Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লংমার্চ- পথে পথে বাধা

যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একদিন আগে থেকেই। ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন সারা দেশ। এরই মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থায় বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় রওনা হয়েছেন হেফাজতে ইসলামের লাখো কর্মী। আসছেন ট্রেনে করেও। তবে তাদের অভিযোগ পথে পথে বাধার। বাধা দেয়া হচ্ছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে। হেফাজত  কর্মীদের বহনকারী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া লংমার্চ বহর অনেক স্থানে আটকে দেয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে এসে পৌঁছেছেন হেফাজতের বিপুল সংখ্যক কর্মী। বাধা উপেক্ষা করেই আজ দিনের প্রথমভাগে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আরও হাজার হাজার কর্মীর সমাবেশে অংশ নেয়ার কথা আছে। সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর শাপলা চত্বরে শুরু হবে লংমার্চের সমাবেশ। এই সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। কয়েক হাজার পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে পুরো এলাকায়। রাতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে গতকাল রাতেই সমাবেশ মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। রাত ১০টার দিকে কয়েক হাজার কর্মী মঞ্চে নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। তারা নিজেরাই চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেন। বিকালে সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লংমার্চে আসতে তাদের কর্মীদের পথে পথে বাধা দেয়া হয়। তারা জানিয়েছেন, আজকের সমাবেশ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
হেফাজতের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, টুপিওয়ালা কাউকে দেখলেই রেলস্টেশনে টিকিট দেয়া হচ্ছে না। যারা বাস বা অন্য যানবাহন নিয়ে রওনা হন তারা অহেতুক তল্লাশির শিকার হন। দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা হেফাজতের কর্মীরা গাড়িবহর নিয়ে সকালে রওনা হলেও তারা ফেরিঘাটে এসে দেখতে পান ফেরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই হেফাজতের কর্মীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যানবাহন না পাওয়ায় অনেক জেলা থেকে নেতাকর্মীরা লংমার্চে আসার কর্মসূচি বাতিল করে নিজ নিজ জেলায় অবস্থানের ঘোষণা দেন। চট্টগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তারা ঢাকায় আসতে পারেননি। এ কারণে দুপুর থেকে নগরীরর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সামনে এবং ওয়াসা মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার থেকে গাড়িবহর নিয়ে ঢাকা উদ্দেশ্যে আসতে না পারায় প্রত্যেক জেলায় আজ সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সিলেট থেকে হেঁটেই হেফাজতের কর্মীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। যশোর থেকে ঢাকার আসার পথে ফরিদপুরে হেফাজতের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, লংমার্চে অংশ নিতে পারছেন না হবিগঞ্জের লক্ষাধিক মুসল্লি ও আলেম-ওলামা। প্রতিবাদে আজ শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ মেজর জেনারেল এমএ রব গোল চত্বর এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন ওলামা-মাশায়েখগণ।
লংমার্চে একাত্মতা প্রকাশ করেছে হবিগঞ্জ ইসলামী সংগ্রাম পরিষদ। তারা হবিগঞ্জের বানিয়াচং, বাহুবল, নবীগঞ্জ, সদরসহ কয়েকটি উপজেলার লক্ষাধিক মুসল্লি ও ওলামা-মাশায়েখ প্রস্তুতি নেন লংমার্চে অংশ নেয়ার। সে হিসেবে হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতি ও বাস মালিকদের সঙ্গে পরিবহনের জন্য যোগাযোগ করে তারা ব্যর্থ হন। প্রশাসনের নির্দেশে মালিক সমিতি বাস প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে। তবে হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গাড়ি ভাঙচুরের ভয়ে কোন বাস মালিক গাড়ি দিচ্ছেন না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে গাড়ি প্রদানে কোন বাধা নেই বলে তিনি জানান। এদিকে পরিবহন না পেয়ে হবিগঞ্জ ইসলামী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হকের সভাপতিত্বে গতকাল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন- সংগ্রাম পরিষদ নেতা মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল, হাফেজ আবদুর রহমান, মাওলানা আইয়ুব বিন সিদ্দিক। সভায় তারা লংমাচের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে আজ সকাল ৭টায় পায়ে হেঁটে ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহাসড়কে পৌঁছুবেন। সেখানে পরিবহন পাওয়া গেলে ঢাকায় যাত্রা করবেন। অন্যথায় মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন সংগ্রাম পরিষদের মুখপাত্র মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, লংমার্চের কারণে সরাসরি ঢাকায় চলাচলরত বাস বন্ধ করে নিয়েছে বাস মালিকরা।
গতকাল শহরের পুলিশ লাইনস, বনপাড়া বাইপাস ও কাছিকাটা টোলপ্লাজাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল বসিয়ে মুসল্লিদের বাধা প্রদান করা হয়। এছাড়া শহরের বিভিন্ন মোড়ে সরকারদলীয় কর্মীরা টহল দিয়ে মুসল্লিদের বাসে উঠতে  বাধা দিয়েছে। শহরের ভবানীগঞ্জ মোড়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সেখানেই বিক্ষোভ মিছিল করেন তৌহিদী জনতা। সে সময় সরকার বিরোধী স্ল্লোগান না দিতে মুসল্লিদের শাসিয়ে দেয় সরকারদলীয় কর্মীরা। এ ব্যাপারে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ এটাকে নিয়মিত টহল দাবি করেছেন। তবে বাধাপ্রাপ্ত মুসল্লিরা জানান, ঢাকা যেতে নিষেধ করে বাস ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় বাধা উপেক্ষা করে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।
দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে জানান, দিরাইয়ে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশি বাধার মুখে লংমার্চে না যেতে পেরে থানা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লংমার্চগামী নেতাকর্মীরা। গতকাল জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্র্র্মীরা থানা পয়েন্টে ভাড়া করা ৫টি বাসে ওঠার চেষ্টা করে। এ সময় দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাসটি ঘিরে ফেলেন। ভয়ে বাসচালক, বাস রেখেই পালিয়ে যান। এরপর নেতাকর্মীরা জায়নামাজ বিছিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। সেখানে ঘণ্টাব্যাপী চলা অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা নাজিম উদ্দিন, মাওলানা নূরউদ্দিন আহমদ, মাওলানা ইলিয়াছ আহমদ, হাফেজ মাওলানা আরিফ আহমদ, মাওলানা লোকমান আহমদ, মাওলানা মুখতার হোসাইন প্রমুখ। দিরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, আমরা কাউকে বাধা প্রদান করিনি। আমরা শুধু বলেছি আপনারা যারা যাচ্ছেন তাদের ভিডিও করে রাখবো। বাস আটকিয়েছে মালিক সমিতি।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান,  আজকের ঢাকার লংমার্চ সফল করতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলাম ও ওলামা পরিষদের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লংমার্চে যোগদান উপলক্ষে সর্বশেষ প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে সরকারের ইন্ধনে লংমার্চে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন হেফাজতের নেতারা।
নেতারা জানিয়েছেন, রাজশাহী থেকে বিপুলসংখ্যক আলেম-ওলামা ও মসল্লি লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন। এজন্য গতকাল সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাজশাহীর মহাসচিব হাফেজ মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা ইয়াকুব আলী, মাওলানা আবদুল্লাহ, মাওলানা হাফিজুর রহমান ও মাওলানা বুরহান উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে রাজশাহীর ওলামা পরিষদের নেতারাও অংশ নেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাজশাহীর মহাসচিব হাফেজ মাওলানা আবদুল জব্বার জানান, লংমার্চে যোগ দেয়ার জন্য আগে থেকেই যে সব বাস ঠিক করা হয়েছিল ওই বাস মালিকরা এখন বাস দিতে চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, সরকারের উপর মহলের নির্দেশেই বাসমালিকরা এমন আচরণ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপরও তিনি বিকল্প পন্থায় লংমার্চে যোগ  দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, গতকাল থেকেই লংমার্চের উদ্দেশে রাজশাহী থেকে আলেমরা ঢাকার দিকে রওনা দিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, হেফাজতে ইসলাম খুলনার নেতাকর্মীরা যেন লংমার্চে যোগ দিতে না পারে সেজন্য সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা রুটে পরিবহণ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর হরতালের কারণে আটকেপড়ার ভয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পরিবহণ মালিকরা জানিয়েছে। তবে খুলনার আন্তঃজেলার অন্য সব রুটে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এদিকে হেফাজতে ইসলামের খুলনার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিনসহ ১৪ নেতাকর্মীকে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে রেল স্টেশন থেকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়। অপরদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেছেন, তারা যেন লংমার্চে অংশগ্রহণ না করতে পারে তাই সরকারের নির্দেশে পরিবহন মালিকেরা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। জুমার নামাজের পর নগরীর মুসলমানপাড়া দারুল উলুম মাদ্‌রাসা থেকে পায়ে হেঁটে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে লংমার্চ করবেন বলে ঘোষণা দেন। নগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসা থেকে কর্মীরা এখানে একত্রিত হবেন এবং বিকাল ৩টায় রওনা দেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে, দুপুর থেকে কোতোয়ালি জোনের এসি ও সদর থানার ওসি’র নেতৃত্বে কয়েক শ’ পুলিশ মাদ্‌রাসার প্রবেশ মুখে অবস্থান নেয়। নামাজ শেষে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ ও মাদ্‌রাসার শিক্ষার্থীরা স্ল্লোগান দেয়া শুরু করলে মাদ্‌রাসার মোতোয়ালি আবদুল জব্বার জমাদ্দার ওরফে কটা জব্বারসহ স্থানীয় ৬/৭ জন ব্যক্তি মাদ্‌রাসা থেকে কোন ধরনের মিছিল বের হবে না বলে হুমকি দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হুমকিদাতারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিকাল ৪টা পর্যন্ত এভাবে দফায় দফায় মাদ্‌রাসা ও মসজিদের গেটে উভয়পক্ষে ধাক্কা-ধাক্কি চলতে থাকে। এ সময় মসজিদ চত্ব্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে হেফাজতের ইসলাম। খুলনা-মাওয়া হয়ে ঢাকা রুটে কিছু গাড়ি চলাচলের কথা বললেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানেও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা দাড়িওয়ালা ও টুপিওয়ালা দেখলেই গাড়ি থেকে নামিয়ে রেখেছে। এমনকি মাওয়া ঘাটের মাঝপথে চরের মধ্যে নামিয়ে রাখে মুসল্লিদের। এমন অভিযোগ লংমার্চে যাওয়া হেফাজতে ইসলামের আটকেপড়া নেতাকর্মীদের।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট