Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘তত্ত্বাবধায়ক নয়, খালেদার মূল ইস্যু যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা’

চট্টগ্রাম: বিএনপি ও খালেদা জিয়া এখন তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি ভুলে গেছে। তাদের মূল দাবি এখন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা। খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অস্বিত্বে কখনো বিশ্বাস করতেন না , এখনো করেন না। একারণেই তার স্বামী জিয়াউর রহমান অনেক চেষ্টা করেও তাকে কখনো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার সঙ্গে নিতে পারেননি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্থানী বাহিনীর তত্বাবধানে ক্যান্টনমেন্টে বসবাস করেছিলেন।

সন্ত্রাস, সামপ্রদায়িকতা, নৈরাজ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রকাশ্যে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

সৈয়দ আশরাফ আরো বলেন, “বঙ্গবন্ধু কখনো দুই কথা বলেননি। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কখনো দুই কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ জনগনের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে অঙ্গীকার করেছিল, তা রক্ষা করেছে। অনেকে সমালোচনা করেছিলেন, আওয়ামী লীগ বিচার শুরু করলেও রায় কার্যকর করবে না। আজ আমি দ্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করতে চাই, আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করবেই। এ অঙ্গীকার থেকে একচুলও পিছু হটবে না।

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ জনসভায় শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সভাপতি দীলিপ বড়ুয়া , ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নগর আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসি এমপি, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন আহমদ, উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম  বক্তব্য দেন।

হরতালের নামে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নৈরাজ্য সৃষ্টির কঠোর সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, “হরতাল ডাকুন। এটা গনতান্ত্রিক অধিকার। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু হরতালের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, পুলিশের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ ও তাদের হত্যা করা, জনজীবনে বিঘ্ন, অর্থনীতি বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কখনো গনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার নয়। এগুলো সন্ত্রাসী কাজ এবং আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ”

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো দলের নয়। এরা রাষ্টের। একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সামরিক বাহিনী এগুলো প্রজাতন্ত্রের অংশ, কোনো দলের নয়। কোনো রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের নামে, অধিকারের নামে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব ব্যবস্থা ধ্বংসে লিপ্ত হবে এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। ”

সৈয়দ আশরাফ বলেন, “খালেদা জিয়া হয়তো মনে করছেন তিনি এবং তার দল আর কখনো বাংলাদেশের রাষ্টক্ষমতায় আসবেন না। একারণেই পুলিশ হত্যা, মানুষ হত্যা, নৈরাজ্য ও সহিংসতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো ধ্বংস করতে তৎপরতা শুরু করেছেন। এটা যদি তার বিশ্বাস হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।”

জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। আইন ও সাংবিধানিক শাসনে বিশ্বাস করে। আইন ও নিয়ম কানুনের মধ্যে থেকে সরকারকে কাজ করতে হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি এদের দলেরও বিচার করার জন্য কিছুদিন আগে সংসদে আইন পাশ হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে শুধু যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির নয়, দলেরও বিচার করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও করা হবে। সে প্রক্রিয়ায় জামায়াতেরও বিচার হবে। পাশাপশি আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয় বিবেচনা করা হবে। টেলিভিশনে, জনসভায় ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। ”

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা দাবি করতেই পারে। তাদের অনুভুতি ও দাবির যৌক্তিকতাও থাকতে পারে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে তো কিছু বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট