Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শোকে কাতর ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরসহ আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম।  শুক্রবার বিকেলে অল্প সময়ের ভয়াবহ টর্নেডো পুরো এলাকার দৃশ্যকে বদলে দিয়েছে। সুন্দর সাজানো ঘরবাড়ি সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।  ভয়াল এ থাবায় ইয়াসমিন আক্তার (২৬) নামক নিহত আরো একজনের লাশ শনিবার সকালে সদর উপজেলার চিনাইর এলাকা মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ। চিনাইরের ফিরোজ মিয়ার বাড়িতে চার মহিলার লাশ দেখা গেছে। এ বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

এদিকে শনিবার ভোরের আলোতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ধ্বংসলীলা  ভেসে ওঠে। ঘরবাড়ি হারিয়ে এলাকার অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখন দিশেহারা। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাড়ির ধ্বংসস্তূপে খোলা আকাশের নিচে অনেকে সময় অতিবাহিত করছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে এবং তাদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন স্তরের মানুষ এলাকায় ভিড় করছে। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন শুকনো খাবারসহ নানা সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণ করছে।

এদিকে সকাল ১০টা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

জেলা প্রশাসক নূর মো. মজুমদার নতুন বার্তাকে জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি টিনসহ নিহতদের পরিবারের মধ্যে ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিতরণ করা হবে।

এদিকে বিজিবি ১২ ব্যাটালিয়নের নয়টি টহল দল এলাকায় উদ্ধার কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলা কারগারের নিরাপত্তার জন্যও বিজির টিম রয়েছে। বিজিবি কুমিল্লা সেক্টরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সহ-সভাপতি এবিএম তৈমুর জানান, রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে ৩০০ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কিডসসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আরও সহায়তা প্রদান করা হবে। ঢাকা থেকে রেডক্রিসেন্টের একটি টিমও কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা তদারকি করছেন।

ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং সংগঠনের মাধ্যমে  মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য এলাকায় এসেছে। এদিকে সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম তৎপরতা চালাচ্ছে।

তিনি জানান, ৪০ জন চিকিৎসক ঘটনার পর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে কুমিল্লা সেনা নিবাস থেকে ৫৪ সদস্যের মেডিকেল টিম রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসে।

সিভিল সার্জন জানান, তারা আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সদর হাসপাতালে দুই শতাধিক লোক ভর্তি হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উড়শীউড়ায় জেলা করাগারের দেয়াল ধসে পড়ে। জেলা কারাগারের মাকসুদুর রহমান নামক কারারক্ষী নিহত হয়। কারাগারে যারা বন্দি তারা কি অবস্থায় আছে তাদের খোঁজ-খবর নিতে আত্মীয়স্বজনরা ভিড় করেছে জেলা কারাগারের এলাকায়। কারাগারের নিরাপত্তার জন্য বিজিবিসহ পুলিশ মোতায়ন আছে। তবে এলাকায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে তুলনায় ত্রাণ তৎপরতা হচ্ছে না-এ অভিযোগ অনেকের। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণসমাগ্রী পাঠানোর দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

এদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি শনিবার সকাল ১০টায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট