Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মতিঝিলে জড়ো হচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা, মঞ্চ তৈরীর কাজ চলছে

ইসলাম ও নবী করীমের (সা.) অবমাননার বিচার এবং সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালসহ ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলামের ডাকে সারা দেশ থেকে ঢাকায় পৌঁছেছেন ৫ লাখ লংমার্চ সমর্থক আলেম-ওলামা ও মুসল্লি।

এর মধ্যে লালবাগ মাদ্রাসায় ৫০ হাজারেরও বেশি, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৩০ হাজারেরও বেশি, চিটাগাং রোডের মাদানী নগর মাদরাসা এলাকায় প্রায় ১০ হাজার লংমার্চ সমর্থক অবস্থান করছে।

এছাড়াও গাবতলী, উত্তরা, সদরঘাট ও বুড়িগঙ্গা সেতুর প্রবেশ পথগুলো দিয়ে শত শত লংমার্চ সমর্থকের জনস্রোত ঢাকায় আসছে।

শুক্রবার সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড দলে লংমার্চ সমর্থকরা ঢাকায় প্রবেশ করতে শুরু করেন।

বাদ জুমা থেকে লংমার্চ আহ্বানকারী আল্লাম শাহ আহমদ শফীর অবস্থানস্থল লালবাগ মাদ্রাসায় জড়ো হতে থাকেন তারা। মাগরিব নামাজের সময় লালবাগে জনসমাগম ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

বিকাল ৩টা থেকে লংমার্চ সমর্থকদের অনেকেই লংমার্চ সমর্থকদের গন্তব্য মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায়।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শাপলা চত্বরের জনতা ব্যাংকের বৈদেশিক শাখার সামনে ৩০ বাই ৩৬ ফুট বিশাল মঞ্চ তৈরি শুরু হয়। ওই সময় ওই এলাকায় ৫ হাজারেরও বেশি লংমার্চ সমর্থক অবস্থান করছিল।

শুক্রবার বিকেল থেকে সংগঠনটির হাজারো নেতাকর্মী মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে গোটা এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসরের নামাজের পর থেকেই শত শত লংমার্চ সমর্থক মতিঝিল আসতে শুরু করে। তারা শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। হাতে হাত রেখে মঞ্চ তৈরির স্থান আগলে রাখে।

মঞ্চ তৈরি শুরুর পরে শাপলা চত্বরে আসেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী। তিনি মঞ্চ তৈরির কাজ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে মোনাজাত করেন।

এদিকে, হেফাজতের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করে। সন্দেহভাজনদের নিরাপত্তা চকি বসিয়ে তল্লাশী ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, হেফাজতের ইসলামের সমাবেশ করার অনুমতি থাকায় তারা নিরাপত্তা দিতে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা চকি বসিয়েছেন। হেফাজতের নামে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে ব্যাপারে তারা সর্তক রয়েছে।

হেফাজতের নেতাকর্মীরা জানায়, ইসলাম ও রাসূল (স.) নিয়ে কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের বিচারের দাবিতে ইমানী দায়িত্ব পালন করতেই তারা এখানে রাত থেকে অবস্থান করবেন।

তারা আরও জানান, মঞ্চ তৈরির কাজে সহয়তা করতে রাজধানীর বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক বিকেল নাগাদ মতিঝিলে জড়ো হয়। তারা যে কোন মূল্যেই শনিবারের সমাবেশ  করার ব্যাপারে দৃঢপ্রতিজ্ঞ।

মতিঝিলে হেফাজতের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হওয়ার পর সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। তাদেরকে আল্লাহ আকবর স্লোগানে হেফাজতের কর্মীদের সঙ্গে সুর মেলাতে দেখা গেছে।

ছুটির দিনে সরকারি হরতালের কড়া সমালোচনা করেন মতিঝিলে আগত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। তারা ইসলাম রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান সরকারের প্রতি।

রাজধানীর চিটাগং রোডে কোনো গাড়ি নেই। তবে সাধারণ মানুষ পায়ে হেটে মতিঝিলের গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন।

চিটাগং রোডে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা থেকে বাড়তি পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চিটাগাং রোডের ওভার ব্রিজ সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদস্যরা।

সন্ধ্যায় লংমার্চে অংশ নিতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে আলেম-ওলামারা এসে পৌঁছেছেন চিটাগং রোডে। সেখানে মাদানী নগর মাদরাসা ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন তারা। ওই মাদরাসায় রাত্রিযাপন শেষে তারা আগামীকাল নির্ধারিত লংমার্চে অংশ নেবেন।

চট্টগাম থেকে আসা একটি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এরই মধ্যে প্রায় ৫০টি গাড়ি আলেম ওলামাদের নিয়ে চিটাগং রোডে এসে পৌঁছেছে।

এছাড়া একটার পর একটা গাড়ি এসে থামছে চিটাগাং রোডে। দাঙ্গা পুলিশের একটি দল রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিটাগাং রোডে নারায়ণগঞ্জের হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা ব্যানারসহ অবস্থান নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে আসা লংমার্চ সমর্থকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লংমার্চ সমর্থকদের বাস ভিড়ছে ওই এলাকায়।

বাস থেকে নেমে তারা ৪০-৫০ জনের দলে ভাগ হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মাদরাসার দিকে যাচ্ছে। অনেকেই পায়ে হেটে রওনা দিয়েছেন মতিঝিলের শাপলা চত্বরের দিকে।

লংমার্চ সমর্থকরা জানিয়েছেন ঢাকামুখী মহাসড়কে লংমার্চ সমর্থকরা সরকারদলীয় নেতাকমী ও পুলিশের বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। লংমার্চে আসায় অনেককেই নির্যাতন করা হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট