহিলা। তিনি জানান, “ আমি একজন মুসলমান। আমার বাসার সামনে দিয়ে সারারাত মানুষ হেঁটে যাচ্ছে। এটা দেখে আমি বাসায় বসে থাকতে পারিনি। তাই আমি, আমার স্বামী ও বাচ্চারা মিলে আলেমদের জন্য সামান্য পানি ও কলা-রুটির ব্যবস্থা করেছি।”

সোনারগাঁ থেকে হেঁটে আসা মাওলানা মনিরুজ্জামান দেওবন্দী নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “আমার হেঁটে আসার কোনো দুঃখ নেই। এদেশের মানুষ যে কতো ধার্মিক তা আজকের লংমার্চে এসে আমি বুঝলাম।  রাসূল (সা.) এর সম্মানে এদেশের মানুষ যে জীবন দিতেও প্রস্তুত তা আজকের লংমার্চে না আসলে বুঝতেই পারতাম না।”

একথা বলেই কেঁদে দেন তিনি। পাশে পানি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট শিশুটিকে দোয়া করে আবার মতিঝিলের দিকে রওনা হোন মাওলানা মনিরুজ্জামান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট