Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

১৭০ খুনের দায়ে প্রধানমন্ত্রীকে হুকুমের আসামি করা হবে: খালেদা

সাতক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপরাসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “আপনি একটি লাশের পরিবর্তে ১০টি লাশের কথা বলেছিলেন। আপনার নির্দেশে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। আর গত কয়েকদিনে ১৭০ জন মানুষকে হত্যার জন্য আপনাকে হুকুমের আসামি করা হবে। শুধু তাই নয়, চুরি, লুটপাটের জন্যও আসামি করা হবে।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরার বালক উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

জেলা বিএনপির আয়োজনে এটি শোকসভা হলেও এটা পরিণত হয় জনসভায়। দুপুর থেকেই মিছিলসহ সাতক্ষীরা বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আসতে থাকেন বিএনপি ও ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। বিকেল চারটার পরে খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে উপস্থিত হলে উপস্থিত জনতা তাকে দুই হাতে তালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় হাত নেড়ে জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন তিনি।

খালেদা বলেন, “যারা নবীজীকে নিয়ে কটূক্তি করছে, সরকার তাদের জামাই-আদর করছে। আর যারা এর প্রতিবাদ করছে, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। এর আগেও দুটি সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো বাধা দেয়া হয়নি। কিন্তু এখন হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি বানচাল করতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে সরকার হরতালসহ নানা কর্মসূচি দিচ্ছে।”

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “দেশে কোনো অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হলে তার দায় সরকারের এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।”

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার মিথ্যা মামলা দিচ্ছে- এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, “পত্রিকায় দেখলাম, এখন নাকি আমি টার্গেট। আমি সারাজীবন আন্দোলন করেছি। মামলা-আটকে ভয় পাই না।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে হুকুমের আসামি করা হবে। বিএনপি নেতাদের হুকুমের আসামি করা হচ্ছে। বিচার বিভাগে দলীয়করণ করায় আটক নেতাদের জামিন দেয়া হয় না। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গৎবাঁধা মামলা দেয়া হচ্ছে।”

সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, “হরতাল দেখতে না চাইলে পদত্যাগ করুন। লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড করুন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় থাকবেন। আমরা চাই গণতন্ত্র অব্যহত থাকুক। কিন্তু একদলীয়ভাবে নির্বাচন হবে না। অন্যথায় হরতাল চলছে, চলবে।”

তিনি বলেন, “সরকারের লোকেরা চুরির টাকায় বিদেশে বাড়ি কিনেছেন। পরিবারের লোকদের পাঠিয়ে দিয়েছেন। হয়তো টিকিটও কেটে পকেটে রেখেছেন, সুযোগ পেলেই চলে যাবে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ হলো দু’মুখো সাপের চেয়েও খারাপ। এদের কোনো লজ্জা নেই, তারা নিজেদের প্রয়োজনে যখন-তখন মিথ্যা কথা বলে। তারা ’৯৬ সালে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল আওয়ামী লীগ, তখন জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ছিল না। এই হলো তাদের চেহারা। তাই এদের চিনতে হলে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার পরের বই-পুস্তক পড়তে হবে।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, “অনেক কষ্ট করেছেন, আর এটকু কষ্ট করতে হবে। ভাড়া করে, খাবার দিয়ে লোকজন এনে টেলিভিশনে চেহারা দেখালে হবে না। এখানে নিজের ইচ্ছায় হাজার হাজার লোকজন এসেছে অথচ সরকারের কোনো প্রোগ্রাম করতে অনেক টাকা লাগে। দেখে যান উপস্থিত যুবকদের মধ্যেই দেশপ্রেম রয়েছে।”

সরকারের মধ্যে অনেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে- এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “এখন যে বিচার হচ্ছে তা নিরপেক্ষ হচ্ছে না। বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের। যারা পাকিস্তান সরকারের চাকরি করেছে তাদের বিচার করতে হবে।”

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, “যেখানে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, আমরা সেখানে যাচ্ছি, সমবেদনা জানাচ্ছি। কিন্তু সরকার নিহতদের কোনো খোঁজখবর নেয় না, এমনকি কোনো সহায়তা করছে না। আমরা শুধু আপনাদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এসেছি। যারা চলে গেছে তারা আর ফিরে আসবে না। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবারের যোগ্য সন্তানদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।”

সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত আট পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রত্যেক পরিবারের হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন। এর আগে দুপুরে জেলার কলারোয়া উপজেলায় নিহত চার পরিবারের সদস্যদের হাতে এক লাখ নগদ টাকা তুলে দেন খালেদা জিয়া।

বিকেলে সাতক্ষীরায় শোকসভা শেষ করে খালেদা জিয়া সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট