Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গভীর সমুদ্রে ৩০ জেলে খুন ১৯ জনের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম: বঙ্গোপসাগরে জলদস্যূদের পৈচাশিক হত্যাকাণ্ডে অন্তত ৩০ জন জেলে নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রামের বাশঁখালী ও আনোয়ার উপজেলায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও বাঁশখালীর উপকুল থেকে দিনের বিভিন্ন সময় হাত পা বাধা অবস্থায় ১৯ জনের লাশের সন্ধান মিলেছে।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেলের মাঝামাঝি এলাকায় জলদস্যুদের হাতে নিহত ১৬ জনের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও কুতুবদিয়ায় পুলিশের মতে, বেশ কয়েকটি লাশ উদ্ধার হলেও কুতুবদিয়ায় কোনো লাশ নেই। লাশগুলো চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারায় নিয়ে গেছেন তাদের স্বজনরা।

কুতুবদিয়ার পুলিশ প্রশাসন এ কথা বললেও রাত আটটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঁশখালীতে লাশ পৌঁছেছে মাত্র তিনটি। অন্যদিকে আনোয়ারায় কোনো লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বাঁশখালীর আরও ২৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিশিং বোট মালিকরা। তাদের ধারণা, জলদস্যুদের হাতে নিহত বাঁশখালীর জেলের সংখ্যা আরো বাড়বে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, “লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমি কিছুক্ষণ আগে কুতুবদিয়া উপকূলে এসেছি। এখানে উপকূলে কোনো লাশ দেখিনি। লোকজন বলছে, লাশগুলো বাঁশখালী ও আনোয়ারা এলাকার হওয়ায় সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মো. ইলতৎমিশ বলেন, “এ পর্যন্ত বাঁশখালীতে তিনটি লাশ এসেছে। আমরা খবর পেয়েছি নিখোঁজ জেলেদের আত্মীয় স্বজনরা বোটে করে সাগরে লাশের সন্ধান করছে। আমাদের ধারণা আরো লাশ পাওয়া যাবে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল হচ্ছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার জাহাজহাড়ী এলাকায়। সে কারণে আমরা পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারছি না। তিনি আরো জানান, আনোয়ারায় কোনো লাশ আসার খবর আমরা জানি না।

এদিকে, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের সদস্য মাহমুদুল হক জানিয়েছেন, স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬টি লাশ উদ্ধার করেছে। তবে লাশগুলো কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে- সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।

ফিশিং বোট আল্লাহ দানের মালিক আবুল হোসেন জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে তার বোটসহ এফবি আল মক্কা, এফবি আল্লাহ মালিক নামের তিনটি বোট জলদস্যুর কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বাঁশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তিনি জানান, রোববার বাঁশখালীর জেলেরা বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে আসার পথে কুতুবদিয়া চ্যানেলের জাহাজহাড়ি নামক এলাকায় একটি লাশ দেখতে পায়। এই খবর উপকূলে পৌছার পর বোটের মালিক এবং স্বজনরা সোমবার  সকালে দু’টি বোট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে লাশের সন্ধানে বের হয়। এ সময় তারা বেশ কিছু লাশ দেখতে পেলেও তিনটি লাশকে সনাক্ত করে নিয়ে আসে।

অপর বোট মালিক আবদুর রহিম জানান, এখনো বাঁশখালীর ২৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজরা হলেন- মো. ছগির (৩৫), খলিলুর রহমান (২২), আব্দুর রহিম (২০) জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), আব্দুন নুর (২০), নেজাম উদ্দিন (৩২), মো. আজম (২৬), মিজানুর রহমান (২২), দেলোয়ার হোসেন (২৮), নুর হোসেন (২২), মো. ইউনুস (২৮), আব্দুল আলিম (২২), মো. ছগির (৩২), নুরুল ইসলাম (৩৬), আমির হোসেন (৫০), ইসলাম (৪২), সাকের উল্লাহ (৩৫), জসিম উদ্দিন (২২), রফিকুল ইসলাম (২০), কাইয়ুম চৌধুরী (২০), এনাম (২২), আব্দুল মতিন (৪৫) ও রইজুল ইসলাম (৪২)।

বাশঁখালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা জানান, বাঁশখালী ও কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী আলী আকবর ডেইল নামক এলাকার উত্তরে গভীর সাগরে জলদস্যুরা ৩০ জন জেলেকে হত্যা করে লাশ সাগরে ফেলে দিয়েছে। এসব লাশ সাগরে ভাসছে।

জানা গেছে, বাঁশখালী শেখেরখিল ফাঁড়ির মুখ থেকে আবদুর রহিমের মালিকানাধীন এফবি আল্লাহর দয়া, জাফর আলম সওদাগরের এফবি আল্লার দান-১ ও আবুল হোসেনের আল্লাহর দান-২ গত ২০ মার্চ গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। জেলেরা মাছ ধরে ফেরার পথে গত মঙ্গলবার কুতুবদিয়া চ্যানেলের জাহাজ ফাঁড়ির মুখে তিনটি মাছ ধরার ট্রলার জলদস্যুদের কবলে পড়ে। চকরিয়া, ছনুয়া, মহেশখালীর চিহ্নিত ডাকাতদের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের সশস্ত্র দল তিনটি ট্রলারের মাঝিমাল্লার কাছ থেকে নগদ টাকা, মাছ, জাল লুট করে।

এ সময় ডাকাতরা আল্লাহর দান-২ ট্রলারসহ তিন জেলেকে পানিতে ভাসিয়ে দেয়। অপর দুই ট্রলার আল্লাহর দয়া, আল্লাহর দান-১, ৩৬ জন মাঝিমাল্লাসহ ট্রলার দুটি জলদস্যূরা নিয়ে যায়। এর পর থেকে ৩৬ জেলে নিখোঁজ থাকায় শেখেরখিল ইউনিয়নের টেকপাড়ায় জেলে পরিবারগুলোতে কান্নার রোল পড়ে।

এর মধ্যে রোববার ৬ জন জেলে জীবিত ফেরত এসে ৩০ জনকে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেয়ার কথা জানায় পুলিশ প্রশাসনকে।

নুরুল কবির নামে এক জেলে জানান, আল্লাহর দয়া ও আল্লাহর দানের ৩২ জনসহ মোট ৩৬ জেলেকে ডাকাত দল ধরে নিয়ে যায়। পরে ছয়জন ফিরে আসলেও বাকিদের হত্যা করেছে জলদস্যূরা।

সাতকানিয়া সার্কেলের পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমরান ভূইয়া  জানান, জলদস্যূদের হামলায় তিনটি বোটের ৩৬ জন জেলের মধ্যে মাত্র ছয়জন ফিরে এসেছে। বাকিরা জলদস্যূরা হত্যা করে সাগরে ফেলে দিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। পুলিশ এবং কোস্টগার্ড উদ্ধার কাজ চালাছে। বিকেলের দিকে ছয়টি লাশ উদ্ধার করে বাশঁখালী উপকূলে আনা হয়েছে। বাকিদেরও উদ্ধার কাজ চলছে।

বাঁশখালী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, “শেখেরখীল এলাকার কয়েকজন মাঝি আমাকে জানিয়েছেন, কুতুবদিয়া থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে সাগরে জলদস্যূরা ১৬ জন জেলেকে মেরে ফেলেছে। তারা লাশ উদ্ধারের জন্য যাচ্ছে। এখন মাঝিরা ফেরত না আসা পর্যন্ত বলা যাবেনা আদৌ তারা মারা গেছে কি না।”

ওসি জানান, মাঝিরা জানিয়েছেন, জলদস্যূদের হামলায় আরো প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে নিহতের সংখ্যাও আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

এর আগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতের কবলে পড়ে ২টি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৩৬ মাঝি নিখোঁজ রয়েছে মর্মে গত শুক্রবার বাঁশখালী থানায় জিডি করা হয়। ট্রলার মালিক আবদুর রহিম ও আবুল হোসেন বাঁশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট