Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশের উন্নয়নবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা নস্যাৎ করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সোমবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসী সব বাঙালিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

তিনি বলেন, “২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবদীপ্ত দিন। এ মহান দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি প্রিয় স্বাধীনতা।”

এছাড়া যাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে কাক্সিক্ষত বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে- সেই ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে শেখ হাসিনা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় চার নেতা এবং অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা স্বজন হারিয়েছেন, ভোগ করেছেন অমানুষিক নির্যাতন, তিনি তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে যেসব বিদেশি রাষ্ট্র, সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা দিয়েছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী যখন অতর্কিতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে তখন ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টার ও তৎকালীন ইপিআর-এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। প্রতিটি জেলা ও মহকুমায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই ঘোষণা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রিক্সায় মাইক লাগিয়ে তা প্রচার করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই ঘোষণা প্রচারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।”

তিনি বলেন, “অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই অর্জনকে অর্থপূর্ণ করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে দিনবদলের লক্ষ্যে, দুর্নীতি, সন্ত্রাসমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী গত চার বছর দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, পররাষ্ট্র, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, যোগযোগসহ সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে।”

তিনি বলেন, “সরকার সপরিবারে জাতির পিতা হত্যা মামলার রায় কার্যকর করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় প্রদান শুরু হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বানচাল করতে স্বাধীনতা বিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও চিহ্নিত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত আধুনিক ডিজিটাল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ রূপে গড়ে তুলতে ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের জন্য সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আশা করেন, প্রতিটি বাঙালি ত্যাগ ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে এই প্রচেষ্টায় শামিল হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা সকলে মিলে জাতির পিতার আজন্মলালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবই, ইনশাআল্লাহ।” সূত্র: বাসস।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট