Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশৃঙ্খলা হলে সেনাবাহিনী বসে থাকবে না: খালেদা

বগুড়া: দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে সেনাবাহিনী বসে থাকবে না- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা।
তিনি বলেছেন, “আমাদের সেনাবাহিনী বিদেশে শান্তি রক্ষায় কাজ করে। দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তারা বসে থাকবে না। তারা সময়মতো দায়িত্ব পালন করবে। আমাদের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বিদেশে শান্তি স্থাপনে কাজ করতে যায়। তাদের দেশের যদি শান্তি না থাকে তাহলে বিদেশিরা বলবে, আমাদের সেনাবাহিনী নিজের দেশে শান্তি রক্ষা করতে পারছে না। এসব আজ ভাবনার সময় এসেছে।”
রোববার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়ার মাটিডালিতে এক শোকসমাবেশে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের প্রতিবাদে গত ৩ মার্চ জামায়াতের ডাকা হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহতের স্মরণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। খালেদা জিয়া নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেন।
৩ মার্চের হরতালে সহিংসতার পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে দাবি করে এজন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান খালেদা জিয়া।
‘সরকারপতনের আন্দোলনে প্রয়োজনে দেশ অচল করে দেয়া হবে’
খালেদা বলেন, “এতদিন শুধু তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে আন্দোলন করেছি। এখন সরকার পতনের একদফা আন্দোলন। এ আন্দোলন সফল করতে প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ অচল করে দেয়া হবে। শিগগির আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

সরকার পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারছে মন্তব্য করে খালেদা বলেন, “দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

বক্তব্যের শুরুতে খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা আজ কোনো জনসভা করতে আসিনি। কয়েকদিন আগে পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে এসেছি।”

‘একের পর্ এক গণহত্যা
‘সরকার দেশে একের পর্ এক গণহত্যা করছে’- এমন অভিযোগ করে খালেদা বলেন, “সরকার এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। কারণ জীবনের মূল্য অনেক। যার কেউ মারা যায়, সে-ই ব্যথা বোঝে। তাদের গণহত্যার জবাবদিহি করতে হবে এবং বিচার হবে।”

খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগ বেইমান, মোনাফেক, হত্যাকারী ও লুটেরা। দেশ ও জনগণের জন্য আওয়ামী লীগ কোনো কাজ করে না। তারা দেশে ধ্বংস করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তাই তরুণ প্রজন্মের আওয়ামী লীগকে চিনতে হলে ’৭২ থেকে ’৭৫ সালের শাসনামল নিয়ে লেখা বই পড়তে হবে।”

‘হামলার শিকার সংখ্যালঘুদের সহযোগিতা করছে না সরকার’
আওয়ামী লীগের হাতে কোনো ধর্মের লোক নিরাপদ নয় মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, “কয়েকদিন আগে রামুতে নিরীহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ধ্বংস করেছে। কিন্তু এ ঘটনায় নিজেদের দলের লোক জড়িত থাকায় কোনো বিচার হয়নি। বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে খুন করা হলো। সারা দেশে হিন্দুদের মন্দির ভাঙা হচ্ছে। অথচ সরকার এই সংখ্যালঘুদের কোনো সহযোগিতা করছে না। আমি ও দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা এসব জায়গায় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছি। আবার দাড়ি-টুপি পরার কারণে মানিকগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে বসে মাওলানা নাসিরকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।”
‘তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের খবর থাকবে না’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ‘খবর’ থাকবে না মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “ব্যর্থতা আর দুর্নীতির কারণে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না। আর আমরা বলে দিয়েছি, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না।”
‘সরকারপতনে ২৬ মার্চের মধ্যে নতুন কর্মসূচি’
তিনি বলেন, “এতদিন আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বললেও এখন বলব, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। কারণ কোনো খুনি সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। তাই সরকার পতনে সবাইকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। সেজন্য আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে কর্মসূচি দেয়া হবে। সবাই তা পালন করবেন।”

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি  বলেন, “অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, অনেক রক্ত দিয়েছি। আর একটু কষ্ট করতে হবে। কারণ রক্তপিপাসু সরকারের রক্তের পিপাসা এখনো মেটেনি।”

রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ছুটি দেরিতে ঘোষণার সমালোচনা
খালেদা বলেন, “আমরা সন্মান দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর শোক দিবস পালন করছি, আর আওয়ামী লীগের লোকজন শোকের কথা বলে বিএনপি নেতাকর্মীদের খুন করছে। এরা একটা অপদার্থ সরকার। তারা দেশও পরিচালনা করতে পারে না। শোক দিবসের মধ্যে মানুষ অফিস করেছে, তারা ছুটি ঘোষণা করতে দেরি করেছে।”

এক দফার আন্দোলনে বগুড়াবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন খালেদা জিয়া।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খালেদা বলেন, “জনগণের ওপর চড়াও হবেন না। আসুন, জনতার কাতারে এসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। এই সংগ্রামে জনগণের বিজয় হবে। জনগণের সংগ্রাম কোনো গুলি-বোমা দিয়ে ঠেকানো যাবে না।”

পুলিশের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, “জনগণের ওপর গুলি চালাবেন না। এজন্য আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।”

সরকারকে সবক্ষেত্রে ব্যর্থ উল্লেখ করে আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করবে বলে জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “আগামীতে তার দল ক্ষমতায় গেলে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা হবে।”

‘সরকারদলীয়দেরও ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হবে, পরতেই হবে’
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানোর কঠোর সমালোচনা করে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, “এমন ঘটনা নজিরবিহীন। তাই বলব, আগামীতে আপনাদের এই ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হবে, পরতেই হবে।”

এর আগে রোববার বেলা পৌনে ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শোকসমাবেশ। জেলা বিএনপি আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভা্পতি ভিপি সাইফুল ইসলাম।

এতে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, জামায়াতনেতা অধ্যাপক শামসুল আলম এমপি, জেলা আমির অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শামসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবদিন চাঁন, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির জাগপা জেলা সভাপতি আমীর হোসেন মণ্ডল প্রমুখ।

‘আর গুলি চালাবেন না’
মাটিডালির সভার পরে দুপুর একটা ৫০ মিনিটে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার শালাইপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শোকসভায় খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার মানুষ মেরে আনন্দ পায়। এদের আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যাকারী’ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। তাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সরকারের বিচার হবে।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “একাত্তরে পাকিস্তানি সুর আর আওয়ামী লীগের সুর একই।” এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, “আমরা আর রক্ত চাই না। দয়া করে আমাদের কর্মসূচিতে আপনারা আর গুলি চালাবেন না।”
নতুন কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “আগামীকাল (সোমবার) সরকার পতনের আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজন হলে আপনারা ঢাকায় আসবেন। এতে বাধা দেয়া হলে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবেন না।”
তিনি বলেন, “সরকারের হাতে শুধু রক্ত আর রক্ত। তারা মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়ে তারা কৃষককে মারার ব্যবস্থা করছে। তাদের সময় শেষ হয়ে আসছে, তাই জোরে ধাক্কা দিলে তারা পড়ে যাবে।”

শোকসভায় বক্তৃতা দেয়ার আগে জয়পুরহাটে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেন খালেদা জিয়া। সমাবেশ শেষে পৌনে চারটার দিকে খালেদা জিয়া জয়পুরহাট থেকে ফিরে বগুড়া সার্কিট হাউসে এসে মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ করেন ও বিশ্রাম নেন।

সার্কিট হাউস থেকে খালেদা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া বাজা মাঠে পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাবেন এবং আর্থিক সহায়তা করবেন। সেদিনের ঘটনায় গাবতলীতে নিহতের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাবার কথা রয়েছে। পরে খালেদা জিয়া সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।
খালেদা জিয়া শনিবার বিকেলে বগুড়ার উদ্দেশে রওয়ানা করেন। রাতে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন।
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট