Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশ্বনাথে জামায়াত পুলিশ সংঘর্ষ, নিহত ১

জামায়াত-পুলিশ মুখোমুখি সংঘর্ষে গতকাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিলেটের বিশ্বনাথ। প্রায় ৩০ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে এক জামায়াত কর্মী নিহত, তিন কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়া পুলিশসহ আহত হন প্রায় ৩০-৩৫ জন। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় শতাধিক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সিলেট মহানগর আমীর এহসানুল হক জুবায়েরকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা সিলেট বিভাগে সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের থানা থেকে প্রায় ৪-৫ গজ দূরে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঘটে এ ঘটনা। ঘটনার পর থেকে উপজেলা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জামায়াত- শিবিরের হামলার আশঙ্কায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ টহল দিচ্ছে। উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার অভিযোগে আগামী রোববার আবারও সিলেট বিভাগে হরতাল ডেকেছে জামায়াত-শিবির। সংঘর্ষের সময় একজন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা। আহতদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতাল ও নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত গোলাম রব্বানী (২৫) উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পাখিছিরি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তৈয়বুর রহমানের নাতি ও নিজাম উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন- উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আকতার ফারুক, জামায়াত কর্মী আবদুল মজিদ মেম্বার, আবুল কালাম, মঈন উদ্দিন, আবদুল আলী, আজমল আলী, সাহিনুর ইসলাম, ইব্রাহিম আলী, থানা পুলিশের এসআই ইসমাইল হক, জিয়া উদ্দিন, কনস্টেবল কৃষ্ণগোপাল, নুর ইসলাম, তওফিক আহমদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, শরিফ, মস্তফা, কবির, উজ্বলসহ প্রায় ৩৫ জন। পুলিশ জামায়াত-শিবির সন্দেহে রেদওয়ান, বাছিত, বাছা মিয়া ও রুমেল নামের চারজনকে আটক করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রায় শতাধিত জামায়াত-শিবির নেতা- কর্মীরা হরতালের সমর্থনে সদরস্থ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করে। অবরোধকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মুখোশধারী ছিলো। এসময় পুলিশ জামায়াত-শিবির কর্মীদের অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য অনুরোধ করে। অবরোধ তুলে না নিলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে জামায়াত-শিবির পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হঠতে বাধ্য হয়। এরপর পুলিশ শক্তি বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ রাউন্ড টিয়ারশেল, ৬৪ রাউন্ড শটগান ও ৩ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি ছোড়ে। গুলি খেয়ে গোলাম রব্বানী মাটিতে পড়ে গেলে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় আশপাশের মানুষ আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে গিয়েও আহত হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালানোর কারণে গুলি চালানো হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও বিদ্যুৎ অফিসের জিএম মো. অলিউর রহমান জানিয়েছেন, তাদের অফিসে কোন হামলা বা ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আগামী রোববার সিলেট বিভাগে আবারও হরতাল পালন করা হবে। থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, জামায়াত-শিবিরের মুখোশধারী ক্যাডাররা আগ্নেয়াস্ত্র ও আগুন ধরানোর সরঞ্জাম নিয়ে পিকেটিং শুরু করে। পুলিশ বাধা দিলে তারা গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা জবাব দেয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট