Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদান করা হলো ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। বুধবার বিকাল ৩টা ৫০মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে শুরু হয় এবছরের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১১’ প্রদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে আনুষ্ঠানকিভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “চলচ্চিত্র এমন একটি গণমাধ্যম যা মানুষের মনের খোরাক জোগায়। বাংলা চলচ্চিত্রের যাত্রা অনেক আগে। কিন্তু আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৮৯৫ সালে মানিকগঞ্জে। এরপর ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইন করে পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র শিল্পের শুভ সূচনা করেন। এরপর এফডিসির যাত্রা শুরু হয়। যা এখন দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাণ ও এর বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা চলচ্চিত্র সংশ্লীষ্ট সকল কর্মকান্ডকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছি। আর ৩রা এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। এফডিসি আধুনিকায়নের জন্য ইতিমধ্যে সরকার ৬০ কোটি টাকা ব্যায়ের প্রকল্প হতে নিয়েছে। এফডিসির সবকিছুকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কবিরপুরে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি নির্মাণের পদক্ষেপ, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সর্বত্র চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ অত্যাধুনিক ফিল্ম আর্কাইভ নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছি। যার ফলে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে।”

চলচ্চিত্রশিল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো শিল্পই গড়ে উঠতে পারে না। তাই আমাদের জাতীয়তাবোধও ঠিক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।”

এসময় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে বলেন, “শিশুদের বিনোদনের জন্য আপনারা বেশি বেশি ‘শিশুতোষ চলচ্চিত্র’ নির্মাণ করুন। এতে করে শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়তা হবে।”

চলচ্চিত্রকারকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করুণ যাতে আমাদের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক পুরষ্কার অর্জন করতে সক্ষম হয়।”

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, “চলচ্চিত্র মানুষের কথা বলে, জীবনের কথা বলে। আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো উপন্যাস থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় না। অথচ হলিউডে এখনও বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়।”

তিনি  আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দিন দিন সমৃদ্ধ হবে। একসময় বাংলা চলচ্চিত্রের রাজধানী হবে ঢাকা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন।

এবছর মোট ২৪টি বিভাগে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১১’ প্রদান করা হয়। সর্বোচ্চ দশটি বিভাগে পুরস্কার পেয়ে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

অনুষ্ঠানে মোট আটটি পর্বে প্রদান করা হয় এ পুরস্কার।

চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। যিনি সর্বমোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আজীবন সম্মাননার পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যথাক্রমে পুরস্কার গ্রহণ করেন- শিল্প নির্দেশনায় অনিমেষ আইচ (গেরিলা), রূপসজ্জায় মো. আলী বাবুল (গেরিলা), শব্দগ্রাহক রতন পাল  (আমার বন্ধু রাশেদ), চিত্রগ্রাহক এল. অপু রোজারিও (আমার বন্ধু রাশেদ), সম্পাদক সামির আহমেদ (গেরিলা), পোশাক পরিকল্পনা ও সাজ-সজ্জা শিমূল ইউসুফ (গেরিলা), সুরকার ইমন সাহা (কুসুম কুসুম প্রেম), গীতিকার শফিক তুহিন (প্রজাপতি), সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ (প্রজাপতি), গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি (প্রজাপতি), গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ (প্রজাপতি), সংলাপ নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান (গেরিলা), কাহিনী মুহম্মদ জাফর ইকবাল (আমার বন্ধু রাশেদ), শিশুশিল্পী সেমন্তী (খণ্ডযুদ্ধ ’৭১), প্রামাণ্যচিত্র ফখরুল আরেফীন ও চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (আলবদর ও লোকনায়ক কাঙাল হরিনাথ), সহ-অভিনেতা আলমগীর (কে আপন কে পর), সহ-অভিনেত্রী ববিতা (কে আপন কে পর), খলনায়ক শতাব্দী ওয়াদুদ (গেরিলা) ও মিশা সওদাগর (বস নাম্বার ওয়ান), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’ (প্রযোজক-এশা ইউসুফ ও ফরিদুর রেজা সাগর), অভিনেত্রী জয়া আহসান (গেরিলা), অভিনেতা ফেরদৌস (কুসুম কুসুম প্রেম), শ্রেষ্ঠ পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ (গেরিলা)।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, জুরিবোর্ডের সদস্যবৃন্দ ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট শিল্পী-কলাকুশলিবৃন্দ। পুরষ্কারপ্রদান শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ফেরদৌস ও কুসুম সিকদার।

উল্লেখ্য, জুরি বোর্ডের মনোনয়নের পর গত ১৪ জানুয়ারি, সোমবার ২০১৩ তথ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১১’ এর জন্য নির্বাচিতদের নাম চূড়ান্তভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট