Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পথে পথে বাধা

হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ঠেকাতে নেয়া হয়েছে সর্বাত্মক পদক্ষেপ। অবরোধ শুরুর ১২ ঘন্টা আগেই শুরু করে দেয়া হয়েছে অবরোধ। প্রশাসনযন্ত্র আর শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন করে ফেলা হয়েছে ঢাকাকে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, বরিশালসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে ঢাকামুখী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বরিশাল থেকে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ফেরি চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অজুহাত দেয়া হয়েছে নিরাপত্তার। মূলত ঢাকাগামী হেফাজতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ঠেকানোর জন্যই এ কৌশল নেয়া হয়েছে। হেফাজতের নেতা-কর্মীরা যেসব বাস ভাড়া করেছিলেন সেসব বাস মালিকরাও এখন ঢাকায় আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বিকল্পপথে ঢাকায় আসার চেষ্টা করছেন হেফাজতের কর্মীরা। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, বাধার মধ্যেও ভোরে চট্টগ্রাম থেকে লংমার্চ শুরু হয়েছে। ৫০টি মাইক্রোবাসের একটি কাফেলা সকালে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন। এখন বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদে অবস্থান করছেন। জুমার নামাযের পর তাদের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওণা হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকার মত রাজশাহী-ঢাকা রুটে শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যা থেকে হরতাল-অবরোধ শুরু হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দিয়ে কৌশলে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার  ভোরে কয়েকটি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও সকাল আটটার পর থেকে রাজশাহীর ঢাকা টার্মিনাল  থেকে কোন বাস ছাড়েনি। এ অবস্থায় অনেকেই বাস কাউন্টারে এসে দুর্ভোগে পড়েন। আমাদের সাতকানিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আগামীকালের লংমার্চে অংশগ্রহণের জন্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার হেফাজত নেতা-কর্মীরা ছোটবড় ৫০টি গাড়ি রিজার্ভ করেছিলেন। কিন্তু সরকার সমর্থিত দল ও সংগঠনের হরতাল ও অবরোধের অজুহাত তুলে গাড়ি মালিকগণ গাড়ি দিতে অস্বীকার করায় শেষ মূহুর্তে এসে ব্যক্তিগত উদ্যেগেই ঢাকা ছুটছেন হেফাজত নেতা-কর্মীরা। হেফাজত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকা হতে ৫  হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় পৌঁছার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। তারা প্রায় সকলে গাড়ি ভাড়া ও শুকনা খাবার বাবদ জনপ্রতি দেড় হাজার টাকা হারে পরিশোধও করেছিলেন। সেই মতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে সব গাড়ি মালিক গাড়ি দিতে অস্বীকার করে। তবে এতেও দমতে রাজি নয় হেফাজত নেতাকর্মীরা। হরতাল-অবরোধের খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ও রাতে কমপক্ষে ২ হাজার হেফাজত নেতা-কর্মী সাতকানিয়া হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। অনেকে আজ শুক্রবার ভোরে রওয়ানা দিয়ে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুসারে তারা যাত্রা শুরু করবেন। সাতকানিয়া উপজেলার একজন হেফাজত নেতা জানান, তার সঙ্গে সাতকানিয়া হতে আরো ৫  শতাধিক হেফাজত নেতাকর্মী ইতিমধ্যেই নগরীতে পৌঁছেছেন। সংগঠন হয়ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী ঘোষণা করতে পারে। কারণ তার আদেশেই সকল গাড়ি বাতিল করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারনে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা রুটে সকল যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা পরিবহণ মালিক সমিতি। শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটা থেকে যে সকল বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল তাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি হাসান ইমাম বকুল। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই পরিবহণ মালিক সমিতির জরুরী বৈঠক শেষে শুক্রবার ভোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সকল পরিবহণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তেমনি গাবতলী বাস ডিপো থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে কোন বাস ছেড়ে আসবে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট