Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হত্যার রাজনীতি বন্ধ না করলে খালেদারও বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

পিরোজপুর: বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ‘হত্যার রাজনীতি’ করছেন অভিযোগ করে তার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য লাশের রাজনীতি বন্ধ করুন। হত্যার রাজনীতি বন্ধ করুন। নইলে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করা জন্য আপনারও বিচার হবে।”

মঙ্গলবার বিকেলে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। বিশেষ ট্রাইবুনালকে আইন করে তাদের বিচারের কাজ শুরু হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুখের বিষয়, এজন্য জাতির পিতাকে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে। ক্ষমতায় এসে জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিচার করা হয়েছে। বিচার হয়েছে শিশু রাসেলের হত্যাকারীদের। জাতির জনকের খুনিদের রায়ের ঘোষণার দিনও বিরোধীদলীয় নেতা হরতাল ডেকেছিলেন তাদের বাঁচাতে। কিন্তু পারেননি। এখন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য হরতাল দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি যুদ্ধাপরাধীদেরও রক্ষা করতে পারবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই মাটিতেই হবেই । কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না।”

তিনি বলেন, “বিএনপির নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চান। তাদের বাঁচাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দিয়ে মসজিদে আগুন দিয়েছেন। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছেন। এক মুসলমান যারা অন্য এক মুসলমানকে পুড়িয়ে মারে, তারা কী রকম মুসলমান! পুলিশ বাহিনীকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করছেন। সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে আরো লাশ পড়বে। অর্থাৎ তিনি আরো মানুষ হত্যা করবেন। কারণ তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাবেন, অপরদিকে তিনি ক্ষমতায় যাবেন রক্তের ওপর দিয়ে, লাশের ওপর দিয়ে।”

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগরের সাউথখালীতে। ভাষণের এক পর্যায়ে জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা কি সাঈদীর বিচার চান?” এ জবাবে জনসভায় উপস্থিত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ দুই হাত তুলে এক সঙ্গে বলেন, “চাই।”

এরপর খালেদা জিয়ার উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, দেখে যান, সাঈদীর এলাকার মানুষ সাঈদীর বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর চায়। আর বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তার প্রিয় যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচাতে চান।”

আগামী নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি পিরোজপুরের মানুষকে ধন্যবাদ জানাই। তারা গত নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট দিয়ে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য দাবি জানাই। গত নির্বাচনের আগে পিরোজপুরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করে পিরোজপুরবাসীর বাকি দাবি পূরণ করব।”

এক যুগ পর পিরোজপুরে শেখ হাসিনা: উৎসবের আমেজ
এক যুগ পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পিরোজপুর সফরকে ঘিরে সর্বত্র ছিল উৎসবের আমেজ। ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল উপেক্ষা করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন লাখো মানুষ। মানুষের এ ঢল এক পর্যায়ে স্কুল মাঠ ছাড়িয়ে পুরো শহরে পৌঁছে যায়। জনসভা শুরুর অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার, পোস্টার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে মিছিল করে আসতে থাকেন। বিকেল চারটার দিকে সভা মঞ্চে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসভা মঞ্চে ওঠার আগে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুরে ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বলেশ্বর নদীর উপর নির্মিত শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতু, দুই কোটি ১৯ লাখ টাকা ইন্দুরকানী থানা ভবন, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা জেলা রেজিস্ট্রি অফিস, এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা জেলা সরকারি গণগন্থাগারসহ অর্ধ শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাতটি প্রকল্পের ১২ টি স্থাপনার। এছাড়াও রয়েছে ৮৮ লাখ টাকার নেসারাবাদ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবন, এক কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত স্বরূপকাঠী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন, ১২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যায়ে ছয়টি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার ও নাজিরপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কলেজ একাডেমিক ভবন ও ছাত্রী নিবাস উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় খুলনা বরিশাল মহাসড়কে বেকুটিয়া পয়েন্টে কঁচা নদীর উপর সেতু নির্মাণ, পিরোজপুরের একমাত্র সরকারি কলেজ সোহরাওয়ার্দী কলেজে মাস্টার্স কোর্স চালু করা ও  সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স কোর্স চালু করার ঘোষণা দেন।

পিরোজপুর সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএমএ আউয়ালের পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ,জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আাহসান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মানিক প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএমএ আউয়াল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট