Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিএনপি অফিসে পুলিশের লঙ্কাকাণ্ড, শীর্ষ নেতারা আটক

প্রধান বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান। ব্যাপক তল্লাশি, তছনছ। দরজা ভেঙে কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার। তাদের গায়ে পুলিশের আঘাত। দেড় শতাধিক গ্রেপ্তার। দেশের রাজনীতিতে এ এক নতুন নজির। গতকাল এমনই লঙ্কাকাণ্ড করেছে পুলিশ। ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের পর সমাবেশ পণ্ড হওয়া, নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে এ গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের প্রায় দেড়শতাধিক নেতাকর্মীকে। তাদের মধ্যে আছেন দুই ভাইস চেয়ারম্যান, তিন যুগ্ম মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ অন্তত অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। গ্রেপ্তারের সময়ে রীতিমতো লাঞ্ছিত হয়েছেন তাদের কয়েকজন। পুলিশ একের পর এক দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায় পুরো কার্যালয়ে। তল্লাশিতে তছনছ হয়েছে আসবাব ও নথিপত্র। অভিযানকালে কার্যালয় থেকে ৬টি হাতবোমা উদ্ধার দেখিয়েছে পুলিশ। এর আগে নয়াপল্টনে ১৮দল আয়োজিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। এরপরই শুরু হয় পুলিশের অ্যাকশন। বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, সমাবেশ বানচাল করতেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলা করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগ মুহূর্তে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছেন। রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটি ও ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকে আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি না দেয়া হলে ১৮ ও ১৯শে মার্চ দু’দিনের হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময় পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ১৯শে মার্চ পূর্ব ঘোষিত দলের জাতীয় কাউন্সিল স্থগিত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে গতকালের ঘটনায় বিএনপির তাৎক্ষণিক হরতাল দেয়ায় পুলিশ দাবি করেছে, হরতাল দেয়ার জন্যই সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের  নেতৃত্বাধীন ১৪ দলও এ দাবি করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, জোটের শরিক দল ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি, বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক হাবীবুর রশীদ হাবিব, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রাজা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মুর্তজা ভুট্টো, মাহবুবুল হক নান্নু, ঢাকা মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার, শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি জামাল শরীফ হিরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান, মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, তরুণদল ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহমান শাহদৎ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মচারী আবদুস সোবহান, যুবদল নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, ফাহিম হোসেন, ডা. আশফাকুর রহমান শেলী প্রমুখ।
ঘটনার সূত্রপাত: সময় তখন বিকাল পাঁচটা। ‘পুলিশ, র‌্যাব ও তাদের সহায়তায় সশস্ত্র যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নির্বিচার গণহত্যা এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা, হামলা ও নির্যাতনে’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল ১৮দলীয় জোট। সমাবেশের সর্বশেষ বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় হঠাৎ উল্টোপাশের আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারের কাছে পরপর ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই সমবেত কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় মির্জা আলমগীর বক্তব্য থামিয়ে এ ঘটনায় আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন। তিনি বলেন, এ সরকার পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। তাদের সন্ত্রাসীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালাচ্ছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। ককটেল বিস্ফোরণের পরপরই ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা হরতালের সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন। সেই সঙ্গে বিুব্ধ কর্মীরা নয়াপল্টন ভিআইপি রোডের ডিভাইডারের কাঁটাতারের স্ট্যান্ড ভেঙে ভাঙচুর ও জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে। বিএনপি’র মহানগর কার্যালয়ের পাশে এয়ারটেলের একটি কার্যালয়েও ভাঙচুর চালায় তারা। হাতবোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি কর্মীরা পুলিশকে ল্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। অন্যান্য দিন পুলিশ ও র‌্যাব সমাবেশ চলাকালে বিএনপি কার্যালয়ের উল্টো পাশে অবস্থান নিলেও কাল ছিল ব্যতিক্রম। নয়াপল্টনের দু’দিকে বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ও পল্টন থানার সামনে ছিল তাদের অবস্থান। বিএনপি’র সমাবেশ চলাকালে ও বিস্ফোরণের সময় পুলিশ-র‌্যাব ছিল নীরব। পণ্ড হওয়া সমাবেশ থেকে হরতালের ঘোষণা দেয়ার পর নেতারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলে যান। দলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ ও কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে মিছিল করেন। মিছিল শেষে তারা যখন কার্যালয়ে চলে যান তখনও বাইরে কর্মীরা কয়েকটি ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে নয়াপল্টনের নানা পয়েন্টে। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে পল্টন থানার সামনে অবস্থানকারী পুলিশের দু’টি দল অনবরত ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পশ্চিম দিকে বিএনপি কার্যালয়ে দিকে অগ্রসর হয়। এতে পুরো নয়াপল্টন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে ও আতঙ্কে বিুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা আশপাশের গলি দিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জলকামান দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এরপর র‌্যাব-এর একটি দল অগ্রসর হয়ে আশপাশের গলিগুলোতে টহল দেয়। এ সময় হাত মাইকে তারা আশপাশের ভবনগুলোর জানালা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ততক্ষণে পুরো ফাঁকা হয়ে যায় নয়াপল্টন। পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। এর আগে দুপুর ২টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা দুপুরের দিকে মঞ্চের ডান দিকে অবস্থান নেয়। বিকাল সোয়া ৩টায় ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে এই সমাবেশ শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াতের পর শুরুতেই বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগর নেতা ইয়াসীন আরাফাত। সমাবেশে বিএনপিসহ জোটের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা বক্তব্য দেন।
বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশি রেইড: সময় তখন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিট। নয়াপল্টনে বাইরে তখন সুনসান নীরবতা। কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ বিএনপি ও অঙ্গদলের শ’ শ’ নেতাকর্মী। এ সময় পরপর দু’টি পুলিশ ভ্যান এসে থামে বিএনপি কার্যালয়ের গেটে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ কার্যালয়ের মূল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তখন দলীয় কার্যালয়ের তেতলায় নিজের দপ্তরে ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করে কার্যালয় থেকে বের করে আনে পুলিশ। প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্র হত্যা করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছি। তারপরও আমাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ এ সময় তিনি পুলিশের কাছে জানতে চান, কার নির্দেশে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা সরকারের অন্যায় আচরণ। আমাদের আন্দোলন চলবে। কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেই প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে তাকে কার্যালয়ে ভেতরে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু ৫ মিনিট পর ফের তাকে গ্রেপ্তার করে নামিয়ে আনে পুলিশ। দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা পুলিশের প্রিজন ভ্যানে ফখরুলকে তুলে নেয়ার সময় বেশ কিছুণ টানাহেঁচড়াও চলে। প্রথম দফায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পেছনে পেছনে রিজভী আহমেদসহ একে একে বিএনপি ও অঙ্গদলের ৫১জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কার্যালয় থেকে নামিয়ে আনে পুলিশ। ততক্ষণে আরও চারটি প্রিজন ভ্যান আসে কার্যালয়ের সামনে। প্রথমে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দপ্তর সম্পাদক রিজভী আহমেদকে আটকের পর কার্যালয়ের প্রতিটি স্থানে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনিসহ ৩৩জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের অনেকের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল তখনও। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সময় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি ট্রাংক ও দু’টি ব্যাগ বের করে আনতে দেখা গেছে পুলিশকে। সন্ধ্যা সাতটায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তরের বাথরুমের দরজা থেকে দু’টি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পরই সেখানে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজেবল টিম এসে সেগুলো বাইরে বের করে নেয়। সাংবাদিকদের সামনে পুলিশ দু’টি হাতবোমা উদ্ধার করলেও পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ৬টি হাতবোমা উদ্ধারের দাবি করা হয়। পরে বাথরুম থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত যখন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন কক্ষের দরজা ভেঙে পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলার বেশ কয়েকটি কক্ষের দরজা ভাঙা হয়। তখনও তৃতীয় তলায় মহাসচিবের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা। সময় তখন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট। পুলিশ হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে ভেঙে ফেলে মহাসচিবের কক্ষ। সেখান থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকসহ দলের ৫৪জন নেতাকর্মীকে। কার্যালয় থেকে বের করার পথে সাদেক হোসেন খোকা সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাসে প্রতিবাদী জনগণের ওপর গণহত্যা ও বিরোধীদল নিপীড়নের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননা করেছে সরকার। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই ১৯৭১ সালের একজন রাজাকার। তিনি বলেন, সরকারের এ অন্যায় আচরণ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। বিরোধী দলের আন্দোলন আরও কঠোর হবে। অতীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণকে নিয়ে রাজনীতির অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বিএনপি। ভবিষ্যতেও তার নেতৃত্বে জনগণের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে গ্রেপ্তার করে দলীয় কার্যালয়ে থেকে বের করার পথে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও আমানউল্লাহ আমানকে পেছন থেকে বারবার লাথি-ঘুষি মারে পুলিশ সদস্যরা। রাত পৌনে আটটায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও বিরোধীদলীয় এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, মহিলা দল ও ছাত্রদলের অন্তত শতাধিক নারী নেতাকর্মীকে বের করে দেয় পুলিশ। রাত আটটা ২০মিনিটে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন পুলিশের মতিঝিলের বিভাগের ডিসি শেখ নাজমুল আলম। অভিযান শেষে পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ের চাবিসহ জিনিসপত্রের দায়িত্ব কেয়ারটেকার রুস্তম আলীর কাছে বুঝিয়ে দেন। তবে তল্লাশি, ভাঙচুরের কারণে পুলিশি অভিযানের পর বিধ্বস্ত রূপ নিয়েছে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
১৮-১৯ মার্চ হরতাল, কাউন্সিল স্থগিত: আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তি ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়া মালামাল ফেরত না দিলে ১৮ ও ১৯শে মার্চ হরতাল পালন করবে বিএনপি। সন্ধ্যায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের ঘটনায় রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি ও পরে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপি’র আসন্ন কাউন্সিলও স্থগিত ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, সরকার বিএনপি অফিসে বোমার নাটক সাজিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের প্রহসনের মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে হামলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার বৈধ করা যাবে না। এই গণবিচ্ছিন্ন, ফ্যাসিস্ট সরকার চিরকাল মতায় টিকে থাকতে চায়। কিন্তু জুলুম, নিপীড়ন, হামলা-মামলায় জনগণের আন্দোলন থামানো যাবে না। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের বৃহস্পতিবারের মুক্তি না দিলে ১৮ও ১৯শে মার্চ হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনায় দলের কাউন্সিলও স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জরুরি তলবে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক করে। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও ড. আবদুল মঈন খান উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়েই ১৮ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ বৈঠকে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, কল্যাণ পার্টির সভাপতি মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক ও শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দলীয় কার্যালয়ে অভিযান ও নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, প্রধান বিরোধী দলের কার্যালয়ে এই অভিযান ছিল ‘বেআইনি ও ন্যক্কারজনক’। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর কার্যালয়ে পুলিশের এই ধরনের অভিযান এটাই প্রথম। কোন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এর আগে ১৯৭৪ সালে জাসদের কার্যালয়ে এই ধরনের অভিযান হয়। দলীয় কার্যালয়ে অভিযানে ুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, একটি বৃহত্তম দলের কার্যালয়ে পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে প্রবেশ করে যে ন্যক্কারজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছে, তা নজিরবিহীন। কোন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পুলিশ এভাবে প্রবেশ করতে পারে না। এটা বেআইনি অনুপ্রবেশ। নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে ১০টি বোমা পাওয়ার ব্যাপারে পুলিশের দাবিকে নাকচ করে তিনি বলেন, বোমা উদ্ধারের ঘটনাটি সাজানো।
এ ধরনের তাণ্ডব নজিরবিহীন- জামায়াত: বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানকে নজিরবিহীন তাণ্ডব বলে মন্তব্য করেছে জামায়াত। দলের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ গতকাল এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের হামলা, ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করার নিন্দা জানাবার ভাষা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, পুলিশ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। এমনকি বিএনপির অফিসে ঢুকে পুলিশ আসবাবপত্র তছনছ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে। একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে পুলিশের এহেন নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে তারা বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে রাজি নয়। তারা দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চায় এবং বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তবে দেশের জনগণ তাদের এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেবে না। তিনি বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় এসেই দেশ থেকে  বিরোধী দলের মূলোৎপাটনের জন্য উঠেপড়ে লাগে। তারা প্রায় ২০ মাস ধরে জাময়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরী কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। জামায়াতের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দীর্ঘ ৩৪ মাস কারারুদ্ধ করে রেখেছে। একইভাবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অফিসে প্রবেশ করে পুলিশ যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা নজিরবিহীন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের পর তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। সরকার দেশে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েমের লক্ষ্যে এ তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, গণহত্যা, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন ও গণগ্রেপ্তার চালিয়ে জনগণের আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি ১৮দলীয় জোট ঘোষিত আজকের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
হরতাল ডাকতেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে- পুলিশ: ১৮ দলের সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান বলেছেন, হরতাল ডাকতেই ১৮দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা নিজেদের সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তারা দলীয় কার্যালয়ে ককটেল মজুত করেছে। গতকাল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গ্রেপ্তার অভিযান চলাকালে রাত ৮টার দিকে তিনি বলেন, পুলিশকে হত্যার উদ্দেশে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দোকানপাট ভাঙচুরের মাধ্যমে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করে। বিএনপি অফিসের ছাদে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ফাঁকা গুলি চালায়। রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। তিনি বলেন, ১৮দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা ফৌজদারি অপরাধ করে দলীয় কার্যালয়ে পলায়ন করেন। পরে পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নেতা-কর্মীদের আইনের আওতায় আনে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্টি অফিসের যেসব রুমে কেন্দ্রীয় নেতারা লুকিয়েছিলেন সে সব রুম ২-৩ ঘণ্টা নক করার পরও খোলা হচ্ছিল না। এক পর্যায়ে পুলিশ রুমের দরজা ভেঙে তাদের আইনের আওতায় আনে।
ককটেল উদ্ধার: বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় থেকে ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো বালতিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ২টি ককটেল চোখে পড়ে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বিএনপি অফিসের দোতলা থেকে ৪টি এবং চারতলা থেকে ২টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুরান ঢাকায় দুই গাড়িতে আগুন: হরতাল ঘোষণার পর গতকাল বিকালে রাজধানীর পুরান ঢাকায় দুটি যানবাহনে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থনকারীরা। পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন রায় সাহেব বাজার ও নয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রায় সাহেব বাজার এলাকায় বাহাদুর শাহ পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী লেগুনায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে। এর আগে বিকাল পাঁচটায় নয়াবাজার এলাকায়  ১৮ দলের কর্মীরা হরতালের প েসে্লাগান দিয়ে একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পিকেটাররা পালিয়ে যায়। কোতোয়ালি থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পিকেটাররা দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের তৎপরতায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে শিবিরের ভাঙচুর: রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে গতকাল বিকালে আচমকা মিছিল করে দোকান ও যানবাহনে ভাঙচুর চালায় শিবির কর্মীরা। তারা কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস ও মুন্নু সিরামিক সহ কয়েকটি  দোকানে ভাঙচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকাল ৫টায় বেশ কয়েকজন শিবির কর্মী হাতিরপুল এলাকা  থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন।  মিছিল থেকেই হঠাৎ তারা বাস ও  দোকানপাটে হামলা শুরু করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর  থেকে কাঁটাবন মসজিদের আশপাশ, বাটা সিগন্যাল ও শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা জোরদার করে।
ককটেল বিস্ফোরণে রিকশাচালক আহত: নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে পুলিশি  অ্যাকশনের পরপরই ওই এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলে আহত হন রিকশাচালক বাদশা মিয়া। আহত বাদশা মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিলেটে গাড়িতে আগুন ককটেল বিস্ফোরণ: সিলেটে সিটি করপোরেশনের গাড়িসহ তিনটি যানবাহনে আগুন দেয়া হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে ছাত্রদল কর্মীরা এসব গাড়িতে আগুন দেয় বলে প্রত্যদর্শীরা জানিয়েছেন। এ সময় প্রায় ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর আগে নগরীর জিন্দাবাজার ও লামাবাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। জিন্দাবাজার এলাকায় অন্তত ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে নগরীতে আতঙ্ক দেখা দেয়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। নগরীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ফারুককে গ্রেপ্তারে প্রতিবাদে সেনবাগ অচল: বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুককে গ্রেপ্তারের খবর তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর সেনবাগে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীরা বিুব্ধ হয়ে উঠেন। বিুব্ধ নেতাকর্মীরা সেনবাগ উপজেলা সদর, নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট ও ছমির মুন্সিরহাটসহ প্রভৃতিস্থানে বিােভে করতে থাকেন। ুব্ধ নেতাকর্মীরা সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলার ছমির মুন্সিরহাট এলাকায় মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে রাস্তার দু’দিকে বেশ কিছু গাড়ি আটকা পড়ে। এসময় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গতরাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে অবরোধ থাকায় সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রত্যদর্শীরা জানায়, গতকাল সন্ধ্যার পর সেনবাগ উপজেলা সদর, সেবারহাট ও ছমির মুন্সিরহাট এলাকায় বিুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা বিােভে ফেটে পড়ে। মিছিলের পরই বাজারগুলোর দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সেবারহাট এলকায় বিএনপির মিছিলের সময় ৯-১০টি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গত রাতে সেনবাগ থানার ওসি এমরান আলী বলেন, সেনবাগ উপজেলা সদর ও সেবারহাট এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। ছমিরমুন্সিরহাট এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অবরোধ তুলে নেওয়া চেষ্টা চলছে। কেউ গ্রেপ্তার বা আটক হয়নি।
সাভারে যানবাহন ভাঙচুর: সাভারে হরতালে সমর্থনে পিকেটাররা বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করেছে। আতঙ্কে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কমতে শুরু করেছে। গতকাল রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের রাজফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের নিকটে পিকেটাররা এ ভাংচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ২০-২৫ জন যুবক লাঠিসোটা হাতে আচমকা মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের উপর হামলা চালায়। তারা লাঠিসোঠা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে জনসেবা, লাক্সারী পরিবহনসহ ১০-১২টি যানবাহন ভাঙচুর করেছে। সাভার মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিএনপির পিকেটাররা এ ভাঙচুর করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাতেই বিজিবি মোতায়েন: বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে। ঢাকার বাইরে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে। গতকাল রাত ৮টার দিকে রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে ২০ প্লাটুন বিজিবি নামানো হয়। আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েন থাকলেও হরতালে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজারসহ আরও কয়েকটি জেলায় বিজিবি প্রস্তুত থাকবে। হরতালে ঐসব এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনার অথবা জেলা প্রশাসকের সুপারিশ অনুযায়ী বিজিবি মাঠে নামানো হবে।
বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান ও নেতাদের গ্রেপ্তারে জামায়াতের প্রতিবাদ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে পুলিশের ভাঙচুরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে তাদের মুক্তি দাবি করেছে দলটি। সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর  মকবুল আহমাদ এ প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, পুলিশ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে সরকার আবারও প্রমাণ করেছে তারা বাকশাল কায়েম করতে চায়। তিনি অবিলম্বে নিপীড়ন বন্ধ করে গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের  মুক্তির দাবি জানিয়ে আজকের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি সফল করে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
ফেনীতে ৩০ গাড়ি ভাঙচুর: এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের খবরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেনীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফাজিলপুর ইউনিয়নের আলীনগর এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৫-২০টি ও মাইজদি সড়কে ৮-১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিুব্ধ কর্মীরা। এ সময় প্রায় আধঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফেনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জিল্লুর রহিম জানান, গাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পিকেটাররা পালিয়ে যায়। পরে রাত ৯টার দিকে দাগনভূঁইয়ার ফেনী-মাইজদি সড়কের তুলাতলি নামক স্থানে হামলা চালিয়ে সেখানেও ৮-১০ গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট হরতাল ঘোষণার পর থেকেই হরতাল সমর্থকরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর বাহাদুরশাহ পার্ক, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ি, রামপুরা, মিরপুর-১ এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় অন্তত ৬টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। ওদিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি এলাকায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং নগরীর আগ্রাবাদ, অলংকার মোড়, একে খান গেইট ও খুলশীর আকবর শাহ কলোনিতে বাস ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থনকারীরা। ওদিকে রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বিরোধী কর্মীরা। ওই সময় সুপরা গোরস্থান মোড়ের স-মিলের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াপদা মোড়ের দিকে আসার পথে রাজশাহী রা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খানের ওপর ককটেল নিপে করে দুর্বৃত্তরা। এতে তিনি আহত হন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট