Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘ছাত্রলীগ পরিচয় দেয়ার পরও পুলিশ আমাকে গুলি করলো’

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে পুলিশের গুলিতে আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। তার নাম
শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৩৫)। পেশায় তিনি ছিলেন ফল বিক্রেতা। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ চারজন। এরা হলেন-৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন খান, কামরাঙ্গীচর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ফজলু বাবুর্চি ও পথচারী নূরুল ইসলাম (২২)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ, আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল ৫টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানা সংলগ্ন জামিয়া নূরীয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জোর করে ওই মাদ্রাসার দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশ দু’পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে প্রথমে ফাঁকা গুলি করে। এতে কাজ না হলে তেড়ে আসা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার মারা যান। গুলিবিদ্ধ হন আরও কয়েকজন। পরে নিহত শহিদুল ইসলামের লাশ ও গুলিবিদ্ধদের পুলিশের গাড়িতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার পর আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমি শুনেছি পুলিশের গুলিতে শহিদুল ইসলাম মারা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। সেখানে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে পুলিশের গুলি চালাতে হলো। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ইকবাল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের পরিচয় দেয়ার পরও পুলিশ তাদের উদ্দেশে গুলি করেছে। এছাড়া শহিদুল ইসলামকে ধরে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন খান অভিযোগ করেন, পুলিশের গুলিতেই আওয়ামী লীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি হারুন উর রশীদ বলেন, দুই পক্ষের মারমুখী অবস্থানে পুলিশ গুলি না চালালে শ’শ’ লোক মারা পড়তো। কিন্তু পুলিশ তো ফাঁকা গুলি করেছে। এতে প্রাণহানি ঘটলো কিভাবে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নিহত শহিদুল ইসলামের বাবা আফসার হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ফল বিক্রি করতেন। মাঝে-মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী ফেরদৌসের সঙ্গে ঘোরা-ঘুরি করতো। গতকাল ফেরদৌস তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই তিনি লোকমুখে শুনতে পান- তার ছেলে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। এদিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় এমপি ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। এ সময় গুলিবিদ্ধ ইকবাল হোসেন আইন প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগের পরিচয় দেয়ার পরও পুলিশ আমাকে গুলি করেছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির খান বলেন, তার সামনেই পুলিশ শহিদুল ইসলামকে মারধর করে গুলি করেছে। শহিদুলকে বাঁচাতে গেলে পুলিশ তাকেও গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি করার আগে শহিদুল ইসলামকে পুলিশ বুট দিয়ে লাথি মারে। রাইফেলের বাঁট দিয়ে পেটায়। পরে বুকের বাম পাশে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ অভিযোগ করেন, তাঁরা আসরের নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে পুলিশ উপস্থিত ছিল। হামলায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৩০জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মফিজ উদ্দিন বলেন, কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. সোলেমান শেখের নেতৃত্বে কামরাঙ্গীরচর থানা সংলগ্ন চৌরাস্তায় প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। এ সময় মাদ্রাসার ছাত্ররা হামলা চালানোর জন্য এগিয়ে এলে সমাবেশ থেকেও ধর ধর বলে চিৎকার করে তাদের দিকে দৌড়ে যেতে থাকে লোকজন। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে। হাজী মো. সোলেমান বলেন, আমি তখন মসজিদে আসরের নামাজ পড়ছিলাম। নামাজ শেষ হওয়ার পরই শুনি পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আসলে ঘটানস্থলে কি ঘটেছিল তা দেখি নাই। এদিকে হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে এমন বর্ণনা দেয়ার পরপরই উপস্থিত আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন সরকার বলেন, মাদ্রাসার ছাত্ররা তিন দিক থেকে আমাদের সমাবেশ ঘিরে হামলা করেছিল। এর প্রতিবাদে আমাদের লোকজনও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু ওই সময় আকস্মিকভাবে পুলিশের গুলিতে আমাদের একজন কর্মী মারা যান। এদিকে শহিদুলের মৃত্যুর খবর শুনেই হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান তার স্ত্রী কামরুন্নাহার, ৭ বছর বয়সী ছেলে শাহরিয়ার, বোন শিমু ও পিতা আফসার হাওলাদার। তারা মর্গে শহিদুলের লাশ পড়ে থাকতে দেখেই মাতম শুরু করেন। নিহতের স্ত্রী কামরুন্নাহার বিলাপ করে বলছিলেন, কেন তার সর্বনাশ করা হয়েছে। কী অপরাধে গুলি করা হলো তার স্বামীকে। নিহতের পিতা আফসার হাওলাদার বলেন, তার পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে শহিদুল ছিল সবার বড়। বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার হজপাড়া গ্রামে। পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন কামরাঙ্গীরচর থানাধীন খলিফা ঘাটের মান্নান পাটোয়ারীর বাড়িতে। ঘটনার পরপরই কামরাঙ্গীচর এলাকায় অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে মাদ্রাসা ও মসজিদগুলোতে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট