Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লজ্জা থাকলে সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিতো- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খালেদা

‘সরকারের দুই কান কাটা’ মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার এখন রাস্তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যায়। কানেও শোনে না, চোখেও দেখে না। তারা অব্যাহতভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে। রোববারও চাঁপাই নবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে। সেখানে গ্রামের মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে বেরিয়েছে। মা-বোনেরা ঝাড়ু নিয়ে বেরিয়েছে। নির্লজ্জ বেহায়া এ সরকারের লজ্জা থাকলে ক্ষমতা ছেড়ে দিতো। কিন্তু এ সরকারের লজ্জা নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টর্নেডো-দুর্গত মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- তাই ব্যাপক সাহায্য দরকার। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য আসেনি। জনগণও সে কথা বলছে। সরকার লোক দেখানোর জন্য সাহায্য করছে। ক্যামেরায় ছবি তুলে মানুষকে দেখানোর জন্য সাহায্য করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টর্নেডো-দুর্গত চিনাইরের আলাকপুরে ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষে বিশাল জমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে পড়ন্ত বিকালে খালেদা জিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ফুলবাড়িয়া, সুলতানপুর, চিনাইর, চান্দুপুর ও চারুতলীর দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন। পথে তিনি চান্দুপুর, চারুতলীর ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সহানুভূতি জানান। আলাকপুরের জমায়েতে খালেদা জিয়া বলেন, দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এ সরকার তাণ্ডব চালাচ্ছে, মানুষ হত্যা করছে। ঘরে-বাইরে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই। কোন ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়। দাড়ি-টুপিওয়ালাদের দেখলে ধরে ধরে নির্যাতন করা হচ্ছে। অত্যাচার করা হচ্ছে। হিন্দুদের মন্দির ভাঙচুর করা হচ্ছে, তাদের প্রতিমা ভেঙে দেয়া হচ্ছে। বৌদ্ধদের প্যাগোডা ধ্বংস ও তাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। ধর্মীয় বইপত্র নষ্ট করে দিয়েছে। গির্জায়ও হামলা চালানো হয়েছে। বাংলাদেশে এখন শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নেই। এ সরকার চুরি দুর্নীতি, লুটপাট করে দেশ শেষ করে দিয়েছে। তারা শুধু মানুুষ খুন, গুম ও সম্পদ লুটপাট করে। তবে জালিম সরকারের হাত থেকে মুক্ত করে জনগণকে নিরাপত্তা দেবো। বিরোধী নেতা বলেন, এখন কৃষক ভাইয়েরা ধানের দাম পায় না। কিন্তু চালের দামও বেশি। এ সরকার নির্বাচনী একটি ওয়াদাও পূরণ করতে পারেনি। এ ব্যর্থ সরকারকে বিদায় দেয়ার সময় এসেছে। খালেদা জিয়া বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যতটুকু সম্ভব সাহায্য করেছি। দুর্গত জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি। অতীতেও আমরা বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো, সাহায্য করে যাবো। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মূল প্রয়োজন যেটা সেটা সরকারকেই করতে হবে। যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা যেন বানাতে পারে। তাদের খাবার দরকার। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি যেন দ্রুত ত্রাণসহ শুকনো খাবার পাঠায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি তৈরি করতে অবিলম্বে টিন ও আর্থিক সাহায্য দেয়ার জন্যও সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ সামনে বর্ষাকাল আসছে। মানুষে এভাবে থাকতে পারে না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিরোধী নেতা সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যার যতটুকু ক্ষমতা আছে এখানে সাহায্য দিন। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান। যেসব বাড়িঘর ভেঙে গেছে তা তৈরি করে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করুন। তিনি বলেন, মসজিদ থেকে বিপদের দিনে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। তাই বাড়িঘরের পাশাপাশি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদগুলো পুনর্নিমাণের জন্য বিত্তবানদের জানান। মসজিদে পাঁচ বেলা নামাজ পড়া হয়, দুর্যোগে মানুষ মসজিদে আশ্রয় নেয়। খালেদা জিয়া বলেন, টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা অনেক মানুষ মারা গেছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা তা দেখতে, জানতে এবং আহতদের দেখতে এসেছি। নিহতদের পরিবারকে পাশে দাঁড়াতে এসেছি। বক্তব্য দেয়ার জন্য আসিনি। তিনি বলেন, এলাকার গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তা পরিষ্কার করা দরকার। নতুন করে গাছ লাগানো দরকার। কারণ সামনে বর্ষাকাল, এখন গাছ লাগালে দ্রুত বেড়ে উঠবে। আমরা পরিবেশ ঠিক রাখতে না পারলে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এদিকে টর্নেডো বিধ্বস্ত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য চিনাইর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি সরকার সমর্থকরা। পরে চিনাইর আলাকপুরে একটি বাড়ির সামনে ধানের ক্ষেত-ঘেঁষা একটি মাঠে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দুর্গত ৩৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন এবং উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের সামনে বক্তৃতা করেন।  বেগম খালেদা জিয়া নিজ হাতে ৭জনকে ত্রাণ দেন। তাদের প্রত্যেককে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা, ১০ কেজি চাল, একটি করে লুঙ্গি ও শাড়ি দেয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ২২শে মার্চ বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০ গ্রামের ওপর টর্নেডো আঘাত হানে। এ পর্যন্ত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে অসংখ্য মানুষ আহত হয় এবং পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জেলা বিএনপি সভাপতি হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে শোক সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সাত্তার উকিল, মুশফিকুর রহমান, মহিলা দল সভানেত্রী নুরে আরা সাফা, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা ও মুফতি আমিনীর ছেলে আবুল হাসনাত আমিনী, জেলা বিএনপির সম্পাদক জহুরুল হক খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ছাত্রদল নেতা আহসানউদ্দিন খান শিপন বক্তব্য দেন। এছাড়াও খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, মহিলা দল সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদীর হোসেন জসীম ও রফিক শিকদার প্রমুখ।
পথে পথে মানুষের ঢল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শোকার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বেগম খালেদা জিয়া বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকেই পুরো সড়কের দুই ধারে স্থানে স্থানে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানায়। উপস্থিত জনতার মুখে ছিল সরকার বিরোধী স্লোগান আর হাতে ছিল শোকের প্রতীক কালো পতাকা এবং দলীয় নানা স্লোগান লেখা ব্যানার-ফেস্টুন। যাত্রাবাড়ী থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ছিল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ, সাবেক কমিশনার নবিউল্লাহ নবী, অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া ও রতন চেয়ারম্যানের সমর্থকদের শোডাউন। সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ছিল তৈমূর আলম খন্দকারের সমর্থকদের স্লোগানমুখর উপস্থিতি। গাউছিয়া পর্যন্ত যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও কাজী মনিরুজ্জামান, আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম আজাদ ও সাবেক এমপি খসরু সমর্থকরা পৃথকভাবে অংশ নেন। দিপুর সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে রাস্তায় দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়। নরসিংদীর প্রবেশপথ ভেলানগর থেকে রায়পুর পর্যন্ত খায়রুল কবির খোকন এবং মঞ্জুর এলাহীর সমর্থকদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। ভৈরবে প্রবেশের সময় পথের দুই দ্বারে শরিফুল আলমের বড় আকৃতির অনেকগুলো ছবি টাঙানো ছিল। বেগম জিয়া স্থানে স্থানে তার গাড়ির গতি ধীর করে হাত নেড়ে পথের দু’পাশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট