Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত ৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্যামপুর ইউনিয়নে আসামি ধরতে গেলে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হন। নিহতরা হলো- শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের হকিমের ছেলে মাদ্রাসা ছাত্রশিবির কর্মী অলিউল্লাহ (১৪), বাবুপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান মতি (৪৫) ও  ভাদু মণ্ডলের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫)। এসময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দোয়া দিবস ও রোববার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কানসাট পল্লী বিদ্যুতে আগুন দেয়ার মামলার আসামিদের ধরতে রাত পৌনে ৩টার দিকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ শ্যামপুরের গোপালনগর মোড়ে যায়। এসময় জামায়াত-বিএনপি’র কর্মীসহ গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে ফেলে। পরে সকাল সাড়ে ৫টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক গুলি বর্ষণ করলে ৩ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহতদের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে ছিল। বর্তমানে ৮ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব-বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছে। এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে.এম আরিফুল হক ও শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। এই ঘটনাটি সকালে জানাজানি হলে জামায়াত-শিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে মিছিল বের করে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের উপরাজারামপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের শিবতলা মোড়ে সড়কে ব্যারিকেড দেয়। এসময় বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এদিকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেয়ায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে।
এদিকে আমাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আসামি ধরতে গিয়ে জামায়াত-পুলিশ ও আ’লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ২ জন নিহত, ২০ জন গুলিবিদ্ধ ও দু’সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের  মৌপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতালে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মৌপুর গ্রামের জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার সময় বেশ কিছু জামায়াত সমর্থক নেতাকর্মীর সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ হাবিবুরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর মসজিদে মাইকিং করে আশেপাশের মৌপুর, কল্যানপুর, কান্দাপাড়া, সর্বতুলশী ও ধুলদিয়ার গ্রামের শ’ শ’ জামায়াত- বিএনপি সমর্থক ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ পর্যায়ে কল্যানপুর হাই স্কুল মাঠে পুলিশ ও জামায়াত-বিএনপির সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিটিভি’র সাংবাদিক গাজী ফিরোজী ও মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি রহমত আলী গুরুতর আহত হন এবং তাদের মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। সংবাদ পেয়ে র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এসময় অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের সর্বতুলশী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে শ্রমিকদল কর্মী তাঁত শ্রমিক ফরিদুল ইসলাম (১৮) এবং একই ইউনিয়নের কল্যানপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে ছাত্রদল কর্মী ইউনুছ আলী (১৭) নিহত হন। ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর-এ-আলম ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের দু’কর্মী নিহত হবার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফরিদুলের মাথায় এবং ইউনুছের পেটে গুলি লেগে ঘটনাস্থলে তারা মারা যায়। তাদের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে রয়েছে। আহতদের মধ্যে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী ফজলুর রহমান বেলকুচি উপজেলা হাসপাতাল ও সাংবাদিক গাজী ফিরোজীকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও বাকীদের আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।  র‌্যাব-১২’র অপরাধ দমন বিশেষ শাখার অধিনায়ক এএসপি অশোক কুমার পাল জানান, দুপুর ১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, তিনি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট