Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোর আঘাতে নিহত ১১, লণ্ডভণ্ড ২০ গ্রাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ টর্নেডো আঘাতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক। টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ২০টি গ্রাম। ওইসব গ্রামের কাঁচা ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেনÑ জেলা কারাগারের কারারক্ষী মাসুদুর রহমান (২৫), সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের আবু তাহের মিয়া (৬০) ও চিনাইর গ্রামের ঝানু চৌধুরী (৫২), বিজয়নগরের পত্তন গ্রামের লাভলী বেগম (৩৫) ও ডলি রাণী দে (২৭) এবং আখাউড়ার জারুইতলা গ্রামের জয়নাল মিয়া (৩২) ও সুমি বেগম (১০)। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার ও আহতদের ৫ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। ঘটনার পর থেকে কুমিল্লা সিলেট মহাসড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পরপরই গ্রামবাসী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। বিকাল থেকে আক্রান্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের শিলাবৃষ্টি হয়। এর কিছুক্ষণ পর টর্নেডোর তাণ্ডব শুরু হয়। সদর উপজেলার রামরাইল, মাছিহাতা, সুলতানপুর, চিনাইর, আজমপুর, খরমপুর, আহমেদাবাদ, সিঙ্গারবিল, পত্তনসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ভয়াবহ টর্নেডো আঘাত হানে। এসময় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের যানবাহনের উপর গাছ উপড়ে পড়লে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এছাড়া বহু সিএনজিসহ বিপুল সংখ্যক গাড়ির উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ে। এতে বাসযাত্রীরা গুরুতর আহত হয়। ঝড়ে সুলতানপুর ইউনিয়নের উড়শীউড়ায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক থেকে বেশ কয়েকটি গাড়ি রাস্তা থেকে সিটকে যায়। সেখানে জেলা কারাগারের একপাশের দেয়াল ভেঙে পড়লে আহত হয় অনেক মানুষ। এ সময় কারাগারের পাগলা ঘণ্টা বাজতে থাকে। উড়শীউড়া গ্রামের হুমায়ুন কবির জানান, হঠাৎ করেই আকাশে কালো ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি তখন উড়শীউড়া বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার মোটরসাইকেলটি উড়িয়ে নিয়ে ফেলা হয় কয়েক’শ গজ দূরে। ৩ মিনিটের মতো স্থায়ী হয় এই তাণ্ডব। হুমায়ুন যে দোকান ঘরে আশ্রয় নেন সেটিও উড়িয়ে নেয়া হয়। এই গ্রামে থাকা জেলা কারাগারটির পেছনের দেয়াল পুরোপুরি ধসে পড়েছে। টর্নেডোর সময় কাগজের মতো ঘরের বেড়া-চালা উড়ে যেতে দেখা যায়। উড়শীউড়ার কমপক্ষে ৫ শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে হুমায়ুন জানান। পাশের ফুলবাড়িয়ার ক্ষয়ক্ষতিও অনেক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আবু সাঈদ জানান, লাভলি ও ডলিসহ চারজনকে হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন। আখউড়া হাসপাতালে নিহত হয়েছেন পাঁচ জন।  জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবু সাঈদ এবং আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো: শাহ আলম এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া অন্তত কয়েকশ’ লোক আহত হয়েছেন বলে জেলা প্রশাসক জানান। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক নূর মো. মজুমদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন চাকমাসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট