Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মুখোমুখি

টানটান উত্তেজনা। উদ্বেগ-আতঙ্ক চারদিকে। দুই পক্ষ মুখোমুখি। পাল্টাপাল্টিতে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এক পক্ষে কওমী মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। আগামীকাল তাদের পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বিকল্পধারা, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে লংমার্চ প্রতিরোধে একাট্টা সেক্টর কমান্ডারস্‌ ফোরামসহ ২৭টি সংগঠন। তারা আজ বিকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। হরতালের সমর্থন দিয়েছে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। লংমার্চ আহ্বানকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, যে কোন মূল্যে তারা তা সফল করবেন। অন্যদিকে হরতাল ও অবরোধ আহ্বানকারীরা জানিয়েছেন, তারা লংমার্চ প্রতিরোধ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতির। বলা হয়েছে, লংমার্চের নামে বিশৃঙ্খলা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরতাল প্রত্যাহার না করলে রোববার থেকে লাগাতার হরতাল পালন করা হবে। লংমার্চকে ঘিরে সারা দেশের পরিবহন সেক্টরে অলিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল থেকেই যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। রেল ও নৌপথেও একই ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। এবার ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছে সড়ক পরিবহন সমিতি। অন্য হরতালে গাড়ি চালানোর ঘোষণা দিলেও এবার তারা বলেছে, হরতালে কোন গাড়ি চলবে না। টানটান উত্তেজনার মধ্যে হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা শাহ আহমদ শফী ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ঢাকায় থেকেই সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত তারা লংমার্চ ও সমাবেশ করার বিষয়ে অনড় ছিলেন। চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ‘শহীদী’ স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। তারা জীবন দেয়ার শপথ নিয়েছেন। জেলায় জেলায় লাখো মানুষ লংমার্চে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। সমাবেশ করার জন্য মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকার অনুমোদনও তারা পেয়েছেন গতকাল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে শান্তিপূর্ণ লংমার্চে বাধা দিলে এর দায় সরকারের। সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে লংমার্চে আরও আগেই সমর্থন ঘোষণা করা হয়। গতকাল দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা লংমার্চের দিন ঢাকা শহরের প্রবেশ পথে ক্যাম্প বসাবেন হেফাজত কর্মীদের সেবা দিতে। তারা তাদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা করবেন।
১২ শর্তে হেফাজতকে সমাবেশের অনুমতি
১২ শর্তে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে লিখিত অনুমতিপত্রে জানানো হয়েছে, সমাবেশ করতে হবে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায়। ৬ই এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে। সমাবেশ স্থলের পরিধি শাপলা চত্বর থেকে ফকিরাপুল ক্রসিং পর্যন্ত। এর বাইরে যেতে পারবে না। এছাড়া সমাবেশের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত এলাকার বাইরে মাইক বা সাউন্ড বক্স ও প্রজেক্টর ব্যবহার করা যাবে না। সমাবেশের জন্য স্থান ব্যবহারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। মঞ্চ নির্মাণ করতে হবে ফুটপাথ ঘেঁষে। কোন প্রকার রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের আগে সমাবেশ স্থলে লোকজন জড়ো হতে পারবে না। বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে। অনুমোদিত সময়ের আগে বা পরে কোথাও সমবেত হওয়া যাবে না। নির্ধারিত সমাবেশ স্থলের বাইরে কোথাও যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। সমাবেশ চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপ করা যাবে না। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই ওই সমাবেশের অনুমতি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
সূত্র জানায়, প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে হেফাজতে ইসলামীর সদস্য সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদের কাছে আবেদন করেছিলেন। এদিকে বিকালে হেফাজতে ইসলামী ঢাকা মহানগর শাখার একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদেরকেও সমাবেশের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।
৭ই এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতালের হুঁশিয়ারি হেফাজতের: ৭ই এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতালের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সরকারসমর্থিত কয়েকটি সংগঠনের ৬ই এপ্রিলের ডাকা হরতাল প্রত্যাহার না হলে কিংবা লংমার্চে বাধা সৃষ্টি করা হলে ৭ই এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতালের ডাক দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল সকালে রাজধানীর লালবাগে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন থেকে দলটির আমীর আল্লামা শাহ আহমেদ শফী এ ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা শফীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুত্র আনাস মাদানী। ৬ই এপ্রিল সকাল ১০টায় জায়নামাজ ও তসবিহ নিয়ে আল্লাহর জিকির সহকারে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোন প্রতিবন্ধকতা আমাদের রুখতে পারবে না। ঈমানের তাগিদ এবং শাহাদাতের তামান্না নিয়ে আমরা ময়দানে নেমেছি। দুই পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে আল্লামা শফী বলেন, ৯৩ বছর বয়সে আমার রাজপথে থাকার কথা নয়। এখন আমার প্রয়োজন ছিল বিশ্রামে থাকার। কিন্তু আরামকে হারাম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে রাজপথে নামতে হয়েছে।  আসলে আমার এবং দেশের আলেম সমাজের সামনে এছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিল না। আল্লাহ এবং তার রাসুল এমনকি মসজিদ না থাকলে আমার তথা কোন মুসলমানের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তিনি বলেন, শহীদ অথবা গাজী হওয়া ছাড়া এখন কোন মুসলমানের ঘরে বসে থাকা জায়েজ নেই। কারণ, ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলকে যেভাবে কটাক্ষ করা হয়েছে পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে কেউ করতে পেরেছে কিনা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কাউকে গদি থেকে হটানো বা কাউকে গদিতে বসানোর জন্য নয়। নিরেট ঈমানের তাগিদে দেশ ও ইসলামের সুরক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক অহিংস আন্দোলন। মুসলমান মাত্রই এই ঈমানি দাবির সঙ্গে একমত পোষণ না করলে ঈমান থাকবে না। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সরকার, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী এমনকি দলনিরপেক্ষ সকলকে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তা না হলে আমাদের ওপর খোদায়ী গজব অনিবার্য। তিনি বলেন, ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতেই বৃদ্ধ বয়সে আমি মাঠে নেমেছি, কারও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বহু মসজিদে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের টুঁটি চেপে ধরার হীন তৎপরতা চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বহু মসজিদের ইমাম-খতিবদের সত্য কথা উচ্চারণের জন্য চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। মসজিদে তালা ও মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। নাস্তিক ব্লগারদের জন্য দোয়া করতে ইমামদের চাপ দেয়া হচ্ছে। কুকুরের মাথায় টুপি পরানো ও ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় চুপ করে বসে থাকলে ইসলাম বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তৌহিদী জনতাকে মাঠে নামা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। লংমার্চ কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিবহন মালিক সমিতিকে বাস ভাড়া না দিতে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এক প্রশ্নের জবাবে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার, পদ্মা সেতু, তত্ত্বাবধায়ক সরকার- এসব আমাদের বিষয় নয়। এগুলো রাজনৈতিক ইস্যু। সংবাদ সম্মেলন শেষে আল্লামা শফীর পরিচালনায় মোনাজাত করা হয়। এ সময় আল্লামা শফী মাইক হাতে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আপনাদের মতো আমাদেরও অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। আমরা সে সবে যাচ্ছি না। আমাদের দাবি একটাই। ঈমান-আকিদা রক্ষা করা। মাওলানা জোনায়েদ বাবুনগরী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসহাক, মুফতি মুহম্মদ ওয়াক্কাস প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
লংমার্চ নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, আশঙ্কা নাশকতার: হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা করা হয়েছে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে যে কোন পক্ষই এমন আত্মঘাতী ঘটনা ঘটাতে পারে। সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়া সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা লংমার্চকে পুঁজি করে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা নিয়েছে। রাজধানীর ডেমরা, মতিঝিল কিংবা মিরপুর থেকেই শুরু হতে পারে নাশকতা। পথে পথে ব্যাপক বোমাবাজি হতে পারে। সারা দেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ আছে, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে কেবল বিএনপি-জামায়াত নয়, ঝিমিয়ে পড়া বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষিত সদস্যরা ছদ্মবেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই হামলার ছক তৈরি করেছে। তবে হেফাজতের উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি বিপরীত কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য একটি চক্র সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। লংমার্চে সরাসরি বাধা দিলে হেফাজতের সদস্যরাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে। ইতিমধ্যে এমন নির্দেশনা বিভিন্ন কওমী মাদরাসা ও মসজিদগুলোতে পাঠানো হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে সারা দেশকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া, অনির্দিষ্টকালের হরতালের ঘোষণাও আসতে পারে ওই লংমার্চের কর্মসূচি থেকে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নাশকতা রোধ করতে রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েনের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর সব প্রবেশমুখ, ডেমরা, মতিঝিল ও মিরপুরের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিশেষ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সেগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে মনিটরিংয়ের কথা বলা হয়েছে। র‌্যাবের ইন্টিলিজেন্স উইং-এর পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, সব ধরনের নাশকতার আশঙ্কা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে যে কোন ধরনের নাশকতা রোধে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা থেকে ২৭ সংগঠনের ২৪ ঘণ্টার হরতাল: আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার  হরতাল ডেকেছে ২৭টি সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সংগঠন। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এ হরতালে সমর্থন জানিয়েছে। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্রীড়া কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরতাল আহ্বানের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে হরতালের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ প্রতিহতের ঘোষণা দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও প্রগতিশীল পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদসহ ২৭ সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সহসভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনসহ ২৭ সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও প্রগতিশীল পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদসহ ২৭টি সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সংগঠন। একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির, সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার জন্য দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা, নারী, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সামাজিক শক্তি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী সমন্বয়ে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের আহ্বান জানায় প্রগতিশীল সংগঠনগুলো। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী মিশে, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারে এবং এ ধরনের লংমার্চ দেশে নৈরাজ্য ও হানাহানি উস্কে দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দেবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংগঠনগুলোর নেতারা। লিখিত বক্তব্যে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, আমরা হরতালে বিশ্বাস করি না। কিন্তু ধর্মের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় হেফাজতের ডাকা লংমার্চ এবং জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা দেশকে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে এ হরতাল ডাকতে আমরা বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে জামায়াত-শিবির মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলতে চেয়েছে এবং একই সঙ্গে তারা সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা চালিয়ে সামপ্রদায়িকতা উস্কে দিতে চেয়েছে। দেশব্যাপী  ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ, সাধারণ মানুষ ও পুলিশ হত্যা, ট্রেন-বাস-ট্রাকে অগ্নিসংযোগ, শহীদ মিনার ভাঙচুর, জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে জামায়াত-শিবির চক্র প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে অনতিবিলম্বে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় আদালত, প্রসিকিউশন ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের জন্যও সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। তিনি বলেন, যদিও আমরা হরতালের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি না তবুও জামায়াত-শিবিরের চক্রান্তের বেড়াজালে জড়িয়ে পড়া হেফাজতে ইসলাম নামক সংগঠনের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আয়োজিত ঢাকা অভিমুখী লংমার্চের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলন থেকে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির, সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার জন্য দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা, নারী, পেশাজীবী, সংস্কৃতি কর্মী, সামাজিক শক্তি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী সমন্বয়ে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের আহ্বান জানায় প্রগতিশীল সংগঠনগুলো। এ হরতাল পালন করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশকে রক্ষার আহ্বানও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার কবির বলেন, অনন্যোপায় হয়ে আমরা হরতাল ডেকেছি। জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে হরতাল ডেকেছি। তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবির দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। তারই অংশ হিসেবে তারা সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও ও হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বা জামায়াতে ইসলাম মূলত ইসলামের নামে ইসলামকে কলঙ্কিত করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শাহরিয়ার কবির বলেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়া যেভাবে ব্লগারদের নাস্তিক ঘোষণা করা হচ্ছে ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তা কোনভাবেই কাম্য নয়। অন্যদিকে, সাঈদীকে চাঁদে দেখানোসহ জামায়াতের যেসব ব্লগার ইসলামের প্রতি অবমাননাকর তৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের আটকের ব্যাপারে সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে যেসব ব্লগার যুক্ত ছিল, তাদের রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হচ্ছে এবং যেভাবে গণমাধ্যমের সামনে তাদের হাজির করা হচ্ছে, পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনের অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও এভাবে হাজির করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, রোবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আজ থেকে অবরোধ গণজাগরণ মঞ্চের: আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী অবরোধ ডেকেছে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। একই সঙ্গে আগামীকাল জনসভা ডেকেছে সংগঠনটি। বিকাল চারটায় গণজাগরণ মঞ্চের প্রজন্ম চত্বরে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ও হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ প্রতিরোধের দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছেন। গতকাল রাতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুতে এক সভার মাধ্যমে তারা এ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন। মঞ্চের পরিকল্পনা অনুযায়ী হেফাজতে ইসলামের ঢাকায় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করতে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধ করবে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। ডা. ইমরান বলেন, সব যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ও দেশবিরোধী ও স্বাধীনতা-বিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলাম ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রশিবিরকে আইন করে নিষিদ্ধের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেছে দেশব্যাপী। ইতিমধ্যেই এ আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাইরের সবখানে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে। এ আন্দোলনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্যত হয়েছে বিভিন্ন মহল, নানা অপকৌশলের মাধ্যমে তারা আদতে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব মহলের পিছনে স্পষ্টতই জামায়াতে ইসলামী ও তাদের হিংস্র বর্বর বাহিনী ছাত্রশিবিরের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। তারা দেশজুড়ে নানা সহিংসতার মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চের অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অন্যায়ভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, তারপরও গণজাগরণ মঞ্চ ধ্রুব সত্যের মতো তার লক্ষ্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ দৃপ্ত প্রত্যয়ের অখণ্ড অনুপ্রেরণা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপন্থি প্রতিটি মানুষ, বাঙালির আবহমান সংস্কৃতিকে বুকে লালন করা বাংলার সাহসী জনগণ। তাই যখনই গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি নানা অপকৌশল চালিয়েছে, তখনই দেশব্যাপী সচেতন জনগণ তা প্রতিহত করেছেন। ডা. ইমরান বলেন, ৬ই এপ্রিল গণজাগরণ মঞ্চ প্রজন্ম চত্বরে জনসভার ডাক দেয়। ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত এ কর্মসূচি ঘোষিত হয় গত ২৬শে মার্চের মহান স্বাধীনতা দিবসের ‘মুক্তিযোদ্ধা-জনতা’ মহাসমাবেশ থেকে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের কর্মসূচিকে লক্ষ্য করেই লংমার্চের ঘোষণা দেয় একটি মহল। ইতিমধ্যেই সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং সেক্টর কমান্ডারস্‌’ ফোরামসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ২৭টি সংগঠন গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অহিংস হরতাল ডেকেছেন। আমরা গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে তাদের সংহতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি। ডা. ইমরান বলেন, সকল পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতি অবরোধ কর্মসূচি সফল করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা চান। তিনি সকল বাস মালিক-শ্রমিকগণের প্রতি, সকল রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের প্রতি, সকল লঞ্চঘাটের মালিক-শ্রমিকগণের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই, আপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচিকে সফল করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুষের প্রতি বিনীত অনুরোধ, আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহযোগিতার মাধ্যমে, অহিংস থেকে আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করুন। সারা দেশের সকল একাত্তরে আমরা সবাই একসঙ্গে হয়ে যেমন পরাস্ত করেছিলাম পাকিস্তানের বর্বর সেনাবাহিনীকে, আজও আমরা সকলে একসঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিকে সোচ্চার করার জন্য কাজ করবো।
লংমার্চের বিরুদ্ধে যারা হরতাল ডেকেছে তারা ইসলামের শত্রু: হেফাজতে ইসলামের ডাকা লংমার্চের প্রতি সমর্থন দিয়েছে ইসলামপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। তারা বলেছেন, ঈমানী দাবিতে ডাকা এই লংমার্চের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে তারা ইসলামের শত্রু। ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ও মহাসমাবেশ সফল করতে দলীয় নেতা-কর্মী সমর্থকসহ সর্বস্তরের ঈমানদার দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের ঈমানী দাবিগুলোর প্রতি সরকার যথাযথ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কোন প্রকৃত ঈমানদার আল্লামা আহমদ শফীর ঈমানী দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন না। তিনি বলেন, ঈমানদার জনতার লংমার্চ বাধাগ্রস্ত করার জন্য যারা ছুটির দিনেও হরতাল আহ্বান করেছে, তারা নিজেদের ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমন হিসেবে প্রমাণ করেছে। পীর চরমোনাই গণমানুষের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তিনি কিছু মিডিয়ার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোন মূল্যে ৬ই এপ্রিলের লংমার্চ ও মহাসমাবেশ সফল করে ইসলামবিরোধী নাস্তিক্যবাদী শক্তির দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনটি কোথাও কোন সহিংস বা উচ্ছৃংখল কর্মসূচি দেয়নি। তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত। তারা বারবার বলে আসছেন- তাদের আন্দোলন ঈমান রক্ষার তাগিদে, আল্লাহ্‌, কোরআন ও রাসূল (সাঃ)-কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে। সরকারের বিরুদ্ধে নয়, নাস্তিক ব্লগার ও ইসলামের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে। অথচ, সরকার তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার কূটকৌশল অবলম্বন করেছে। যারা উচ্ছৃঙ্খলতার পরিচয় দিয়েছে, আল্লাহ্‌, কোরআন, সুন্নাহর বিরুদ্ধে ব্লগে লিখেছে, ইসলামকে অবমাননা করেছে, ঢাকার সকল মসজিদকে টয়লেট বানানো উচিত বলে ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য দিয়েছে, সরকার ওইসব নাস্তিককে রাষ্ট্রীয় প্রহরায় সমাবেশ করার সুযোগ দিয়েছে। তাদের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করেছে। অপর পক্ষে সরকার এতটাই অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে যে, হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধার সৃষ্টি করছে। দেশের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা সরকারের এ ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেবে। তিনি সরকারের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ ও সতর্ক থেকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার জন্য দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী পত্রিকা পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা মঈন উদ্দীন খান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম কবির, সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান কাশেমী এক বিবৃতিতে বলেন, আল্লামা আহমদ শফী আহূত লংমার্চ ঈমান, ইসলাম, আল্লাহ্‌, রাসূল (সাঃ), কোরআন, হাদীসের মর্যাদা রক্ষার চেতনায় উজ্জীবিত। এ লংমার্চে অংশগ্রহণ এবং একে সফল করা ঈমানী দায়িত্ব।
মিরসরাই সোবহানীয় দরবার শরীফের পীর আলহাজ মাওলানা আবদুল মোমেন নাছেরী লংমার্চের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে এ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।
শনিবারের ষড়যন্ত্রমূলক হরতাল প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে নাস্তিক-মুরতাদ নির্মূল কমিটি। সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের লংমার্চে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী এবং মহাসচিব মাওলানা মুনির আহমদ।
এদিকে লংমার্চ সফল করার দাবিতে খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে গতকাল কামরাঙ্গীরচরে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দলের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুজিবুুর রহমান হামিদী, মাওলানা সাজেদুর রহমান ফয়েজী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ বাশার, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন প্রমুখ। মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, সরকার ৬ই এপ্রিলের লংমার্চকে বাধা দেবে না বললেও লংমার্চকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ফরমায়েশ দিয়ে হরতাল ডেকেছে। সরকারের পুলিশ বাহিনী এক দিকে লংমার্চে সমর্থনে রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না, অপরদিকে লংমার্চ আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে এবং হরতালের সমর্থনে আওয়ামী লীগ মিছিল করছে। লংমার্চ নেতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহঃ-এর বড় ছেলে মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ ও খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জাফরুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে রাজপথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মিছিল করেছে। অথচ তৌহিদী জনতা ঈমান ও ইসলামের পক্ষে রাজপথে মিছিল করতে পারছে না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
আজ থেকে সারাদেশে বাস নৌযান বন্ধ: সেক্টর কমান্ডারস্‌ ফোরামের হরতাল, গণজাগরণ মঞ্চের অবরোধের ডাককে সামনে রেখে উপর মহলের অলিখিত আদেশে আজ দিনের বেলা থেকেই দেশের সকল রুটে যাত্রীবাহী বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন জেলার বাস মালিক সমিতি। সূত্রমতে সেক্টর কমান্ডারস্‌ ফোরাম আজ সন্ধ্যা থেকে হরতালের ডাক দিলেও তার আগে সকাল থেকেই বাস বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন জেলা বাস মালিক সমিতিকে। সে অনুসারেই বাস মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি জেলার বাস মালিকরা। তবে তারা বলছেন, কোন হরতালের সময়ই আমরা বাস চালাই না ভাঙচুরের ভয়ে, আগুন দেয়ার ভয়ে। সে কারণেই বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লঞ্চ মালিকদের সূত্রেও জানা গেছে, আজ থেকে নৌযান চলাচল ও বন্ধ রাখা হচ্ছে বিশেষ কারণে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট