Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নিজ অফিস কক্ষে মিডিয়াকর্মী খুন

উত্তরার নিজ অফিস কক্ষে খুন হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান শহিদুল ইসলাম (৪৪)। গতকাল সকালে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর ভবনস্থ মিডিয়া ভিশন নামের প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নিহতের মেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুপ্তি বলেন, বিটিভির ‘পৌরদর্পণ’ নামের একটি অনুষ্ঠান বানাতেন তার পিতা। এর আগে তিনি মাইটিভি’র অনুষ্ঠান বানিয়েছেন। বাবার অনুষ্ঠানে আমি প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করেছি। যে অফিসে বাবা খুন হয়েছেন সেখানে বসেই তিনি অনুষ্ঠানের কাজ করতেন। সোমবার সকালে বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়। বিকালে ফোন করেও তাকে পাইনি। বিলাপ করতে করতে সুপ্তি বলেন, আমার বাবাকে যারা মেরেছে আল্লাহ তাদের বিচার করবে। এ দেশে জীবনের কোন মূল্য নেই। প্রতিদিন মানুষ মরছে। এর শেষ কোথায়? সুপ্তি বলেন, আমাকে আর কেউ মা বলে ডাকবে না। বাবাকে ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচবো? বাবা আমাদেরকে এতিম-অসহায় করে কার হাতে রেখে গেলেন?
নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, সোমবার সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিকালে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে বাসায় না ফেরায় ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে আমার মেয়ের জামাই অফিসে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। শহীদুল ইসলামের ছোট ভাই সেলিম বলেন, আমরা কাউকে সন্দেহ করতে পারছি না। আমাদের জানা মতে তার কোন শত্রু নেই। কে খুন করেছে তা বের করার দায়িত্ব পুলিশের। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী থানার বিল্লাত গ্রামে। ভাই সাভারের নবীনগরে বাড়ি বানিয়েছে। নিহতের বোন সুনেত্রা বলেন, ভবনের নাইট গার্ডদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বের হবে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি নিসারুল আরিফ জানান, প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা নারীঘটিত কোন কারণে খুন হয়েছেন শহিদুল। লাশ উদ্ধারের সময় তার হাত-পা বাঁধা ছিল। শরীরে অনেকগুলো ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। কেটে নেয়া হয়েছে পুরুষাঙ্গ। আমরা খুনিদের চিহ্নিত করেছি। আশা করছি আজ-কালের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করতে পারবো। তিনি জানান, সোমবার বিকাল অথবা সন্ধ্যার দিকে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের শরীরে রক্ত জমাটবাঁধা ছিল। লাশ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পুলিশের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত উপ-কমিশার কামরুজ্জামান বলেন, খুনিরা চিহ্নিত। পুলিশের সহকারী কমিশনার সাইফুল্লা মোহাম্মদ নাসির জানান, আমরা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। যে ভবনে খুন হয়েছেন সে ভবনের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডি-ও কাজ করছে। পুলিশ জানায়, ৩ রুমবিশিষ্ট মিডিয়া ভিশনের অফিস ছিল শহিদুলের। ওই প্রতিষ্ঠানে ৫ জন কর্মচারী। লাশ উদ্ধারের পর সব কর্মচারীর মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট