Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হেফাজতের লংমার্চে ১৮ দলের সমর্থন

ঢাকা: হেফাজতে ইসলামের ৬ এপ্রিলের লংমার্চে পূর্ণ নৈতিক সমর্থন দিয়েছে ১৮ দল।

সারা দেশে ১৮ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শেষে মঙ্গলবার বিকেলে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বেশ কিছূদিন ধরে কতিপয় পথভ্রষ্ট ব্লগার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে অত্যন্ত করুচিপূর্ণ ও অশালীনভাবে আঘাত দিচ্ছে, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এদের আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও কুরআনকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন কর্মকাণ্ড দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি।”

তিনি বলেন, “দেশের আলেম-ওলামারা এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং এসব ব্লগারকে গ্রেফতার করে শাস্তি ও ধর্মের বিরুদ্ধে যেসব কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে তা বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। আমরা তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি ১৮ দলের পক্ষ থেকে নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছি এবং সরকারকে বলব তাদের দাবি মেনে নিয়ে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনুন।”

ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখে ৬ মার্চের লংমার্চের সমর্থন আছে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “তাদের এ দাবির প্রতি পূর্ণ নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছি।”

তিন ব্লগারের আটকের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যাদের ধরা হয়েছে তারা প্রধান ব্লগার কি না বা এটা কোনো ‘আইওয়াশ’ কি না তা দেখতে হবে। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না তা আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু করতে চাই না। আমরা চাই, কেউ ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসে আঘাত না করুক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সরকার তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি এখন মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।”

ফখরুল বলেন, “ভিন্নমত পোষণকারীদের দমনে সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে, আর অন্যদিকে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মামলা দিয়ে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এখনো সময় আছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিন এবং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করুন।”

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, দেশ এখন চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের শাসন, বিচার ও আইন বিভাগ এক ব্যক্তির হাতে বন্দী হয়ে আছে। ফলে সারা দেশে নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, “ক্ষমতার মসনদে বসে প্রধানমন্ত্রী দাম্ভিক আচরণ করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমাহীন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণে দেশবাসী হতাশ। তিনি সদম্ভে আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র পুলিশ বাহিনীতে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

ফখরুল অভিযোগ করেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ-র্যা ব-বিজিবি রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে চলেছে। প্রতিদিন লাশের মিছিলে নতুন নতুন শহীদের নাম যুক্ত হচ্ছে। সরকার পুরো দেশকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, “তিনি যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে কোনো নিরপেক্ষতা নেই, আছে দাম্ভিকতা। তিনি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। এখন আবার নেতাদের হুকুমের আসামি করার কথা বলেছেন। কিন্তু মামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ রাখা যাবে না।”

ফখরুল বলেন, “বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে এক দফার আন্দোলন শুরু হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে  এই আন্দোলনে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ১৮ দলের মঙ্গলবারের হরতালে সারাদেশের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবারের হরতালকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দুইজন কর্মী নিহত হয়েছে। আর ঢাকামহানগরসহ সারাদেশে ২০৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশ ও সরকারি দলের সমর্থকদের হাতে ৩৮২ জন আহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ও শামিমুর রহমান শামিম।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট