Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংখ্যালঘুদের পাশে খালেদা

বাংলাদেশকে শান্তির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার একদিকে মসজিদে তালা দিয়েছে অন্যদিকে নাস্তিকদের পাহারা দিচ্ছে । পায়ের তলায় মাটি হারিয়ে ইস্যু খুঁজছে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে ভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। নতুন ইস্যু তৈরি জন্য এখন হয়তো মসজিদেও হামলা হবে। তিনি বলেন, সরকার কোন ধর্মের মানুষেরই জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তবে বিএনপি সমপ্রীতির রাজিনীতিতে বিশ্বাস করে। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে একটি গণতান্ত্রিক, উন্নয়নমুখী ও শান্তির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই বাংলাদেশকে। যেখানে সকল ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন ও সুখেশান্তিতে সমপ্রীতির সঙ্গে বসবাস করবে। গণজাগরণ মঞ্চ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা বন্ধ না করলে কাউন্টার মঞ্চ হবে। মানুষ ঢাকার দিকে হাঁটা শুরু করবে।
তিনি গতকাল মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালিমান্দ্রা কালিমন্দির সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন।
তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শাহবাগের তরুণদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া সমালোচনা করেন। সেই সঙ্গে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শাহবাগের মঞ্চ বন্ধ না হলে সারা দেশে কাউন্টার মঞ্চ হবে। দেশের মানুষ ঢাকার দিকে হাঁটা ধরবে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করবে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম যুদ্ধক্ষেত্র গোয়ালীমান্দ্রায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কালিমন্দির পরির্দশন শেষে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, সর্বক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ হচ্ছে। মিডিয়াই সে দুর্নীতির খবর প্রকাশ হওয়ায় দেশবাসী এর বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে, প্রতিবাদ শুরু করেছে। তাই শাহবাগে কিছু নাস্তিকদের মঞ্চ তৈরি করে তাদের লালন-পালন করছে তরুণ সমাজের নামে। তিনি বলেন, দেশে ৫ কোটি যুবক রয়েছে। শাহবাগে তার একভাগও আসেনি। শাহবাগে যারা গেছে তারা কেউ নিরপেক্ষ তরুণ নয়। কেবল আওয়ামী লীগ ও নাস্তিকরাই সেখানে গিয়েছে। তারা ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান কোন ধর্মই মানে না। তারা আদালত মানে না, আইন মানে না। কেবল ফাঁসি, ফাঁসি করছে। কিন্তু তারা সরকারের দুর্নীতির কথা বলছে না। দেশের কথা বলছে না। যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা বলছে না। সীমান্তে মানুষ হত্যার কথা বলছে না। তাই শাহবাগের নাস্তিকদের টাকা-পয়সা, খাবার-দাবার ও নিরাপত্তা দিয়ে লালন করছে সরকার। রাস্তাঘাট বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে সরকার নাস্তিকদের মঞ্চ বানিয়ে সেখানে বিচার বিচার খেলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, শাহবাগের তরুণদের নিরপেক্ষ বলা যাবে না। তারা আসলে দুষ্টপ্রকৃতির লোক। যদি এ মঞ্চ অন্যান্য জায়গায় হতে থাকে তবে সবখানেই কাউন্টার হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, জনগণ শাহবাগকে প্রত্যাখ্যান করায় সরকার নতুন ইস্যু তৈরি করছে। তারা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগ করছে। এর আগে তারা কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের হাজার বছরের পুরনো মন্দির ধ্বংস করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, কক্সবাজারে বৌদ্ধ মন্দিরের কাছেই পুলিশ ছিল, তারা কিছুই করেনি। কারণ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন। তাই সরকার তাদের গ্রেপ্তার-বিচার তো করেইনি উল্টো পুরস্কার দিয়ে চিহ্নিত হামলাকারীকে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে তার সঙ্গী করেছেন। খালেদা জিয়া বলেন, তারা কেবল ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই করে নাচগান করছে। খালেদা জিয়া বলেন, নাস্তিকরা আমাদের নবীজীর ব্যাপারে যেসব কথা লিখেছে তা বলা ও পড়া যায় না। সরকারকে বলছি, এসব মঞ্চফঞ্চ বন্ধ করেন। নইলে সারা দেশের মানুষ ঢাকার দিকে হাঁটা ধরবে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান গড়ে তুলবে। সরকারকে বলতে চাই, কাউকে মঞ্চ বানিয়ে পাহারা দেবেন, কাউকে মঞ্চ বানাতে দেবেন না তা হবে না। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আমরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। তবে সেটা আন্তর্জাতিক মানের। তিনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের লেখার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ দুই মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন- বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বড় রাজাকার। সরকারের ক্ষমতা থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার করুক। তারা সেটা না করে কেবল বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের বিচার করছে। তবে আমরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতুর কারণে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতিবাজ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। সেতুর কাজ শুরুর আগেই কমিশন ও ঘুষ নিয়ে দুর্নীতি করেছে। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক সংস্থাগুলো সরকারের সেই দুর্নীতি ধরে ফেলেছে। তাই তারা অর্থ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তারা হয়তো লোক দেখানের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারে তবে পদ্মা সেতু করতে পারবে না। একইভাবে সরকারের হলমার্ক, শেয়ারবাজার, ডেসটিনির দুর্নীতিও প্রকাশ হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, সময় ফুরিয়ে গেছে এখন নিরপেক্ষ ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। সেই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন মুন্সীগঞ্জের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কৃষিজমি নষ্ট করে সরকার মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে অপ্রয়োজনীয় একটি বিমানবন্দর করতে চেয়েছিল। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের মানুষ তাদের কৃষিজমি রক্ষা করেছে। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ ও মা বোনেরা ঝাড়ু নিয়ে সরকারকে হটিয়ে দিয়েছে। এ জন্য মুন্সীগঞ্জের মানুষ ধন্যবাদ দিতে চাই। তিনি বলেন, এখন আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের অবস্থান থেকে সরকার পতনের জন্য ভূমিকা রাখব। এ দুর্নীতিবাজ, খুনি সরকারকে পতন করে একটি শান্তির, গণতন্ত্রের ও উন্নয়নের দেশ গড়তে হবে। আমরা দেশের সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে কাজ করব। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা করব। দেশবাসীর মনে আছে, ভারতে যখন বাবরী মসজিদে হামলা হয় তখন বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে একটি মন্দিরও ভাঙা হয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গোয়ালীমান্দ্রার এ মন্দির পরিপূর্ণভাবে তৈরি করে দেয়া হবে। মুন্সীগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। তিনি মুন্সীগঞ্জের যুবকদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের জন্য এ সরকার কিছুই করেনি। তারা সব সময় যুবকদের ব্যবহার ও খুন করেছে। রক্ষীবাহিনীর কথা দেশবাসী ভুলে যায়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে আমরা ক্ষমতা গেলে যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান করব। জনগণকে বিদ্যুৎ দেব। কৃষি উপকরণের মূল্য কমাব। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমান সরকার মুন্সীগঞ্জের কোন উন্নয়ন করতে পারেনি। তিনি তার দু’পাশে দাঁড়ানো মুন্সীগঞ্জের সাবেক দুই এমপি আবদুল হাই ও মিজানুর রহমান সিনহাকে দেখিয়ে বলেন, এরাই মুন্সীগঞ্জের উন্নয়ন করছে বিএনপির সময়ে। এ সময় তিনি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এখন দেশে প্রতিদিনই মানুষ খুন হচ্ছে। প্রতিদিনই লাশ আর লাশ। ঘর থেকে প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে ধরে নিয়ে গুম করছে। কয়েকদিন পর ডোবা, নদীতে তাদের লাশ ভেসে উঠছে। বর্তমান সরকার একটি সন্ত্রাসী ও খুনি সরকার।  সারাদেশে গণহত্যায় ১৭৩ জনকে খুন করেছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির চোখ তুলে নিয়েছে। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি ছাত্রলীগের ছেলেরা কিভাবে কুপিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে। সেদিন সে নিজের ধর্মের পরিচয় দিয়েও তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। আজকে আপনাদের এলাকার মন্দিরে যে আগুন দেয়া হয়েছে তা দেখতেই আমরা আজ এখানে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির দেখেছি। লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অপরাধীদের শাস্তি চায়। কিন্তু সরকার অপরাধীদের না ধরে বিএনপির লোকজনকে হয়রানি করছে।
খালেদা জিয়া বলেন, বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে করতে জেলে এখন আর জায়গা নেই। যেদিন আমাদের হরতাল হয় সেদিন পুলিশ ও র‌্যাব আমাদের কার্যালয় ঘিরে রাখে। রাস্তায় মানুষ নামতে দেয় না। কিন্তু ছাত্রলীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহল দেয়। বিরোধী নেতা বলেন, কয়েকদিন আগের আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখেছি, যেন ডাকাতি হয়েছে। পুলিশ সেদিন আমাদের কার্যালয় থেকে অর্থ লুট করেছে। কাউন্সিলের জরুরি কাগজপত্র নিয়ে গেছে। ভাঙচুর করে আমাদের ১৫৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। সেখান থেকে বোমা উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, পুলিশ পকেটে করে বোমা নিয়ে গিয়ে সেখানে রেখেছে। কারণ এর আগেও পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বোমা হামলা ও গুলি চালিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের না ছাড়লে আগামী ১৮-১৯শে মার্চ সারা দেশে কঠিনভাবে হরতাল পালনের মাধ্যমে সরকারকে জবাব দিতে হবে। আপনারা জবাব দেবেন। বিরোধী নেতা প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পুলিশ ও র‌্যাব অনেক গুম ও খুন করেছে। একটি বিশেষ জেলার লোকের কারণে পুলিশের সুনাম নষ্ট হতে পারে না। এভাবে যদি গুলি ও খুন চলতে থাকে তবে আমরা বলতে বাধ্য হবো। ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ রক্ষা মিশনে পুলিশের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদি পুলিশ সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে থাকে তবে তাদের সেখানে নেবে না। তিনি বলেন, গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন ও তাদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করা পুলিশকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করা হবে। ক্ষমতা থেকে বিদায় হলে দুর্নীতির জন্য তাদের বিচার হবে। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুুরী, গৌতম চক্রবর্তী, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অর্পনা রায়, জাসাসের সাবেক সম্পাদক বাবুল আহমেদ, খালেদা জিয়ার সাবেক সহকারী প্রেস সচিব মহিউদ্দিন খান মোহন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি সম্পাদক রিপন মল্লিক, লৌহজং থানা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান খান, সম্পাদক কোহিনুর সিকদার, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীনগর বিএনপি সভাপতি মোমিন আলী, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, টঙ্গিবাড়ি বিএনপি সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন, চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, যুবদল নেতা তারিক কাশেম খান মুকুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল ও গোলাম গাউস সিদ্দিকী  উপস্থিত ছিলেন।
গোয়ালীমান্দ্রা মন্দির
পরিদর্শন খালেদার
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধন্য লৌহজংয়ের সবুজশ্যামল গ্রাম গোয়ালীমান্দ্রা। ৭১-এ হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন গোয়ালীমান্দ্রার জনতা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থেকেই আবহমানকাল থেকে বসবাস করছেন গোয়ালীমান্দ্রার মানুষ। কিন্তু গত ৪ঠা মার্চ রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে সে গোয়ালীমান্দ্রার কালিমন্দির পূজামণ্ডপে। বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে মাঠে পৌঁছেই প্রথমে তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কমল চন্দ্র দাশের হাতে মন্দির উন্নয়নের জন্য একলাখ টাকা দেন। গোয়ালীমান্দ্রা মন্দির মাঠেই বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় সমাবেশ। তখনও সে মাঠে টাঙানো ছিল আরেকটি শামিয়ানা। বিরোধী নেতা গোয়ালীমান্দ্রা যাওয়ার ৪ঘন্টা আগেই মন্দির পরিদর্শন ও সমাবেশে অংশ নেন বাংলাদেশ সরকারের এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম। সরেজমিনে দেখা গেছে, গোয়ালীমান্দ্রা ঋষিবাড়ি মাঠের উত্তরপ্রান্তে সেমিপাকা কালিমন্দির। এখনও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি মন্দিরের। বিদ্যুতের আলোও পৌঁছেনি। মাঠের চারপাশে কিছু দূরত্বেই ঘরবাড়ি। অন্ধকার রাতে সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে মানুষের ঢল
এদিকে খালেদা জিয়ার মুন্সীগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই কেরানীগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং পর্যন্ত ছিল সাজসাজ রব। জুমার নামাজের পর ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের রাস্তার দু’পাশে নামে মানুষের ঢল। রাস্তার প্রতিটি স্টেশনে অবস্থান নেন বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা। হাতের হাতে ছিল জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার পোস্টার। মুখে ছিল সরকার বিরোধী স্লোগান। ওদিকে জুমার নামাজের পর থেকেই নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমবেত হতে থাকে গোয়ালীমান্দ্রা মাঠে। এক পর্যায়ে পুুরো মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট